গুগলের রিক্যাপচা – আপনি মানুষ নাকি রোবট

বর্তমানে গুগল ব্যবহার করার সময় অবশ্যই আপনি গুগল ক্যাপচার দেখে থাকবেন। আর এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে যে গুগল ব্যবহার করা না বা গুগলে ক্যাপচা দেখেনি। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত গুগলের সকল সার্ভিস গুলো ব্যবহার করে থাকি এবং সেগুলো বেশিরভাগই বিনামূল্যে ব্যবহার করি।

এখন অনেক সময় দেখা যায় গুগল আমাদের সাথে প্রেমিকার মত আচরণ করে থাকে। আবার হঠাৎ করে আচরণ পাল্টে ফেলে। আর আজকে গুগলের এই ক্যাপচা সম্পর্কেই বিস্তারিত জানবো, যেনো এই ক্যাপচার বিষয়ে কোন কিছু অজানা না থাকে।

গুগল রি-ক্যাপচা বা ক্যাপচা কি

বলতো গুগল ক্যাপচা বা যেকোনো ক্যাপচা (CAPTCHA) হচ্ছে একটি ভেরিফিকেশন সিস্টেম। আর ক্যাপচা (CAPTCHA) এর পুরো শব্দ হচ্ছে Completely Automated Public Turing test to tell Computers and Human Apart।

অর্থাৎ গুগলের এই ক্যাপচা সিস্টেমের মাধ্যমে ভেরিফাই করা হয় আপনি মানুষ নাকি রোবট। যদি সহজ ভাষায় বলতে যাই তাহলে, গুগল ক্যাপচা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা মানুষ ও রোবটের মাঝে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

গুগলের এই ক্যাপচার মাধ্যমে ভেরিফাই করা হয় স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়ে যিনি গুগল ব্যবহার করছেন তিনি আসলেই মানুষ নাকি রোবট। তবে এটি শুধু শুধু আবিষ্কার করা হয়নি এর পিছনে অনেক কারণ রয়েছে যা সামনে জানবো।

ক্যাপচা কয় ধরনের ও কি কি

আমরা সাধারণত ইন্টারনেট জগতে গুগোল ব্যবহারের সময় কিংবা অন্যান্য ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় অনেক ধরনের ক্যাপচা দেখতে পাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন অনেক ওয়েব সাইটে একাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্যাপচা পূরণ করতে হয়। আর তাছাড়া স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে আবেদন বা রেজাল্ট দেখা, কোন চাকরিতে আবদনের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক ধরনের ক্যাপচা পূরণ করতে হয়। নতুন কিছু ক্যাপচার নাম দেখে নেইঃ

  • Re-Captcha
  • Picture Identification Captcha (Re-Captcha)
  • Math Solving Captcha
  • 3D Captcha
  • Ad-injected Captcha
  • Drag and Drop Captcha
  • Tic Tac Toe Captcha

আমরা অনেক জায়গায় অনেক ধরনের ক্যাপচা দেখে থাকলেও। গুগোলের রি-ক্যাপচায় আপনি Picture Identification Captcha এর সম্মুখীন হয়ে থাকবেন। যেখানে ছবির মাধ্যমে যাচাই করা হয় আপনি রোবট নাকি মানুষ।

সাধারণ গাণিতিক রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

অনেক জায়গায় এই ক্যাপচার ব্যবহার দেখা যায়। তবে আমার চোখে সবথেকে বেশি দেখেছি পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার ওয়েবসাইটগুলোতে। আর এই ক্যাপচায় খুব সাধারন গানিতিক সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়।

যেমনঃ 2+8=?, 5-2=? এমন ধরনের সহজ গানিতিক সমস্যা সমাধান করতে বলা হয় এই ক্যাপচায়। সহজ হওয়ায় এই ক্যাপচা সকলেই পূরন করতে পারে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ন যায়গা গুলোতে এই ক্যাপচার ব্যবহার লক্ষ করা যায় না।

শব্দ সম্পর্কিত রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

নাম দেখে নিশ্চই বোঝা যাচ্ছে এটি ক্যামন ক্যাপচা। কয়েকটি অক্ষর বা কয়েকটি সংখ্যা দেওয়া থাকে এই ক্যাপচায় বা ২টির সংমিশ্রনেও হতে পারে।

উল্লেখিত শব্দ বা সংখ্যার পাশে থাকা খালি বক্সে যেভাবে দেওয়া আছে ঠিক সেভাবেই লিখতে হয়। অনেক জায়গায় এই ক্যাপচা লক্ষ করা যায়। আর এটি অনেকটা নিরাপদ, কারন এই ধরনের ক্যাপচা সহজে সমাধান করতে পারে না।

সোস্যাল মিডিয়া সাইন-ইন রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

এই ব্যাপারটি বুঝতে পারলে খুব সহজ। অনেক ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় বিভিন্ন তথ্য চায়, অনেক সময় দেখবেন সেখানে ফেসবুকের বা সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

এতে করে সময় বাচানোর জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে অনেকেই। এর ফলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সেই ওয়েবসাইটে সয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পূরন হয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যায়।

সময়-ভিত্তিক রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

অনেক সময় আমরা ওয়য়েবসাইটে বিভিন্ন ফর্ম পূরন করে থাকি। এই ফর্ম পূরঙ্কেও অনেক সময় ক্যাপচা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কারন এই ভিত্তিতে খুব দ্রুত বা একদম দেরিতে পূরঙ্কৃত ফর্ম বাতিল করা হয়।

কেননা রোবট খুব দ্রুত অর্থাৎ নিমিষেই ফররম পূরন করে ফেলতে পারে। এই ধরনের ক্যাপচা ক্ষবই কার্যকর বট নিয়ন্ত্রিত Sign-in প্রসেসে।

হানিপট রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

এটি ক্যাপচা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা উন্নত। কারন এই ক্যাপচায় দেখা যায় পাশাপাশি দেখা যায় না এমন কিছু শূন্যস্থান দেওয়া থাকে। অদৃশ্যগুলো মানুষ দেখতে পায় না, যার ফলে মানুষ শুধু দেখা যায়েমন শূন্যস্থান পূরন করে।

কিন্তু মজার ব্যাপার এখানেই, কারন কোন রোবট যখন সাইটে প্রবেশ করে ক্যাপচা পূরন করতে যায় তখন দেখা যায় এমন শূন্যস্থানের পাশাপাশি দেখা যায় না এমন শূন্যস্থানও পূরন করে ফেলে। যার ফলে খুব সহজেই এই ক্যাপচার মাধ্যমে রোবট ডিটেক্ট করা যায়।

পিকচার আইডেন্টিফিকেশন রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

বর্তমানে সবথেকে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে এই পিকচার আইডেন্টিফিকেশন রিক্যাপচা। এই ক্যাপচায় বিভিন্ন ধরনের ছবি দেওয়া হয়। যেখান থেকে কিছু বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছবিগুলোকে আলাদা করতে বলা হয়। তবে এখানে লো-কোয়ালিটির ছবি প্রসর্শন করা হয়, কারন বট বা রোবটের দৃষ্টিক্ষমতা তেমন প্রখর নয়।

অনেকগুলো ছবি থেকে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ছবি বিভিন্নভাবে আলাদা করতে বলা হবে। যেমনঃ ট্রাফিক লাইট, বাইসাইকেল, কার, মোটরসাইকেল ইত্যাদি ছবি অনেকগুলো ছবি থেকে আলাদা করতে বলা হবে। আর আপনি করতে পারলেই ক্যাপচা পাশ হবেন।

নো ক্যাপচা রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

এই ক্যাপচায় : I am not a Robot” লেখার পাশেই একোটিন চেকবক্স এ ক্লিক করতে হবে। এখানে মানুষ বা রোবটের মুভমেন্ট বিবেচনা করা হয়। কারন, রোবট যখন চেকবক্স এ ক্লিক করবে তখন একদম মধ্য বরাবর করবে।

যা মানুষের খালি চোখে দেখা সম্ভব নয় বা মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। তাই ইচ্ছে করে চেক বক্সে ক্লিক করার পর ক্যাপচা পূরনে ব্যর্থ দেখায় এবং অন্য ধরনের ক্যাপচা দেওয়া হয় পূরনের জন্য।

ইনভিজিবল রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

এই ধরনের ক্যাপচা ব্যবস্থায় ইনিভিসিবল রি-ক্যাপচার একটি লগো সাইটের নিচের এক কোনায় দেখা যাবে। তবে কোন দৃশ্যমান অস্তিত্ব থাকবে না ওয়েবসাইটে ক্যাপচার। অর্থাৎ বলতে গেলে এখানে রিক্যাপচা সিস্টেম আছে কেউ বুঝতে পারবে না।

কারন কোন রিক্যাপচা দেখানো হবে না। বরং ব্যবহারকারীরা কিভাবে ওয়য়েবসাইট ব্যবহার করছে এবং কিভাবে সকল বাটনে ক্লিক করছে ইত্যাদি গতিবিধির উপর নজর বা লক্ষ্য রাখা হয়।

কনফিডেন্ট রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

এটি অনেকটাই সহজ ক্যাপচা কারন প্রায় ৯৬ শতাংশ মানুষ এই ধরনের ক্যাপচা পূরন করে ফেলে। এই ধরনের ক্যাপচা ব্যবস্থায় কয়েকটি ছবি থাকে যেখান থেকে মাত্র একটি বিষয়যুক্ত ছবিকে আলাদা করতে বলা হয়। তবে আপনি খুব দ্রুত এই ক্যাপচা পূরন করতে গেলে এই সহজ ক্যাপচা পূরনেও ব্যার্থ হতে পারেন।

সুইট রিক্যাপচার সমস্যার সমাধান

সবথেকে কম ব্যবহার হয় মনে হয় সুইট ক্যাপচা (Sweet Captcha)। মাত্র ৬৯টি ওয়য়েবসাইটে রি-ক্যাপচা ব্যবহার হয়। সুইট ক্যাপচা কিছুটা সহজ তুলনামূলকভাবে। এখানে একপাশে কয়েকটি ছবি দেওয়া থেকে এবং অপর পাশে একটি ছবি দেওয়া থেকে।

যেমনঃ একপাশে স্কুটির ছবি এবং অন্য একপাশে অনেকগুলো ছবি। এখন অনেকগুলো ছবির মধ্য থেকে একটি পিজ্জার ছবি নিয়ে এসে স্কুটির উপরে রাখতে বললো। যদি আপনি সেই ছবিগুলোর মধ্য থেকে পিজ্জার ছবি চিহ্নিত করে বাইকের উপরে রাখতে পারেন তাহলে ক্যাপচার সমাধান হয়ে যাবে।

গুগল রি ক্যাপচার প্রয়োজনীয়তা বা কেন ব্যবহার হয়

মূলত গুগলে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বিভিন্ন ধরনের স্ক্যামিং প্রতিরোধের জন্য গুগল রি-ক্যাপচা ব্যবহার করে থাকে। কারণ বর্তমানে অনেক প্রোগ্রামার রয়েছে যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি কাজে লাগে বিভিন্ন রোবট তৈরি করে, যাকে অনেকে বট নামেও চিনে থাকে। এগুলো মানুষের থেকে দ্রুত ও অনেক কাজ করতে পারে।

উদাহরনঃ মনে করুন কোন একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং সেই টিকেটে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। এখন কোন প্রোগ্রামার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম বা রোবটকে কাজে লাগিয়ে সকল টিকেট কিনে ফেলল। তখন সকল টিকেট শেষ হয়ে যাবে এবং সে প্রোগ্রামার ব্লাক মার্কেটিং শুরু করবে। যেখানে মানুষকে টিকেট আরো বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে এটি হবে কিভাবে? প্রোগ্রামাররা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে কাজে লাগিয়ে অনেকগুলো রোবট তৈরি করে। যেখানে কিভাবে টিকিট কিনতে হবে সেই অনুযায়ী একটি প্রোগ্রাম সেট করা থাকে। আর যখনই সেই রোবটকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে, তখন আপনি যেই প্রক্রিয়ায় টিকেট ক্রয় করছেন অনেকগুলো রোবট সেই একই প্রক্রিয়ায় একসাথে অনেকগুলো টিকেট ক্রয় করে ফেলবে।

কিন্তু যদি সেখানে ক্যাপচা সিস্টেম দেওয়া থাকে তাহলে, সেই এই কাজটি করতে পারবে না। আর একজন মানুষ কখনো একসাথে এতগুলো টিকেট ক্রয় করতে পারবেনা। আর অনলাইনে টিকেট কেনার জন্য যদি সেখানে ক্যাপচা প্রোগ্রাম দেওয়া থাকে তাহলে রোবট ক্যাপচার পাল্লায় পড়বে।

কারণ রোবট এর মধ্যে সে কিভাবে টিকেট ক্রয় করবে সেই প্রোগ্রাম শেষ করে দেয়া হয়েছে কিন্তু কিভাবে ক্যাপচা পুরন করবে এরকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আর প্রতিবার ক্যাপচা বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে যার ফলে এত প্রোগ্রাম সেট করা সম্ভব নয়। এতে করে রোবট সেই সাইটে একসেপ্ট করতে পারে না।

আর তাছাড়া কোন ওয়েবসাইটে একসাথে অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট করা, স্প্যাম মেইল, পাসওয়ার্ড হ্যাকিং মেথড, ওয়েবসাইটে কমেন্ট স্ট্যান্ডিং সহ আরো বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে এই ক্যাপচা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হবে।

কোন রোবটকে গুগল অ্যালাউ করবে না

গুগল ব্যবহার করতে গিয়ে ক্যাপচার কবলে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমি আগেই বলেছি ধরুন আপনি গুগল ব্রাউজ করতেছেন এমন সময় হঠাৎ করে আপনাকে গুগল সন্দেহ করে অগ্নি পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারে।

এবং আপনি যে রোবট নন তার প্রমাণ করতে হতে পারে। এ প্রমাণ করার পরীক্ষায় যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলে আপনি সামনের দিকে এগোতে পারবেন না। অর্থাৎ গুগলের সেবা ব্যবহার করতে আপনাকে মানুষ বলে পরিচয় দিতেই হবে।

বর্তমানে বেশিরভাগ ওয়েবসাইট ও এখন এই গুগল ক্যাপচার সুবিধা ব্যবহার করে থাকে। অর্থাৎ এখন অনেক ওয়েবসাইটে একাউন্ট করতে গেলেও গুগল ক্যাপচার পরিক্ষায় সফল হতে হয়।

এবার আসি আসল কথায়, রোবট বলতে বুঝাবো হয়েছে এক প্রকার বটকে যেগুলো রোবটরের মতোই আচরন করে থাকে তাই এগুলোকে রোবট বা বট বলা হয়। মানুষ যে কাজগুলো অনলাইনে করতে অনেক্ষন সময় লাগে রোবট সেই কাজগুলো অল্প সময়ে দ্রুত করে দেয় এবং মানুষ একটি করতে করতে রোবট অনেকগুলো সেই কাজ করে ফেলতে পারে।

আর এই বট বা রোবট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেন কেউ অপব্যবহার না করতে পারে তার জন্য গুগল ক্যাপচা ব্যবহার করা হয়। গুগল ক্যাপচায় একেক সময় একটি পরিক্ষা দিতে হয় যা রোবট পারে না। কারন তাদের মধ্যে সেই সকল ডাটাগুলো থাকে না। তারা বেশিরভাগ সহজ বা সরল কাজগুলোই খুব সহজে করতে পারে। তাছাড়া এর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন বিভাগের ও একটি বড় খাত রয়েছে যা এই রোবটের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

রোবট ব্যবহারের গুগলের কেন এত আপত্তি

আসলে আমরা গুগলের অনেকগুলো সেবার মধ্যে তথ্য খোঁজার সেবাটির বিনামূল্যে ব্যবহার করি। আর এই সেবাটির পেছনে প্রতিষ্ঠান অনেক বিশাল ব্যয় বহন করতে হয়। যেমন সার্ভার খরচ দিতে হয় ব্যান্ডউইথের খরচ দিতে হয় এমনকি কর্মীদের বেতন রয়েছে।

তাছাড়া আরও অনেকগুলো খরচের খাত রয়েছে যা গুগোল আমাদের জন্য বিনামূল্যে সেবাটি দিয়ে ব্যয় ভার বহন করতেছে।

তাহলে এত খরচ গুগল কিভাবে সামলায়। বিজ্ঞাপন দেখানোর বিনিময়ে আপনাকে এবং আমাকে বিনা মূল্যে সেবা দেয় গুগোল। এবং এর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ আয় করে থাকে। তাহলে স্বয়ংক্রিয় টুল বা রোবটিক বট সেবা ব্যবহার করতে দিয়ে গুগলের কি লাভ হয়।

বরং যারা গুগলে বিজ্ঞাপন দেয় তাদের এই বিজ্ঞাপন থেকে কোন ক্রয় হবে না কারন সেই বিজ্ঞাপনটি মানুষের পরিবর্তে একটি রোবট দেখেছে। এতে করে বিজ্ঞাপন দিয়েও কারো লাভ হবে না বরং ক্ষতি হবে। যার ফলে কেউ আর গুগলে এড দিতে চাইবে না। এতে করে গুগলের অনেক বড় একটি লস হবে।

আসলে আপনারাই ভাবুন রোবটকে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে কোন লাভ আছে। সেকি বিজ্ঞাপনে দেখানো কোন পণ্য ক্রয় করে।

গুগল ক্যাপচার ভবিষ্যতে কোন উদ্দেশ্য আছে কি

অনেক তো ক্যাপচা সম্পর্কে জানলেন, এবার গুগল ক্যাপচার আরো বড় কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

ক্যাপচা দেখানোর পেছনে আরও মহৎ এবং বড় উদ্দেশ্য থাকতে পারে গুগলের।

সে উদ্দেশ্যটা হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যারকে প্রশিক্ষণ

আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রগ্রামে যত বেশি ডাটা ইনপুট দেয়া যায় ওই প্রোগ্রামটি ততবেশি শিখতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেওয়া কিন্তু খুব সহজ কথা নয়। একটি প্রতিষ্ঠান আর কতজন কর্মী এসব তথ্যের যোগান দিয়ে যেতে পারবে দিনের পর দিন।

আর তাই এ প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য হয়ত গুগোল আমার আপনার মত ব্যবহারকারীদের সাহায্য নিচ্ছে যেখানে কোটি কোটি ব্যবহারকারী প্রতিদিন গুগল ব্যবহার করতেছে।

ব্যাপারটি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন,

যেমন ধরুন আগে ক্যাপচা সমাধান হিসেবে ছবিতে দেখানো হতো এলোমেলো বা ঘোলাটে অক্ষর কিংবা কোন সংখ্যাকে ইনপুট দিতে বলতো গুগোল। আর ঘোলাটে অক্ষর বা সংখ্যায় স্ক্যান করা বইয়ের পাতায় লেখা বুঝতে সাহায্য করছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কে।

এর ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই গুগল ট্রান্সলেটর লাইভ স্ক্যান করা ডকুমেন্টের ট্রানসলেশন অনুবাদ। যারা এখনো গুগল ট্রান্সলেটর মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেননি এখনই ব্যবহার করে দেখে নিতে পারেন। সেখানে গুগলকে ছবিতে দেখানো বস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করেছি আমরা অজান্তেই।

আবার ধরুন বর্তমানে যে সকল ক্যাপচা দেখা আছে এগুলোতে ট্রাফিক, বাতি, রোড ক্রসিং, পাহাড়, ঘর, সাইকেল, ইত্যাদি শনাক্ত করতে বলা হয়। আর এ সকল ডাটা অতি সামান্য হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আপনারা জানেন বর্তমানে চালকবিহীন গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এখন ধরুন একটি চালকবিহীন গাড়ি কিভাবে এ সকল বস্তু শনাক্ত করতে পারে। আর এখানেই মজার ব্যাপারটি হলো এ সকল ডাটা চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি উন্নয়নে গুগলকে অনেক সাহায্য করতেছে। আমার আপনার ইনপুট দেওয়া সে তথ্যের মত কোটি কোটি তথ্য এক করে চালকবিহীন গাড়ি হয়তো রাস্তার ট্রাফিক বাতি দেখামাত্র চিনে ফেলতে পারবে।

গুগল সহ আরো এমন অনেকে রয়েছে যারা দিকের পর দিন কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে মানুষ ছাড়াই সকল কাজ হবে। অনেকে আবার কিছু কিছু জায়গায় এটিকে ব্যবহারের জন্য কাজেও লাগিয়ে দিয়েছে। যেমন একটি একটু আগেই বললাম গাড়ির কথা। গাড়িতে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে, যার ফলে গাড়ি ড্রাইভার ছাড়াই রাস্তা সনাক্ত করে নিজে নিজেই চলতে পারে।

আসলে এসকল ছোট ছোট কাজগুলো ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দুয়ার কেও উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। আসলে আমি বা আপনি এসকল ছোট্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি চমৎকার প্রযুক্তিকে একধাপ এগিয়ে দিলাম।

আবার ক্যাপচার দিকে ফিরে যাই

আসলে ক্যাপচার নির্ভুল সঠিক উত্তর দিতে পারলে আপনি আগের মতো আবার গুগলে তথ্য খোঁজ করতে পারবেন। ভুল হলে আবার আগের মতই ক্যাপচার যন্ত্রণায় ভুগতে হবে।

আসলে গুগোল ক্যাপচা হল কোন অক্ষর বা ছবি মেলাতে বলা। যেমন একটি তালগাছের অনুরূপ সদৃশ ছবিগুলো আপনাকে বাছাই করতে বলা হতে পারে। আবার রাস্তার জেব্রা ক্রসিং এর ছবিগুলো আপনাকে মেলাতে বলা হতে পারে। আসলে এগুলো করার উদ্দেশ্য হল যিনি গুগোল ব্রাউজ করছেন তিনি যে একজন রক্তমাংসের মানুষ এবং স্বয়ংক্রিয় কোন প্রোগ্রাম নয় বা কোন রোবট নয় তা প্রমাণ করার জন্যই গুগলের এই ব্যবস্থা।

কারণ স্পাম বট, ভাইরাসে আক্রান্ত কম্পিউটার, পুরনো কোন রাউটার, বা এসইও রেংকিং টুলস ব্যবহার করার কারণে ক্যাপচা দেখানো হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। কারণ এসকল টুলস বা কম্পিউটার কে তারা ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করে।

যখন আপনি এধরণের সমস্যায় পড়বেন তখন গুগল আপনাকে স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম বা বট ভেবে ভুল করে বলেই সমস্যাগুলোতে পড়েন। আর ঠিক তখন আপনাকে ক্যাপচার পরীক্ষায় চালানো হয় যেখানে নির্দিষ্ট ছবিতে ক্লিক করতে বলা হয়। কোন রোবট যদি এধরনের সমস্যায় পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই সে নির্দিষ্ট ছবি মেলাতে ভুল করবে অথবা পারবেনা।

তবে এক্ষেত্রে যদি আপনাকে বারবার ক্যাপচা দেখানো হয় তাহলে কিছুটা সন্দেহজনক মনে হবে আপনার ডিভাইসটিকে। আর সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারে কোন ভাইরাস রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখুন।

এসইও রেংকিং টুলস এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোন কীবোর্ড লিখে গুগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার খোঁজা হয়। আর এই কাজটা অনেকটাই অনৈতিক। আর সে কারণেই গুগল আপনাকে স্বয়ংক্রিয় টুলের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ক্যাপচা ব্যবহার করতে বলে।

আরও পড়ুন,
আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
কম্পিউটারে নাম ছাড়া ফোল্ডার তৈরি করুন নতুন নিয়মে – ২০২৩
ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহারের ভালো দিক খারাপ দিক
গেম খেলা আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় এবং শেষ পরিনতি
শীতে দ্রুত পানি গরম করার উপায়

Share your love
Salman Shemul☑️
Salman Shemul☑️
Articles: 20