উইন্ডোজ ১২ রিলিজ ডেট, ফিচার, স্পিসিফিকেশনস

আমরা জানি, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে আমরা যা দেখি সেগুলো চালিত হয় অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে। যেমন অনেক স্মার্টফোন চলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে। আবার অনেক কম্পিউটার চলে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে।

কম্পিউটারের উইন্ডোজ কি

উইন্ডোজ হলো একটি অপারেটিং সিস্টেম। যা তৈরি করে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন। উইন্ডোজের আদলে রয়েছে আরো অনেক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার যা সে পরিচালনা করে। তবে যেকোন কাজ মাউস ও কি-বোর্ডের সাহায্যে করতে হয়।

কম্পিউটারের জন্য কিছু অপারেটিং সিস্টেম থাকলেও, মানুষের প্রথম পছন্দ ও সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে উইন্ডোজ। পার্সোনাল ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ব্যবহারকারীদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম।

এটি ব্যবহারে অনেক সুবিধা ও প্রতিনিয় নিত্য নতুন ফিচার নিয়ে আসায় এর জনপ্রিয়তা ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাইক্রোসফট ১৯৯৫ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসে। যা অল্প সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উইন্ডোজের সকল ভার্সনগুলো হলোঃ

  • এমএস ডস (MS DOS)
  • উইন্ডোজ ৯৫ (Windows 95)
  • উইন্ডোজ ৯৮ (Windows 98)
  • উইন্ডোজ এনটি/২০০০ ভার্সন (Windows NT/2000 server)
  • উইন্ডোজ এক্সপি (Windows XP)
  • উইন্ডোজ ভিসতা (Windows Vista)
  • উইন্ডোজ ৭ (Windows 7)
  • উইন্ডোজ ৮ (Windows 8)
  • উইন্ডোজ ১০ (Windows 10)
  • উইন্ডোজ ১১ (Windows 11)

নিয়ম অনুযাইয়ী উইন্ডোজ ১১ এর পর এবার উইন্ডোজ ১২ আসার পালা। কিন্তু কবে রিলিজ হবে উইন্ডোজ ১২ সে সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। তবে মনে রাখবেন আপনার কম্পিউটারে যদি উইন্ডোজ ১১ চলার মতো সক্ষমতা না থাকে তাহলে উইন্ডোজ ১২ চলবে না।

উইন্ডোজ ১২ রিলিজ ডেট

উইন্ডোজ ১২ কবে রিলিজ হবে সে সম্পর্কে এখনো কোন সঠিক ধারনা পাওয়া যায় নি। বর্তমানে উইন্ডোজ ১২ ডেভেলপাররা ডেভলপ করছে, পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর সব কিছু ঠিক থাকলে তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে অনেক বড় বড় সোর্স থেকে ধারনা করা হচ্ছে উইন্ডোজ ১২ রিলিজ হবে ২০২৪ সালে, অর্থাৎ যা প্রায় আরো দেড় বছর বাকি।

উইন্ডোজ ১২-এর জন্য রিকোয়ারমেন্ট

  • আপনার ডিভাইসটি অবশ্যই উইন্ডোজ ১১ চলতে হবে, তাহলে উইন্ডোজ ১২ চলার মতো সকল রিকোয়ারমেন্ট থাকে তাহলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দেখাবে আপনার উইন্ডোজ ১২ তে আপডেট করুন।
  • ২টি বা তার চাইতে বেশি কোর সাথে সর্বনিম্ন ১ গিগা হার্জ বা তার চাইতে দ্রুত ৬৪ বিটের প্রসেসর হতে হবে।
  • সর্বনিম্ন ৪ জিবি র‍্যাম হতে হবে।
  • ১২৮ জিবি বা তার চাইতে বেশি স্টোরেজ হতে হবে।
  • ইউইএফআই (UEFI) এবং নিরাপদ বুট সক্ষম হতে হবে।
  • ডাইরেক্টএক্স ১২ বা তার পরবর্তী WDDM ২.০ ড্রাইভারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস থাকতে হবে।

বিঃদ্রঃ উপরে যা দেওয়া হয়ে সেগুলো ছিলো উইন্ডোজ ১১ এর জন্য রিকোয়ারমেন্ট, কিন্তু উইন্ডোজ ১২ এর জন্য এগুলো তেমন কিছু চেঞ্জ হবে না। তবে অল্প কিছু পরিবর্তন আসতে পারে যেহেতু আপডেট ভার্সন। তবে আশা করা যায় যাদের কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ রান হওয়ার মতো সক্ষমতা আছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের উইন্ডোজ ১২ রান হবে।

উইন্ডোজ ১২ তে যা যা থাকছে

বর্তমানে আমাদের উইন্ডোজ ১২ তে নতুন কি কি আসতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তবে প্রতিটি উইন্ডোজ লঞ্চের সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হচ্ছে এর উল্লেখযোগ্য আপগ্রেড এবং উন্নত বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ প্রতিটি উইন্ডোজ আপডেটের সময় অনেক পরিবর্তন ও আপডেট নিয়ে আসে। যা এবারও উইন্ডোজ ১২ এর ক্ষেত্রে দেখা যাবে।

ক্লিপবোর্ড এর ইতিহাস (Clipboard History)

উইন্ডোজ ১২ তে থাকছে ক্লিপবোর্ডের হিস্ট্রি অর্থাৎ ইতিহাস দেখার সুযোগ। যেমন আমরা এখন বর্তমানে যা কপি বা কাট করেছি, শুধুমাত্র তা পেষ্ট করতে পারি। কিন্তু পূর্বে কি কপি বা কাট করেছি সেই সমস্ত তথ্য দেখতে পারি না।

তবে উইন্ডোজ ১২ তে আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কি কপি ও কাট করেছি সেই ইতিহাস দেখতে পাবো এবং যেকোন একটি পেষ্ট করতে পারবো। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা মুছে যাবে।

স্নিপ ও স্কেচ (Snip & Sketch) আপগ্রেড

উইন্ডোজ ১২ তে পরবর্তী আপডেট হল স্নিপ এবং স্কেচ। এই বৈশিষ্ট্যটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আপনাকে এইমাত্র ক্যাপচার করা স্ক্রিনশটটিতে সম্পাদনা বা স্ক্রাইবল করতে দেবে৷ ক্রপিং, মার্কিং, স্ক্রিবলিং, এমনকি আপনি ক্রসবার এবং বো ব্যবহার করেও আঁকতে পারেন স্ক্রিনশটটিতে।

এই বৈশিষ্ট্যটি কিভাবে ব্যবহার করবেন তাও খুব সহজ, আপনাকে একটি স্ক্রিনশট করতে শুধুমাত্র Windows + Shift + S চাপতে হবে। এর পরে, অনুগ্রহ করে ফ্লোটিং উইন্ডোতে প্রদর্শিত ছবিটিতে ক্লিক করুন। তারপর আপনি স্বাদ অনুযায়ী স্ক্রিনশট ফলাফল সম্পাদনা এবং স্কেচ করতে পারবেন।

ল্যাপটপ থেকে মেসেজ পাঠানো

উইন্ডোজ ১২ আপডেটে, আপনি ল্যাপটপ থেকে সরাসরি এসএমএস পাঠাতে ও পড়তে পারবেন। উইন্ডোজ ১২-এর এই সংস্করণটি আপনাকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সাথে একটি ল্যাপটপে সিঙ্ক্রোনাইজ করতে দেবে।

সুতরাং, আপনি অবিলম্বে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা এসএমএস দেখতে পারেন এবং ল্যাপটপ ব্যবহার করে উত্তর দিতে পারবেন। শুধু এসএমএস দেখা এবং পাঠানো নয়, আপনি আপনার স্মার্টফোনে থাকা ছবিও দেখতে পারবেন। সুতরাং, আপনি যখনই একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে একটি নতুন ছবি তুলবেন, তখনই আপনি ল্যাপটপের মাধ্যমে ছবিটি দেখতে পারবেন।

যাইহোক, এই বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়ার জন্য, আপনাকে অবশ্যই একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে মাইক্রোসফট লঞ্চার বা আপনার ফোন কম্প্যানিয়ন অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল করতে হবে। তারপর, ল্যাপটপে ব্যবহৃত মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।

উইন্ডোজ ১২ সার্চ প্রিভিউ (Preview)

উইন্ডোজ ১২ তে অনুসন্ধানের চেহারা যা পূর্বরুপ যোগ করার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি সার্চ বারে নির্দিষ্ট কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করেন তাহলে আপনার অনুসন্ধানের ফলাফলগুলোর একটি পূর্বরুপ দেখাবে।

বোঝার জন্য উদাহরনসরুপ, আপনি যদি একটি গানের শিরোনাম লিখে সার্চ করেন তাহলে সার্চ করা গানের শিরোনামটির সম্পূর্ণ ফাইল লোকেশন এবং আরও অন্যান্য তথ্য দেখাবে। এটি শুধু গানের ক্ষেত্রেই নয়, অ্যাপস সহ আরও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখাবে।

মাইক্রোসফট এজ (Microsoft Edge) আপডেট

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১২ তে আপগ্রেড যুক্ত রয়েছে, যেখানে মাইক্রোসফট এজের সেটিং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তা সহজে খুজে পেতে পারে। মাইক্রোসফট এজের ভিডিওগুলো সয়ংক্রিয়ভাবে প্লে হবে কিনা তা সেট করতে পারবেন অটো প্লে মিডিয়া নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে।

আবার মাইক্রোসফট এজের সাহাজ্যে পিডিএফ পড়ার সময় সাথে নোট ও টীকা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে, যেমন আপনি ইবুক পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন কোন বিষয় নোট করে রাখতে পারবেন।

এইচডিআর (HDR) সাপোর্ট

মাইক্রোসফট ১২ তে এখন HDR সাপোর্ট করবে। এটা সবথেকে বেশি সাহায্য করবে যখন আপনি কোন বড় মনিটর ব্যবহার করবেন। যেমন আপনি এইচডিআরের (HDR) সাথে ৪কে (4k) ভিডিও দেখতে পারবেন।

আপনি settings > Display > Windows HD color now includes additional options for setting the HDR in Windows 12 এভাবে সেটি সচল করতে পারবেন। এটি দেখাবে যে ডিসপ্লেতে আপনি আপনার ভিডিও ষ্ট্রিমিং, গেমস এবং এপ্লকেশনের জন্য সম্মতি দিচ্ছেন।

টাস্ক ম্যানেজারে পাওয়ার ব্যবহার

উইন্ডোজ ১২ আপডেটে পাওয়ার ব্যবহারের ট্রেন্ডটি যুকত করা হয়েছে পাওয়ার ব্যবহারের টাস্ক সেকশনে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ বা নিম্ন শক্তি ব্যবহার করে এমন অ্যাপ্লিকেশনগুলো দেখতে পারবেন।

যার ফলে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারিকে কোন কোন অ্যাপ্লিকেশন ডাউন করে ফেলে তা দেখে রিমুভ করতে পারবেন। এতে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি সুরক্ষিত থাকবে আরও বেশিদিন।

Related Topic:
Windows 12 release Date
Windows 12 Feature
উইন্ডোজ ১২ কবে রিলিজ হবে
উইন্ডোজ ১২ রিলিজ ডেট
উইন্ডোজ ১২ তে কি কি থাকবে নতুন
উইন্ডোজ ১২ সম্পর্কে

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?