পুরনো ফোন কেনার আগে এই বিষয়গুলো লক্ষ রাখুন

আমরা প্রায় সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে হোক কিংবা বিভিন্ন কারণে পুরনো মোবাইল ফোন কিনে থাকি। অনেকেই মনে করেন ফোন কেনার পর জিতে গেছেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় বিপদে পড়েছে। তাই পুরনো ফোন কিনে জিতে যাওয়া বা পরে পস্তানো থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য কিছু বিশেষ বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো না জানলে পুরনো ফোন কিনে পরবর্তীতে পস্তাতে হতে পারে। তাই পুরনো ফোন কেনার আগে সেই মোবাইল সম্পর্কে ভালো করে জানা প্রয়োজন। 

আবার অনেক সময় দেখা যায় পুরনো ফোন কিনতে গেলে অনেক ধরনের ঝুঁকি থাকে। আবার অনেকে ফোনে প্রবলেম থাকলেও সেগুলো কে লুকায়িত করে রাখে। চলুন তাহলে জেনে নেই পুরনো ফোন কেনার আগে কিছু বিষয়।

যা যা জানতে হবে পুরনো ফোন কেনার ক্ষেত্রে

আইনগত বিষয়

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি। কারণ এমন অনেকেই রয়েছেন যারা হারিয়ে যাওয়া ফোন কিংবা চুরি করা ফোন বিক্রি করে থাকেন। আপনি যদি পুরনো ফোন কিনতে গিয়ে চুরি করা ফোন কিনেন তাহলে আপনাকে আইনগত সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার অনেকটাই সম্ভাবনা থাকে।

কারণ আপনি যে পুরনো ফোনটি কিনেছেন সেটি যদি চুরি করা ফোন হয়ে থাকে আর সেই ফোনের মালিক যদি মামলা দিয়ে থাকে, তাহলে আপনি ফোনটি ব্যবহার করার সময় আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন, এতে আপনার জেল কিংবা জরিমানা হতে পারে।

অনেকেই হয়তো ভাবেন যে কিভাবে আমাকে আইনের লোক খুঁজে বের করবে। কিন্তু অনেকেই হয়তো ভুলে যান বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। আপনার ফোনটি চালু অবস্থায় থাকলে আপনার ফোনের আইএমইআই নাম্বার এর সাহায্যে সহজেই আপনাকে ট্র্যাক করা যাবে।

তবে এখানে সবথেকে খারাপ ব্যাপারটি হচ্ছে, আপনি চুরির না করেও চুরির দায়ে ফেঁসে যাচ্ছেন। আর তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফেঁসে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কেনার রশিদ বা মানি রিসিট চেয়ে নেওয়া। সম্ভব হলে ফোনের বক্সটিও নিয়ে নেওয়া। এতে করে মোবাইলের দাম দেখে নেয়া যাবে আবার প্রকৃত মালিক কিনা সেটাও জানা যাবে।

তবে সে সকল কাগজপত্র অনেক সময় বিক্রেতার কাছে নাও থাকতে পারে। কারণ এগুলো অনেকেই সংগ্রহ করে রাখে না আবার অনেক সময় হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে বিক্রেতার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য লিখে নেওয়া যেতে পারে। 

যেমনঃ বিক্রেতার নাম, পিতার নাম, দোকান হলে দোকানের ঠিকানা আর দেখতে হলে সেই ব্যক্তির ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, মোবাইলের মডেল, বিক্রেতা সিগনেচার। 

এর সুবিধা হচ্ছে যদি আপনি কখনো কোনো আইনগত সমস্যায় পড়েন তাহলে এই কাগজটি দেখিয়ে জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। কারণ তখন আপনি প্রমাণ করতে পারবেন আপনি ফোনটি তৈরি করেননি বরং কারো কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। তখন আপনার দেওয়া তথ্য মতে তারা সেই লোকটিকে অনুসন্ধান করবে। অবশ্যই যদি সেই ব্যক্তি ফোনটি চুরি করে না থাকে তাহলে সে যার কাছ থেকে কিনেছে তার কাছ থেকে থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছে।

বিশ্বস্ত জায়গা থেকে ফোন কিনুন

যদি অনলাইন থেকে কোন পুরনো ফোন পেমেন্ট তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে বিবেচনা করে তারপর কিনবেন। কারণ অনলাইন থেকে অনেক সময় প্রতারিত হয়ে থাকে। যদি কোন ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে ফোন কিনেন তাহলে আপনাকে বেশি সচেতন হতে হবে।

আর অনলাইন থেকে ফোন কেনার আগে যতটুকু সম্ভব যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। যদি ফেসবুকে কোন ফোন বিক্রি পোস্ট দিয়ে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্স চেক করুন। এতে করে যদি কোন ব্যক্তি প্রতারিত হয়ে থাকে তাহলে সে অবশ্যই কমেন্টে জানাবে।

দাম অনুযায়ী কিনুন

যেহেতু পুরনো কয়েন কিনছেন অবশ্যই দাম কম হবে। কিন্তু সেই ফোনের দাম ঠিক কতটুকু কম হওয়া উচিত তা ফোনের ব্র্যান্ড ও ব্যবহারের সময় এর উপর নির্ভর করে ঠিক করতে হবে। সবথেকে ভালো হবে যদি আপনি অনলাইনে সার্চ করে বিভিন্ন বিক্রয় সাইটগুলোতে দামের সাথে কম্পেয়ার করতে পারেন।

একটু ঝামেলা হল এটি আপনাকে সঠিক দাম নির্বাচন করতে অনেকটাই সহায়তা করবে। আর আপনার যদি আগে পুরনো ফোন কিনার ভালো অভিজ্ঞতা থাকে কিংবা দাম নির্বাচন করার ভালো অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে তো আরো ভালো।

ফোনের ওয়ারেন্টি

অনেক মানুষ আছেন যারা নতুন ফোন কেনার পর সেই ফোনটি বেশিদিন ব্যবহার করেন না। আবার নতুন ফোন কেনার জন্য সেই ফোনটি বিক্রি করে দেন। আপনি যদি এমন ধরনের কোনো মানুষের কাছ থেকে ফোন কেনেন, তাহলে কিছুদিনের জন্য হলেও আপনি ওয়ারেন্টি পেয়ে যেতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক বিক্রেতার মোবাইল ফোনের ওয়ারান্টি ১২ মাস। কিন্তু বিক্রেতা ৮ মাস ফোনটি ব্যবহার করে বিক্রি করে দিলো, তাহলে আপনি আরো ৪ মাস ওয়ারেন্টি পেয়ে গেলেন। তাই ফোন কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকেও ওয়ারেন্টির কথা জিজ্ঞাসা করে নিন যদি মোবাইলটি নতুন হয়ে থাকে।

হার্ডওয়্যারগুলো চেক করুন

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ফোনের হার্ডওয়্যারের অংশগুলো চেক করুন। যেমন ডিসপ্লের বিভিন্ন জায়গায় ক্লিক করে দেখুন সকল স্থানে ঠিকমত কাজ করছে কিনা, চার্জার ও হেডফোনেরর পোর্ট ঠিক আছে কিনা, এরপর ফোনের বাটনগুলো ঠিক আছে কিনা।

কারণ অনেক সময় এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা থাকতে পারে তাই কেনার আগে অবশ্যই এগুলো চেক করে নেবেন। আবার সিম ব্যবহার করা যাচ্ছে কিনা কিংবা মেমোরি কার্ড ঠিকমত কাজ করছে কিনা সকল বিষয়ে চেক করে নিন।

সফটওয়্যার ও অন্যান্য ফাংশন

হার্ডওয়ারের পাশাপাশি সফটওয়্যার ও অন্যান্য ফাংশনের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যেমন ২ জিবি র্যামের নিচে পুরনো ফোন কেনা ঠিক নয়, প্রসেসর স্পিড, ক্যামেরা কোয়ালিটি, ফোনের ব্যাটারি, নেটওয়ার্ক কাজ করছে কিনা, সাউন্ড চেক, ইন্টার্নেট ব্রাউজিং ইত্যাদি নানা ধরনের খুটিনাটি বিষয় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে সহজেই বুঝতে পারবেন ফোনটি কেমন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?

Leave a Comment