মানুষ শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহারের কারণ

মানুষ শনাক্তকরণে একমাত্র ইউনিক মাধ্যম হিসেবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের সব দেশেই জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম কার্ড নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জমি জমা সংক্রান্ত দলিলাদি, ব্যাংক একাউন্ট কিংবা এসমস্ত আর্থিক লেনদেন সহ গুরুত্বপূর্ণ দলিলে আঙুলের ছাপ রাখা হয়।

একজনের আঙুলের ছাপ কখনোই অন্যজনের আঙুলের ছাপের সাথে মিলেনা। প্রতিটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ তার নিজস্ব বেশিষ্ট্যের হয়। এমনকি যদি জমজ সন্তানের জন্ম হয় তাহলেও তাদের আঙ্গুলের ছাপ এক হবে না।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কি কারণে একজনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট অন্য জনের সাথে মিলে না। চলুন জেনে নেই এর কারণঃ

আমরা জানি সন্তান জন্ম নেয়ার সময় মাতৃগর্ভে যে পরিবেশে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই আঙুলের ছাপ নির্ধারিত হয়ে থাকে। আর জমজ কিংবা ছেলে অথবা মেয়ে সবাই আলাদা আলাদা ভ্রুন থেকে সৃষ্টি। আর প্রতিটা ভ্রুনের বিকাশের পরিবেশ আলাদা থাকে। তাই সবার আঙ্গুলের ছাপও ভিন্ন হয়।

different finger
ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গুলের ছাপ

একটি ব্যক্তি দুইটি বৈশিষ্ট সম্পন্ন হয়। একটি জেনোটাইপ ও অন্যটি ফেনোটাইপ। এই দুই টাইপের বৈশিষ্ট দিয়ে একজন ব্যক্তি বা মানুষকে বিচার করা যায়।

জেনোটাইপ জীবের জিনগত অভ‍্যন্তরীন বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে ও ফেনোটাইপ ব্যক্তির বাহ্যিক গঠন বা বাহিরের অংশকে নির্দেশ করে।

জেনোটাইপ হলো ব্যক্তির ডিএনএ যা সে তার বাবা মার কাছ থেকে জন্মগত ভাবে পেয়ে থাকে। মাতৃগর্ভে প্রতিটি ভ্রুনই আলাদা আলাদা ফেনোটাইপের সৃষ্টি করে। কারণ মাতৃগর্ভে কোন ভ্রুন একই অবস্থানে থাকে না। যার কারণে যেই ভ্রুন যেই পরিবেশে থাকে ওই পরিবেশের ফোনোটাইপ তৈরী করে। আর প্রতিটি মাতৃগর্ভের পরিবেশই ভিন্ন প্রকৃতির হয়।

তাই মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ ও আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। আর প্রতিটা মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট আলাদা হওয়ার কারণে সহজেই ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করা যায়। তাই মানুষ শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার হয়ে থাকে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?