চলে আসতেছে আপনার-আমার জনপ্রিয় উইন্ডোজ ভার্সন এর সর্বশেষ সংস্করণ উইন্ডোজ ১১

উইন্ডোজ-১১

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৪জুন ২০২১ তারিখে উদ্বোধন করা হবে নতুন এই ‘উইন্ডোজ ১১’

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু কম্পিউটার ব্যবহারকারী উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। কারন এটি ব্যাবহার করার সহজ এবং এর মধ্যে অন্যান্য ফাংশনালিটি সহ চমৎকারভাবে ধরনের গেমস সাপোর্ট করে। বর্তমানে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের থেকে উইন্ডোজ এর গতি এবং সিকিউরিটি সিস্টেম অনেক ভালো। তাই অনেকেই উইন্ডোজের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

উইন্ডোজ ৮ এরপরে যখন উইন্ডোজ ১০ রিলিজ করা হলো এটা কে সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল সকলের জন্য। এবং সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম টা অনলাইন বেইজ হয়েছিল। এবং আমরা সাধারণ গ্রাহকরা মনে করেছিলাম যে উইন্ডোজ টেন এর পর আর কোন উইন্ডোজ বাজারে আসবে না। কিন্তু এবার সব জল্পনা-কল্পনার ভেঙে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ টেন এর থেকে আরো ভালো পারফরম্যান্সের অধিকারী করে উইন্ডোজ এলিভেন কে বাজারে নিয়ে আসছে যাচ্ছে।

তবে দুঃখের একটি ব্যাপার রয়েছে এখানে। মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়েছে যে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে উইন্ডোজ 10 বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ওই সময়ের পরে ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ ১১ তে মুভ করতে পারবেন। অথবা উইন্ডোজ 10 আপডেট গুলো তখনও আসতে থাকবে বলে তারা জানিয়েছে।

মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা জানিয়েছে যে গত দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যে পরবর্তী প্রজন্মের উইন্ডোজ আপডেট।

আপনারা অনেকেই দেখেছেন যে মে মাসের আপডেট অনেক সমস্যা দেখা গিয়েছিল। দেখা গেছে যে আপডেট দেওয়ার পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার কম্পিউটার থেকে উধাও হয়ে গেল। গুরুত্বপূর্ণ যে ফিচারটি ব্যবহার করে অনেকদিন যাবত ধরে অনুরোধ করে আসছিল সেটি হল ফ্রেশ স্টার্ট।

ফ্রেশ স্টার্ট হল আপনার কম্পিউটার যখন অনেক মারাত্মক সমস্যা দেখা দিবে তখন যদি আপনি চান যে আপনার কম্পিউটারের কোন ডাটা না হারিয়ে– আবার উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল দিবেন তখন ফ্রেশ স্টার্ট এর মাধ্যমে এই কাজটি করা সম্ভব।

তাছাড়া অন্যান্য অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে উইন্ডোজ টেন বর্তমানের দিন পার করতেছে। কিন্তু আমি এরকম ধরনের কোন সমস্যা এখনো পাইনি। হতে পারে আমি এডভান্স লেভেলের কোন ইউজার না তাই হয়তো আমি সাধারন চোখে কোন সমস্যা ধরতে পারছিনা কিন্তু ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এবং রোজ ব্যবহার করে নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং মাইক্রোসফটকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসতেছে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য। আর তাই মাইক্রোসফ্ট এবার হয়তো পরবর্তী প্রজন্মের উইন্ডোজ টেন নিয়ে আসতে যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে। তবে উইন্ডোজ 11 ফিচারগুলো কী হবে তা নিয়ে এখনও জল্পনা-কল্পনা রয়েছে তবে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে যে সকল তথ্য আমরা হাতে পেয়েছি তা নিচে কিছু দেওয়া হল। 

কি থাকছে উইন্ডোজের নতুন ভার্সনে? এটা কি ব্যবহারকারীদের মন রক্ষা করতে পারবে? উইন্ডোজ-এর অতীত ভার্সনগুলোর মধ্যে ‘উইন্ডোজ-৮’ ভার্সনের নানা রকম সমস্যার কারণে মাইক্রোসফটকে পড়তে হয়েছিল ব্যপক সমালোচনা ও তোপের মুখে। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ে অভিষেক হয়েছিল উইন্ডোজ-১০ এর। এবং উইন্ডোজ-৮ ব্যবহারকারীদেরকে বিনা পয়সায় উইন্ডোজ-১০ আপডেট করে দেওয়া হয়েছিলো এবং বলা হয়েছিল উইন্ডোজ-১০ ই হবে হয়তো  উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের শেষ ভার্সন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও মাইক্রোসফট রাখতে পারলো না কারণ উইন্ডোজ-১০ এও রয়েছে বেশ কিছু বাগ, তাই সব ভুলভ্রান্তি দুর করে নতুন করে একটি আধুনিক মাপের অপারেটিং সিস্টেমের সূচনা করতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন। 

কী থাকছে উইন্ডোজ-১১ তে?

উইন্ডোজ-১১ এর মূল চমক হচ্ছে এর ‘মাইক্রোসফট স্টোর’। উইন্ডোজ-৮ ও উইন্ডোজ-১০ স্বল্প পরিসরে ‘মাইক্রোসফট স্টোর’ থাকলেও নতুন এই ভার্সনের জন্য মাইক্রোসফট স্টোরকে ডিজাইন করা হয়েছে নতুনভাবে। উইন্ডোজ এর বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার থাকবে এই ‘মাইক্রোসফট স্টোর’-এ এবং এখান থেকেই ইন্টস্টল করতে হবে সবকিছু। তবে  নতুন এই ‘মাইক্রোসফট স্টোর’এ বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে ডেভেলপারদের জন্য। এই স্টোরে ডেভেলপাররা তাদের ডেভেলপ করা অ্যাপ্লিকেশন আপলোড করে রাখতে পারবেন এবং ব্যবহারকারীরা ফ্রি কিংবা টাকার বিনীময়ে সেসব অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি ‘মাইক্রোসফট স্টোর’থেকে ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে পারবেন, ঠিক যেমনটি গুগল প্লে-স্টোর এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। 

ইউজার ইন্টারফেস কিংবা লুক-এন্ড-ফিল এর বেলাতেও বেশ আকর্ষণীয় করা হয়েছে। বিভিন্ন আইকনগুলিতে চারকোনাচের পরিবর্তে করা হয়েছে কিছুটা গোলাকৃতির। সিকিউরিটি ফিচারেও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই ভার্সনে। তবে চলমান উইন্ডোজ ১০ কে এই নতুন এই উইন্ডোজ ১১ ভার্সনে আপডেট সুবিধা নাও থাকতে পারে অর্থ্যাৎ এই ভার্সনটি নতুন করে কিনে নিতে হবে। 

সব মিলিয়ে চমক দেখার অপেক্ষায় থাকুন আগামী ২৪জুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *