গ্রহাণুর আক্রমণ কি

গ্রহাণুর আক্রমণ কি

সৌর জগত সৃষ্টির সময় থেকেই গ্রহাণু তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এরকম গ্রহাণুর অসংখ্য ও অগণিত। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণুর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। এসব গ্রহাণুর আকৃতি বেশিরভাগই ছোট।

গ্রহাণুর আক্রমণ কি

কোন গ্রহের সাথে অন্য একটি গ্রহাণুর সংঘর্ষ অথবা পৃথিবীর সাথে অন্য কোন গ্রহানুর সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা বা সংঘর্ষের ঘটনাকে গ্রহাণুর আক্রমণ বলে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বিজ্ঞানীরা বলেন কোন গ্রহের সাথে অন্য গ্রহের সংঘর্ষের ঘটনা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। ৪৫০ কোটি বছর আগের যখন পৃথিবী, মঙ্গল এসব গ্রহ সৃষ্টি হয় তখন গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষের কারণে গ্রহগুলোর আকার বড় হয়েছে। গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষের কারণে আজকের পৃথিবী এত বড় হয়েছে।

বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার টেলিস্কোপের সাহায্যে এসব গ্রহণের ওপর নজর রাখা কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। কারণ আপনি ১০ হাজার বা ১০ লক্ষ গ্রহাণুর উপর নজর রাখবেন? কতজন মানুষ দিয়ে করবেন এবং কত টাকা খরচ হবে? এত টাকা কে দিবে? কোথা থেকে আসবে? তাই বলা যায় সকল গ্রহণুর ওপর নজর রাখা অসম্ভব ব্যাপার।

রাশিয়াতে গত শতাব্দীতে একটি গ্রহাণু পড়েছিল যা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মতো আঘাত হেনেছিল। যার ফলে একটি বন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

তাছাড়া প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে বড় একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল, যার ফলে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পৃথিবীর সাথে গ্রহাণুর সংঘর্ষ বা আক্রমণের সম্ভাবনা কতটুকু তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আগামী ১০ বছরে বা ১০০ হাজার বছরে বা ১০০০ বছরে এরকম আরো কোন ঘটনা ঘটবে কিনা তা বলা খুবই কঠিন কাজ।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করার জন্য নাসা একটি যান আবিষ্কার করেন তার নাম ডার্ট। ডাইমরফোস নামের গ্রহাণুর গতিপথ পাল্টানোর জন্য নাসা ডার্ট নামের একটি যন্ত্র পাঠিয়েছে। ডাইমরফোসের আকৃতি ১৮৩ মিটার চওড়া আর ডার্টের আকৃতি ১৯ মিটার। সুতরাং এত বড় গ্রহাণুকে এত ছোট একটি মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা দিলে তার গতিপথ কতটা পরিবর্তন হবে তা বলা কঠিন।

মহাকাশে গ্রহাণুর আকৃতি কত বিশাল তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তাই বিশালাকৃতির এই গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করা অসম্ভবই বলা যায়। আর পৃথিবীতে যদি এরকম বিশাল আকৃতির গ্রহাণুর আঘাত হানে বা আক্রমণ করে তাহলে পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকবে কিনা তা বলা কঠিন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?