ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ভালো দিক খারাপ দিক

ক্রাক সফটওয়্যার এত বেশি ব্যবহারের প্রধান কারন হচ্ছে ক্রাক সফটওয়্যার কোন প্রকার টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয় না। অর্থাৎ কোন প্রকার টাকা ছাড়াই যেখানে হাজার হাজার টাকা দামের সফটওয়্যার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারছেন, তাহলে চিন্তা করুন ক্রাক সফটওয়ারের বেশি ব্যবহার হবে না কেন!!

অনেকে আবার রয়েছে যারা ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করে অথচ জানেনা ক্রাক সফটওয়্যার কি এবং সে নিজেও ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করছে সেটাও হয়তো জানেনা। তাই বলা যায় আমাদের মধ্যেই কমবেশি অনেক মানুষ রয়েছে যারা মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে প্রতিনিয়ত ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করেই যাচ্ছে। ক্রাক সফটওয়্যার মূলত কি এবং ক্রাক সফটওয়ারের এত বেশি ব্যবহার এর পেছনের কারণ বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

ক্রাক সফওয়্যার কি

ক্রাক সফটওয়্যার বলতে বোঝায় যেখানে কোন কোম্পানির বিভিন্ন প্রকার প্রো ভার্শন বা প্রিমিয়াম সফটওয়্যার কিছু সফটয়্যার ডেভেলপাররা মডিফাই করে বিভিন্ন কোডিং এর সাহায্যে সেই অ্যাপকে ফ্রিতে সকলের ব্যবহারযোগ্য করে তোলে। অর্থাৎ সহজ ভাষায় কোন প্রেমিয়াম ভার্শন এর সফটওয়্যার কে ক্রাক করা হলে সকলে ক্রাক করার কারনে সেই প্রিমিয়াম সফওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারে।

যেমন ধরুন মাইক্রোসফট কোম্পানির Windows 10 বা মাইক্রোসফটের আরো বিভিন্ন প্রিমিয়াম অ্যাপ (ফটোশপ, প্রিমিয়ার প্রো, মাইক্রোসফট অফিশ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ইত্যাদি ছাড়া আরও প্রিমিয়াম অ্যাপ) রয়েছে যেগুলো আমাদের দেশ সহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ ব্যবহার করছে। যেখানে অরিসজিনাল Windows 10 এর দাম ২২,৯৯৯ ডলার।

কিভাবে প্রিমিয়াম সফটওয়্যার ক্রাক করা হয়?

প্রোগ্রামার বা সফটওয়্যার ডেভলপারদের নিজস্ব কিছু পন্থা রয়েছে, যে পন্থাগুলো অবলম্বন করে তারা সেই প্রিমিয়াম সফটওয়্যারগুলো ক্রাক ভার্শন বের করে থাকে। যখন কোন কোম্পানি তাদের প্রিমিয়াম সফটওয়্যার অনলাইন মার্কেটে ছাড়ে এবং সেই সফটওয়্যারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন সেই বড় বড় হ্যাকার প্রোগ্রামাররা তাদের সেই অবলম্বন করে চেষ্টা করতে থাকে সফটওয়্যারটি ক্রাক করার।

অর্থাৎ সফটওয়্যারটি ক্রাক করার জন্য কোডিং এর বিভিন্ন এডিট করে অথবা বিভিন্ন ম্যালওয়ার বা ভাইরাসের মাধ্যমে সেটিকে ক্রাক করে ফ্রি সফটওয়্যার তৈরি করে। এরপর সেগুলো বিক্রি করে দেয় কিংবা তাদের সুবিধা লাভের জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ছেড়ে দেয়। যেখান থেকে হাজার হাজার মানুষ সেগুলোও ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে থাকে।

ক্রাক সফওয়্যার ব্যবহারের কারন

আমাদের দেশে ক্রাক সফটওয়্যার অনেকেই না বুঝে ব্যবহার করলেও প্রধানত ২টি কারন খুব সহজে উল্লেখ করাই যায়। যার ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে ক্রাক সফটওয়্যার অনেক বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।

মোবাইল কিংবা কম্পিউটার উভয় ডিভাইসেই মানুষ ক্রাক সফটওয়্যার বর্তমানে বেশি ব্যবহার করে থাকে। কারণ কম্পিউটারের পাশাপাশি বর্তমানে মোবাইলেও অনেক প্রিমিয়াম সফটওয়্যার বের হয়েছে। ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের পেছনে ২টি প্রধান কারন হচ্ছেঃ

  • ক্রয় ক্ষমতার অভাব
  • অপরাধ বোধ কম

ক্রয় ক্ষমতার অভাব

ধরুন আপনি আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোস অপারেটিং ব্যবহার করেন। এখন দেখুন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বানায় মাইক্রোসফট। তারা তাদের এক একটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য এক এক রকমের দাম নির্ধারন করে দিয়েছে।

বাংলাদেশে অরিজিনাল উইন্ডোজ ১০ প্রো এর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। এখন একবার চিন্তা করেন ফ্রিতে এটি ব্যাবহার করা গেলে আমরা কেউ ক্রয় করবো? আমাদের আশেপাশে কত্ত মানুষ এই সিস্টেম ফ্রিতে ব্যবহার করতেছে।

তাহলে আপনি কেনো শুধু শুধু এতগুলো টাকা খরচ করে এটি কিনতে যাবেন। তাই নয় কি? আর আমাদের মধ্যবিত্ত দেশ হিসেবে অনেকের কাছেই প্রর্যাপ্ত পরিমান টাকা নেই প্রিমিয়াম সফটয়্যার ক্রয় করে ব্যবহার করার। আর এজন্যই বাজারে গিয়ে ৪০-৫০ টাকা খরচা করে একটি ডিভিডি কিনি আনি। (যদিও এখন আর কেউ ডিভিডি কেনে না) সবাই এখন ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নেয়।

অপরাধ বোধ কম

আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন সফটওয়্যার পাইরেসি বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার করা একটি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আপনি বলতেই পারেন ধুর মিয়া আজাইরা কথা। কত সফটওয়্যার ব্যবহার করি এমনেই। কই কেউ তো জিগাইতেও আসলো না।

আসলে ব্যাপারটা হলো যে, এই আইন আপনার বিরুদ্ধে ততক্ষন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিবে না যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি যেই কম্পানির সফটওয়্যার পাইরেসি করেছেন তারা আপনার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়। ব্যাপারটা নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন। যদি নিতো তাহলে অবশ্যই আপনার শাস্তি হতো।

তবে আপনাকে ধরে তাদের কি লাভ? তারা সেই সকল এক্সপার্টদের খুজে থাকে যারা এর পেছনে মূল মাথা অর্থাৎ যারা এই সফটওয়্যার গুলোকে ক্রাক করে এবং ইন্টারনেটে ছাড়ে। আপনি আর আমিতো শুধু আশায় বসে থাকি কখন প্রিয় সফটওয়্যারটির ক্রাক ভার্সন ইন্টারনেটে আসবে।

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করলে কম্পিউটারের কি ক্ষতি হতে পারে

প্রত্যেকটি জিনিসের ভালো দিক এবং ক্ষতির দিক থাকে। তেমনি ক্রাক সফট্ওয়ারে কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেখানে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি সেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের কারণে কম্পিউটার হ্যাক হতে পারে, আর কম্পিউটার হ্যাক হলে কম্পিউটারের সকল তথ্য সেই ক্রাক সফটওয়্যার তৈরি করা প্রোগ্রামারের হাতে চলে যেতে পারে। এছাড়াও ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে আরো কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেমনঃ হঠাৎ করে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাওয়া, কম্পিউটারে প্রচন্ড পরিমাণ ল্যাগ দেওয়া, কম্পিউটার ব্যবহারের সময় আটকে যাওয়া, কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া, কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ করা, কম্পিউটারে অযথা ফোল্ডার বা ফাইল আসা এবং সেগুলো ডিলিট না হওয়া। এছাড়াও আরও অন্যান্য অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে।

ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করার ভালো কিছু সাইট

যদি ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় তাহলে ভালো কিছু সাইট রয়েছে যেখান থেকে সহজে যেকোনো ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই সকল ওয়েবসাইট থেকে আমি নিজেও ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করছি, যেখানে কোন প্রকার সমস্যা চোখে পড়েনি বা ক্ষতির সম্মুখীন হইনি।

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করার প্রয়োজন হলেই তাকে আপনি কয়েকটি ভালো মানের ওয়েবসাইট থেকে ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড কাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারেন, যেখানে অন্যান্য ওয়েবসাইটের তুলনায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা একদম কম।

getintopc.com

filehippo.com

filehorse.com

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ভালো দিক এবং খারাপ দিক

পূর্বেই বলেছি প্রত্যেকটা জিনিস ব্যবহারের খারাপ ও ভালো উভয় দিক রয়েছে। এমনিভাবে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ভালো ও খারাপ উভয় দিক রয়েছে। আর সেই ভালো দিকগুলোর কারণে আমরা কিছু দিক দিয়ে ক্রাক সফটওয়্যার এর কাছ থেকে উপকার পেয়ে থাকি এবং খারাপ দিক থেকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ভালো দিক এবং খারাপ দিক সম্পর্কে নিচে দেওয়া হলোঃ

ভালো দিক

  • যেকোনো ক্রাক সফটওয়্যার ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়।
  • ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে কোন প্রকার টাকা খরচ হয় না।
  • বিভিন্ন প্রিমিয়াম ভার্সন বা প্রিমিয়াম ফিচার ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
  • সফটওয়্যারের নতুন নতুন ভার্সন ক্রাক হওয়ার পর সহজেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করা সম্ভব।
  • যেকোন সময় কম্পিউটার থেকে ইনস্টল ও আনস্টল করা যায়।

খারাপ দিক

  • কম্পিউটার হ্যাক হওয়ার সভাবনা থাকে।
  • কম্পিউটার ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনেক সময় কম্পিউটার নিজে থেকে বন্ধ ও চালু হয়।
  • কম্পিউটার নিজে নিজে কাজ করতে থাকে।
  • কম্পিউটারে সেভ থাকা সকল পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার হম্ভাবনা থাকে।
  • হ্যাকাররা বা প্রোগ্রামাররা নিজের সুবিধা লাভের জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম যুক্ত করা থেকে ক্রাক সফটওয়্যারে।
  • কম্পিউটারে অযথা ফোল্ডার বা ফাইল দেখা দেয়, আর সেগুলো ডিলিটও করা যায় না।
  • আরও অন্যান্য সমস্যা বা ক্ষতির দিক দেখা দিতে হবে।

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্তকতা

এটা সত্য যে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে আমরা অনেক প্রিমিয়াম সফটওয়্যারগুলো বা সফটওয়্যারগুলোর বিভিন্ন ফিচার খুব সহজেই ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারি। তবে এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে এটাও মানতে হবে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি অনেক ধরনের বিপদের মধ্যে পড়তে পারেন।

ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করলে আপনি সেই সফটওয়্যার এর পরবর্তী নতুন ভার্সন ব্যবহার না করলে সেই সফটওয়্যার এর কোন আপডেট পাবেন না, যার ফলে আপডেটের পর যে সকল নতুন ফিচার গুলো আসে ক্রাক সফটওয়্যারগুলো আপডেট না দিতে পারার কারণে সেই ফ ফিচারগুলো ফিচারগুলো ব্যবহার করা যায় না।

তাছাড়া প্রোগ্রামাররা বা হ্যাকাররা সফটওয়্যার ক্র্যাক করার সময় নিজেদের সুবিধা লাভের জন্য অনেক সময় বিভিন্ন প্রোগ্রাম যুক্ত করে থাকে। কিংবা বলা যায় সেই ক্রাক সফটওয়্যারগুলোতে বিভিন্ন ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার দিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে সেই প্রোগ্রাম, ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের কারণে যে কোন সময় আপনার কম্পিউটার হ্যাক হতে পারে।

আর আপনার কম্পিউটার হ্যাক হলে কম্পিউটারের সকল তথ্য সেই প্রোগ্রামার বা হ্যাকারের হাতে চলে যাবে। তাই মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেখান থেকে যেখান থেকে ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করা যাবে না।

যদি কোন প্রকার ট্রাস্টেড ওয়েবসাইট থেকে থাকে যেখান থেকে আপনি পূর্বে ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যাবহার করেছেন এবং কোন সমস্যার মুখোমুখি হননি, তাহলে আপনি সেখান থেকে ক্রাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। তবুও বার বার বলবো ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে।

Share your love
Salim Sikder
Salim Sikder

বিডিপপুলার তরুন প্রজন্মের বিশ্বস্ত একটি নাম। বিডিপপুলারে আমরা চেষ্টা করি যেনো ভালো কিছু আপনি পান। বিডিপপুলারের সাথেই থাকুন।

Articles: 10