হুমকি স্বরূপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম – বাঁচার উপায়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমাদের পারিপার্শ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক বড় একটি পরিবর্তন এসেছে। সেসব কারণ আপনার চোখের নাগালেই। যেমন আমরা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত যেকোনো তথ্য হাতের মুঠোয় পাচ্ছি। দেশ অথবা দেশের বাইরে যেকোন মানুষের সাথে খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছি। এবং সেসব অন্যদের সাথে সরাসরি ভাগাভাগি ও করতে পারছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেনা বর্তমানে এমন কাউকে খুজে পাওয়া মুশকিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার যেমন অনেক অনেক উপকারিতা রয়েছে তেমনি এগুলো ব্যবহার করা কিছুটা হুমকি স্বরূপ ও। আর আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে আলোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কি হুমকিস্বরূপ। তা জানার পূর্বে অনেকেই রয়েছেন যারা জানেনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কী এবং সে সম্পর্কে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লেখাটিই পড়লেই বোঝা যায় যে এটি একটি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভার্চুয়াল কমিউনিটি তৈরি করে এবং ছবি, ভিডিও, টেক্সট ও বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করে থাকে।

যা অনেক মানুষ দেখতে পারে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন আরেকজনের সাথে বার্তা আদান প্রদান করা, অডিও কল ও ভিডিও কলে কথাও বলে থাকে।

বর্তমানে জনপ্রিয় ১০ টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

বর্তমানে অনেক ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বের হয়েছে। যা মনে রাখো এখন কষ্টসাধ্য। তবে মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহার করে থাকে। জনপ্রিয় ১০ টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছেঃ

  • ফেসবুক (Facebook)
  • টুইটার (Twitter)
  • ইনস্টাগ্রম (Instagram)
  • লিংকডইন (Linkedin)
  • স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat)
  • কোরা (Quora)
  • রেডডিট (Reddit)
  • পিন্টারেস্ট (Pinterest)
  • ইউটিউব (Youtube)

এগুলোর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। তাছাড়া ফেসবুকের পাশাপাশি অন্যান্য সব গুলো অনেক জনপ্রিয়। প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া একেকটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি হুমকি স্বরূপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভাগাভাগি এর ব্যবস্থা কিভাবে হচ্ছে তা অনেকেই চোখে দেখতে পাই না। এসব তথ্য সরবরাহ প্রবাহের পিছনে অ্যালগোরিদমের ভূমিকা অনেক বেশি। যা অনেক মানুষই বুঝতে পারেনা। আমরা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে থাকি আমরা সেখানে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকি, যার ফলে আমাদের সকল তথ্যগুলো তাদের সার্ভারে জমা থাকে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সাথে সমন্বিত আচরণগত প্রভাব লক্ষণীয় এবং এ সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার জ্ঞানের অভাব রয়েছে যা বিপদজনক হতে পারে গণতন্ত্র এবং বিজ্ঞান বিষয়ক উন্নতির জন্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যে সমাজবিজ্ঞানী মানবাধিকার কল মি এবং সাংবাদিকরা গণতন্ত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক এর উপর প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু দেখা যায় জীববিজ্ঞানে কিংবা ইকোলজিস্ট যারা এ নিয়ে তেমন উৎসাহ প্রকাশ করেননি।

স্টুয়ার্ডশিপ অব গ্লোবাল কালেকটিভ বিহেভার নামক এক শীর্ষক গবেষণা পত্রে দেখা যায় সমাজে প্রযুক্তির বৃহত্তম প্রভাবকে ক্রাইসিস ডিসিপ্লিন হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন বিভিন্ন প্রজাতির রক্ষায় জীববিজ্ঞানীরা যেভাবে এক হয় কাজ করেন ঠিক তেমনি ক্রাইসিস ডিসিপ্লিনে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞানীরা একসাথে হয়ে কোন সমস্যার সমাধান দেন জরুরী ভিত্তিতে।

নতুন প্রযুক্তির সমন্বিত আচরণগত প্রভাব গণতন্ত্র ও বিজ্ঞান বিষয়ক উন্নতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে যেমন। করোনা কালীন সময়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া তথ্যে প্রসার রোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আর এ কারণেই ভ্যাকসিন এবং মাক্স ব্যবহারে সর্বজন গ্রাহ্য করে তোলা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

গবেষকরা এ নিয়ে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছেন। তারা বলেছেন এ ধরনের বিষয়গুলো যদি অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে এবং অজানা থেকে থাকে তাহলে পরবর্তীতে হয়তো নতুন প্রযুক্তির কালো দিক দেখতে হবে আমাদের।

কেনো এত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো

প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার ফ্রি অর্থাৎ সকলের জন্যই উন্মুক্ত। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোন ব্যক্তি তার মতামত, তথ্য, ছবি, ভিডিও সকলের সাথে শেয়ার ও বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে। আর এগুলো প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগের মাদ্যমের মধ্যেই রয়েছে, যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রান বলতে গেলে। আর এটি একটি প্রধান কারন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের।

তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পৃথীবির যেকোন প্রান্তের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা যায়, যোগাযোগ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কমিউনিটি গ্রুপ তৈরি করে সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে। যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। আর এগুলাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনপ্রিয়তার আরেকটি কারন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমানে নানা রকমের পন্য কেনা-বেচা হয়। অর্থাৎ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেকোন পন্য প্রমোশনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে, কারন অনেকে তাদের পন্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে প্রমোট করে থাকে। যাদের ভিবিন্ন রকম পন্য রয়েছে কিন্তু দোকান নেই বা দোকানে পন্য আছে তারা ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে তাদের পন্য গুলো বিক্রি করছে। যার ফলে বিভিন্ন দোকানির কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনপ্রিয়।

বর্তমানে বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই লাইভ করার সিস্টেম রয়েছে। তাই যেকোন ব্যক্তি হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন জিনিস ও বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার জন্য যেকোন সময় লাইভ করতে পারে। বা তার পছন্দমতো যেকোন মূহুর্ত লাইভ করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

এরকম অনেক কারনেই বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনপ্রিয়। আর এগুলোর মধ্যে ফেসবুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

আর বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইউটিউবের মতো ভিডিও কনটেন্ট দেওয়া যায় ও দেখা যায়, যার ফলে ইউটিউবের মতো টাকা উপার্জন করা যায়। তাছাড়া মানুষের পছন্দের গেমগুলো লাইভ স্ট্রিম করে তাদের ভালোবাসা পাওয়া যায় ও তাদের সাথে কানেক্টেড থাকা যায়। যা বর্তমানে কিশোর-কিশোরীরা পছন্দ করে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অসুবিধাগুলো কি

অনেক সময় মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে থাকে। যেগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

মিডিয়ায় অনেক ফেক বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার মাধ্যমে অনেক সময় বিভিন্ন হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়।

বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম ফেসবুকের প্রতি আসক্ত এবং এটিই নেতিবাচক ব্যবহারের ফলে তাদের অনেক বড় ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনৈতিক, অসামাজিক, সেক্সুয়াল কনটেন্ট গুলো ভাইরাল হয়ে থাকে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে তেমনি অনেক অসুবিধায় রয়েছ। আমরা জানি প্রতিটা জিনিসের সুবিধা-অসুবিধা উভয় দিক থাকে। তবে আপনাকে অবশ্যই ভালো দিকটা বেছে নিতে হবে এবং খারাপ দিক গুলো এড়িয়ে যেতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কিভাবে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে

দিন দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যমে অপরাধ প্রবনতা বাড়ছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ এবং যার বেশিরভাগ শিকার হচ্ছে নারীরা। তাছাড়া অনেক মানুষ এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে প্রতারনার শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নারীদের নগ্ন ছবি ও অশ্লীল ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হয়, যা নিমেশেই ভাইরাল হয়ে যায় সকলের মাঝে।

তাছাড়া অনেক জঙ্গীরা জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যার ফলে অনেক মানুষের মধ্যে আরজকতা বিরাজ করে। তাছাড়া মেরে ফেলার হুমকিসহ দেওয়া হয়।

তাছাড়া অনেক অপরাধীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যেখানে তারা বিভিন্ন প্লান সহ মানুষকে বুদ্ধি করে ডেকে নিয়ে নানা প্রকার অপরাধ করছে।

তরুণ প্রজন্মের কিরূপ ক্ষতি সাধন হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে

প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো ও খারাপ উভয় দিক থাকে। তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরও ভালো ও খারাপ উভয় দিকই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকে উপকারের পাশাপাশি নানা রকম ক্ষতি সাধনও হচ্ছে।

যার অনেকটা প্রভাব তরুন প্রজন্মের উপর পড়ছে। এমনিতেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর আসক্তি থাকে। তার ওপর আবার ১৮+ ভিডিওগুলো সচরাচর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখা যায়। যেগুলো দেখছে তরুন প্রজন্মের অনেকেই।

যার ফলে তাদের মধ্যে অনেক আক্ষেপের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় ধর্ষন জাতীয় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

একজন তরুন-তরুনী তাদের বেশিরভাগ সময় ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করার মাধ্যমে পার করে ও সস্তা বিনোদন লুফে নিচ্ছে। এতে তারা তাদের মস্তিষ্ক ব্যবহার না করেই এগুলো করে যাচ্ছে, যার ফলে তাদের মাঝে সৃজনশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে না। অথচ তারাই কিন্তু আগামী দিনের ভবিষ্যত।

এগুলো ছাড়াও এমন অনেক ক্ষতি তরুন প্রজন্ম সহ সকলের মধ্যেই হচ্ছে। তারা এভাবে যদি তাদের সময় অপচয় করে তাহলে তারা অন্যদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়বে।

Share your love
Salman Shemul☑️
Salman Shemul☑️
Articles: 20