ভালো মোবাইল কেনার জন্য যে বিষয়গুলো জানা দরকার

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মোবাইল সবার কাছেই থাকে। ইন্টার্নেট ব্রাউজিং, গেম খেলা, ছবি ও ভিডিও করা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা কথা বলা সহ ইত্যাদি কাজে মোবাইল আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। দিন যতই যাচ্ছে মোবাইল ততো আপডেট হচ্ছে। অনেকেই পুরনো ভার্সনের মোবাইল ছেড়ে নতুন মোবাইল কিনছে, আবার অনেকে বাটন মোবাইল ছেড়ে এন্ড্রয়েড ফোন কিনছে, আবার অনেকের মোবাইল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন ফোন কিনছে। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কারনে মোবাইল কিনছে।

মোবাইল কেনার আগে যাচাই বাছাই করে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। এতো টাকা দিয়ে মোবাইল কিনবেন যদি সঠিক মোবাইলটি না কিনতে পারেন তাহলে তো পুরো টাকাটাই জলে যাবে। আবার অনেকে আছে মোবাইল সম্পর্কে ততটা একটা বোঝেনা। আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট এর কথা মাথায় রেখে ভালো মোবাইল কেনার কৌশল আপনাদের জন্য তুলে ধরবো এই আর্টিকেলে।

মোবাইল কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন-

  • Android, iOS, Iphone এই তিন ধরনের মোবাইল সাধারণত আমরা ব্যবহার করে থাকি। বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের অনেক অপশন পাবেন, iOS ব্যবহার করা সহজ এবং আপডেট হিসেবে আইফোন নিতে পারেন।
  • একটি মোবাইল ফোনে যতটুকু খরচ করা প্রয়োজন কখনো তার বেশি দাম দিয়ে কিনবেন না। যেমনঃ ধরুন আপনি গেমস খেলার জন্য মোবাইল কিনবেন তাহলে আপনি ভালো ক্যামেরার জন্য কেন দাম দিয়ে মোবাইল কিনবেন। কারণ গেমস খেলার জন্য আপনার দরকার হবে বড় ডিসপ্লে এবং ভালো ব্যাটারি।
  • মোবাইলের স্ক্রিনের সাইজ মাপ মতো কেন খুব জরুরী। যদি আপনি গেম খেলা বা ভিডিও দেখতে পছন্দ করে থাকেন তাহলে বড় স্ক্রিনের ফোন নিতে পারেন। অন্যথায় আপনি ৫.৫ ইঞ্চির মোবাইল অথবা তার কম সাইজের স্ক্রিনের মোবাইল নিতে পারেন। ছোট সাইজের মোবাইল ক্যারি করার সহজ আর পকেটে অনায়াসে রাখতে পারবেন।
  • মোবাইলের ডিসপ্লের জন্য কালার কোয়ালিটি ও ব্রাইটনেস রেজুলেশন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ডিসপ্লে ঠিক কতটা ব্রাইট তা জানা আবশ্যক। কারণ ডিসপ্লে পর্যাপ্ত ব্রাইট না হলে রোদে ভালোভাবে দেখা যায় না। এর জন্য আপনি এলসিডি ব্যবহার না করে এমোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করুন।
  • বেশিরভাগ মানুষই মোবাইল কেনার সময় ক্যামেরাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারণ বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভালো ছবি তোলা অনেক জরুরী হয়ে গেছে। মেগাপিক্সেল মোবাইলের ক্যামেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তবে ডুয়াল লেন্স থাকা ভালো।
  • মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে প্রসেসর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। Snapdragon 821, Snapdragon 835, Snapdragon 600, Snapdragon 8+ gen চিপ ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার মোবাইলের প্রসেসর হলে আপনি বেশি পাওয়ারের গেম এবং থ্রিডি রূপ দেখতে পারবেন।
  • মোবাইলের ব্যাটারি হচ্ছে মোবাইলের জীবন। আপনার মোবাইলের ব্যাটারি যদি চার্জ বেশি না থাকে তাহলে আপনি মোবাইল চালানোর থেকে বেশি মোবাইলকে চার্জে লাগিয়ে রাখতে হবে। ৩০০০ মিলি এম্পিয়ারের বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারির মোবাইল কিনবেন।
  • বর্তমান সময়ে আমরা মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি এবং প্রচুর পরিমানে ছবি তুলি এবং ভিডিও করে থাকি। সেক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের স্টোরেজ ৩২ জিবির বেশি হতে হবে। ৬৪ জিবি ব্যবহার করতে পারেন, সবচেয়ে ভালো ১২৮ জিবি হলে। যার ফলে আপনি অনেক বেশি গেম ডাউনলোড করতে পারবেন, 4k ভিডিও শুট করতে পারবেন, একসাথে অনেক ফটো ও ভিডিও এডিটিং অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন।

মোবাইল কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা উচিত

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল পাওয়া যায়। যেমন স্যামসাং, আইফোন, ভিভো, অপো, রিয়েলমি, শাওমি, সিম্ফনি, ওয়ান প্লাস ইত্যাদি। মোবাইল কেনার আগে আপনার পছন্দ এবং বাজেট অনুযায়ী পারফেক্ট মোবাইলটি বেছে নিতে অবশ্যই কিছু জিনিস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা ভালো। যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা জরুরী তা এখানে আলোচনা করা হবে।

দাম

আপনি যদি টাকা বাঁচাতে চান এবং একইসাথে ভালো পারফর্মেন্স এর মোবাইল ফোন কিনতে চান তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ফোন দেখতে পারেন। আপনার প্রয়োজন বা চাহিদা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করবে এরকম মোবাইল কিনুন।

অপারেটিং সিস্টেমঃ অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ

অ্যান্ড্রয়েড

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন বাজারে এন্ড্রয়েড ফোনই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। ডিজাইন, স্পেস, ডিসপ্লে, সাইজ, ক্যাপাবিলিটি এবং দাম সবকিছুরই এখন অনেক অপশন আছে এন্ড্রয়েড ফোনের। নতুন এন্ড্রয়েড ভার্সন গুলোতে আরো বিভিন্ন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে। যেমনঃ দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, মাল্টিমিডিয়া উইন্ডো, আপডেট নোটিফিকেশন ইত্যাদি।

iOS

বর্তমান সময়ের আইফোন গুলোর অপারেটিং সিস্টেম লেটেস্ট ভার্সনে তৈরি। আইফোনের ক্যামেরা অনেক উন্নত মানের হয়ে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য সকল মোবাইল থেকে আইফোনের সিকিউরিটি সিস্টেম ভালো থাকে।

উইন্ডোজ ফোন

এই ফোনের একটি ভালো দিক হচ্ছে ইউনিভার্সাল উইন্ডো সিস্টেম। ইউনিভার্সাল অ্যাপের মাধ্যমে ডেভেলপারেরা উইন্ডোজ ১০ দিয়ে একসাথে ডেক্সটপ এবং মোবাইল চালানো সম্ভব করেছেন।

স্ক্রিন সাইজ

ছোট স্ক্রিন(৫.৫ ইঞ্চির কম) ফোনের সুবিধা হচ্ছে এটাকে হাতের মুঠোয় রাখা যায় এবং খুব সহজে পকেটে খাপ খেয়ে যায়। মাঝারি স্ক্রিনের(৫-৫.৫ ইঞ্চি) সাইজের ফোন গুলো খুবই জনপ্রিয়। বড় স্ক্রিনের(৫.৫ ইঞ্চির বেশি) মোবাইল ফোনের সাহায্যে ভিডিও দেখতে, একসাথে দুটো অ্যাপ চালাতে, বই পড়তে ইত্যাদি কাজের জন্য ভালো।

ডিসপ্লে কোয়ালিটি

মোবাইল কেনার সময় স্কিনের সাইজের সাথে সাথে ব্রাইটনেস, কালার কোয়ালিটি এবং দেখার অ্যাঙ্গেল যাচাই করে নিবেন। ফোনের ব্রাইটনেসে বাইরের প্রখর আলোতে ফোনের অপশন গুলো ভালোভাবে পড়া যায় কিনা। ফোন রেজুলেশনের জন্য ফুল এইচডি হলে ভালো হয়। 2560 x 1440 পিক্সেল ফোন দিয়ে অনায়াসে হাই রেজুলেশন ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

ডিজাইন

মোবাইলের কোয়ালিটি সাথে সাথে আউটফিটও সুন্দর হওয়া চাই। মেটাল অথবা গ্লাস বডি ডিজাইন করা মোবাইল কিনবেন। আর আপনার যদি বাজেট কম থাকে তাহলে প্লাস্টিক বডির ডিজাইনেরও মোবাইল পাবেন। আর যদি চান পানিতে পড়লে মোবাইলের কোনো ক্ষতি না হয় তাহলে ওয়াটার প্রুফ ফোন কিনতে পারেন।

ক্যামেরা

প্রসেসর এর চেয়েও অনেক মানুষ মোবাইলের ক্যামেরাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারন অনেকেই মোবাইলকে নিজের ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে অনেক মোবাইলে ৫০ মেগা পিক্সেলের মত ক্যামেরা দিয়ে থাকে।

মোবাইল কেনার সময় মেগাপিক্সেল এর সাথে সাথে ছবির কোয়ালিটি, অ্যাপারচার স্পিড এবং ফিচার দেখে মোবাইল কিনুন। মোবাইল কেনার আগে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে দেখুন ছবি কেমন ওঠে, কত দ্রুত ছবি ক্যাপচার করে ইত্যাদি বিষয়।

প্রসেসর

প্রসেসর মোবাইলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। মোবাইলের প্রসেসর ভালো হলে অ্যাপ দ্রুত ওপেন হবে এবং মোবাইলের অ্যাপ গুলো দ্রুততার সাথে কাজ করবে। গেম প্লে করা, ফটো বা ভিডিও এডিটিং হবে তাড়াতাড়ি।

RAM এবং ROM

বর্তমান সময়ের ২ জিবি র‍্যাম থেকে শুরু করে ৮ জিবি র‍্যাম পর্যন্ত মোবাইল পাবেন। মোবাইলের র‍্যাম যত বেশি হবে মোবাইল ততো ভালো কাজ করবে।

মোবাইলের রম বা ইন্টারনাল স্টোরেজ যত বেশি হবে ততোই ভালো। ৩২ জিবি রমের মোবাইলের দাম সাধারণত কম হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি যদি অনেক বেশি ছবি তোলেন, ভিডিও করেন এবং গেম খেলেন তাহলে আপনার জন্য ৬৪ জিবি RAM এর মোবাইল নিতে পারেন। বাজেট বেশি হলে ১২৫ জিবি সবচেয়ে বেশি ভালো হবে।

ব্যাটারি লাইফ

প্রসেসর অপারেটিং সিস্টেম এবং স্কিনের সাইজের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় ব্যাটারি কতক্ষণ সার্ভিস দিবে। বর্তমান সময়ে ২৪ ঘন্টা সার্ভিস পাওয়া যাবে এমন ব্যাটারির মোবাইল পাওয়া যায়। 3000 mah এর বেশি পাওয়ার ব্যাটারির  মোবাইল কিনবেন।

চার্জিং

আপনার মোবাইল ফোনটি কত দ্রুত চার্জ হবে সে বিষয়টি দেখে মোবাইল কিনুন। বর্তমান সময়ে ফাস্ট চার্জিং মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোর সাহায্যে খুবই দ্রুত মোবাইল চার্জ করা যাচ্ছে। তাছাড়া ওয়ারলেস বা তারবিহীন চার্জিং পদ্ধতি বের হয়েছে।

সিকিউরিটি

পিন লক তারপর প্যাটার্ন লক এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক এবং ফেস লক স্মার্টফোন বের হয়েছে। এসব সিকিউরিটি গুলো আপনার ফোনকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

বর্তমান সময়ে মানুষ এক মুহুর্তেও মোবাইল ছাড়া থাকতে পারে না। মোটকথা মোবাইল আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে আপনার জন্য পারফেক্ট মোবাইলটি নির্বাচনে দক্ষ হওয়া জরুরী। আশাকরি উপরের বিষয়গুলো আপনাদের সাহায্য করবে ভালো মোবাইল ফোন কেনার জন্য।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?

Leave a Comment