ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আয় করার কিছু উপায়

বর্তমান সময়ে অনেকেই সরকারি বা বেসরকারি চাকরি ছাড়াও বিভিন্ন রকমের কাজের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহ দেখায়। কারণ এসকল কাজের প্রতি অনেকেই হয়ে ওঠে বিষাদময়, তিক্ত ও একঘেয়ে। পরিবারের প্রয়োজনে হোক বা যেকোন চাহিদার কারণে আমাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকে আবার অনেকে কাজ করার জন্য নতুন নতুন কিছু খুজে থাকে।

বর্তমান সময়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টও আয়ের একটি বড় উৎস। অনেকের কাছেই পছন্দের তালিকার শীর্ষে ব্যক্তিগতভাবে এই কাজটি। বিশেষ করে যারা শিল্পী বা শিল্প সত্তার অধিকারী। কারণ এখানে অনুষ্ঠানকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য বুদ্ধির পাশাপাশি শিল্প মনটারও প্রয়োজন পড়ে খুব।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে কিভাবে উপার্জন করতে পারবেন। 

নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নির্বাচন করুন

প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন একজন ইভেন্ট প্ল্যানার। বিভিন্ন মানুষের সাথে কমিউনিকেশন স্কিল বা আলাপ গড়ে তোলার দক্ষতা অর্জন করে যা তাকে অনন্য করে তোলে। তবে সব ধরনের অনুষ্ঠান এমন ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয় এটি মাথায় রাখা দরকার।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিগত কে অবশ্যই সেই অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা/ ডেকোরেশন, খাবার মেনু ,সঠিক জায়গা নির্বাচন, প্রায় সকল জিনিসের সুষ্ঠু ব্যবহার নিখুঁতভাবে বিবেচনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। তাছাড়া কাজের সফলতা আর পরিমাণ হবে সামান্য।

পরিবেশ ও ভিন্নতা অনুযায়ী প্রত্যেকটি ইভেন্টে বা অনুষ্ঠানে কিছুটা ভিন্নতা থাকবে। যেমন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের সকল বিষয় যেমন হবে, কোন বিজনেস বা কোম্পানির আয়োজন কখনো একই রকম হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক এবং মার্জিত ছাপ থাকা আবশ্যক  কর্মক্ষেত্রের অনুষ্ঠানগুলোতে। আবার বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকে কোমলতা এবং আনন্দের জলছবি। তাই কোন ধরনের ইভেন্টে বেশি আপনি আগ্রহী তা আপনাকে প্রথমেই বেছে নিতে হবে।

যে ধরনের ইভেন্টগুলোতে আপনি সব থেকে বেশি আগ্রহী সে ধরনের ইভেন্টের উপরে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। হয়তো একদিন দক্ষ প্ল্যানার হওয়ার পর আপনি সকল ধরনের আয়োজন করতে পারবেন। কিন্তু প্রথমদিকে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগাতে হবে।

প্রচারণা ও পরিচিতি গড়ে তুলুন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে

আপনার হয়তো অজানা,  সামাজিক মাধ্যম গুলোর মাধ্যমে প্রায় ৪৬ শতাংশ বিয়ের কনে ইভেন্ট প্ল্যানারদের খুঁজে থাকেন এবং তার মধ্যে এভাবেই হয় ৩৪ শতাংশ অর্ডার। সামাজিক মাধ্যম যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট জবাব না দিয়ে ইত্যাদিতে যখন আপনি আপনার বিভিন্ন পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা বা আপনার কাজের দক্ষতা গুলো তুলে ধরবেন তখন তা আরো বেশি কার্যকর হবে।এতে করে তাদের আপনার প্রতি একটা বিশ্বাস জাগ্রত হবে।

আপনি যদি আপনার প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভালোভাবে করতে পারেন তাহলে আপনি এর থেকে অনেক অর্ডার পাবেন। এগুলো করতে পারলে আপনি আরো একধাপ এগিয়ে যাবেন সাফল্যের দিকে।

অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও পরিচিতি গড়ে তোলেন

অনলাইনে আপনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন বা নাও পারেন, তবে পাশাপাশি আপনাকে অফলাইনেও নিজের পরিচিতি বাড়াতে হবে। এর কারণ বর্তমান সময়ে অনলাইনে অনেক ধরনের চোর- বাটপার বের হয়েছে, যার ফলে অনেক মানুষ দিন দিন অনলাইনের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এতে করে অনেক মানুষ অফলাইনেও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ইভেন্ট প্ল্যানার দের খুঁজে থাকেন।

আপনি যদি পূর্বে কোন কাজ করে থাকেন তাহলে যে সকল গ্রাহকদের সাথে সবসময় সম্পর্ক বজায় রাখুন, এতে করে তারাও তাদের পরিচিতদের আপনার বিষয়ে সাজেস্ট করবে।

সব সময় চেষ্টা করবেন গ্রাহকরা কি চায় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে তাদের কোন আত্মীয় স্বজনের কিংবা নিজেদের অন্যান্য ইভেন্টে আপনাকে হায়ার করে থাকবে।

কাস্টমারদের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া

একটি ইভেন্ট ম্যানেজ করা এতটাও সহজ নয় কারণ ইভেন্ট প্ল্যানিংয়ে আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। ধরুন আপনি পাঁচটি ইভেন্টের কাজ পরিচালনা করবেন, তা হবে ৫ রকমের। এক্ষেত্রে আপনাকে সচেতন হতে হবে।

আপনি মূলত কোন কোন ধরনের ইভেন্ট সেটা পরিষ্কার ভাবে প্রথমে উল্লেখ করতে হবে। তাহলে সেই অনুযায়ী আপনার কিছু টার্গেট কাস্টমার থাকবে এবং রিসার্চ এর মাধ্যমে বুঝে নিতে হবে আপনার টার্গেট কাস্টমার কে!! সেই অনুযায়ী আপনার কাজ পরিচালনা করতে হবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?

Leave a Comment