সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত

গুছিয়ে কথা বলার জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত

আমাদের অনেকেরই কখনো না কখনো অনেকের মাঝে বক্তব্য রাখতে হয়। এ ধরনের বক্তব্য রাখতে আমরা অনেক সময় ইতস্ত বোধ করি। 

কারণ বক্তব্য রাখার জন্য যে ধরনের এক্সপেরিয়েন্স দরকার, ঐ এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে ইতস্ত বোধ করাটাই স্বাভাবিক। 

আমাদের পরিবারের মাঝে বা বন্ধুদের মাঝে বা অফিসে কোন মিটিং এ বক্তব্য রাখা কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু নয়। জীবনের প্রথম যখন আপনি বক্তব্য রাখবেন তখন দেখবেন যে আপনি অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছেন। যা যা ভেবেছিলেন বলবেন তার সবকিছুই সামনের অডিয়েন্স দেখে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে আপনার মন থেকে। 

এবং অনেক সময় দেখা যায় ভয়ে আপনি ঘামতে শুরু করলেন এরকমটা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন আপনি বক্তব্য চালিয়ে যাবেন ওই সময়ে কিভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন তা কিন্তু একটি বড় ব্যাপার। 

কারন আপনার কথা যদি অগোছালো থাকে তাহলে অনেকেই আপনার বক্তব্য শুনতে পছন্দ করবে না আগ্রহ প্রকাশ করবেনা। তাই যখন আমরা কোনো বক্তব্য দিব তখন যেন ওই বক্তব্য সাজানো-গোছানো থাকে সেই চেষ্টাই করবো। 

তাই আজকের পোষ্টে আপনাদের কয়েকটি টিপস শেয়ার করবো যা সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেকটাই উপকারে দিবে

শোনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা

আপনি যখন বক্তব্য সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে চাইবেন তখন সবথেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো আপনাকে শোনার দক্ষতা বাড়াতে হবে। 

যখন আপনি অন্যজনের কথা শুনবে না অন্যজনের বক্তব্য শুনবেন তখন কিন্তু আপনার দক্ষতা অটোমেটিক বৃদ্ধি পাবে। এমনকি আপনি ঐখান থেকে শিখতে পারবেন। যে আসলে নিজেকে আরও কিভাবে উন্নত করা যায়। এজন্য বিজ্ঞজনরা প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অন্য জনের কথা শোনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা

আসলে প্রায় সব জায়গাতেই পড়ার কথা বলা হয়ে থাকে। যদি আপনি পড়তে না পারেন তাহলে কিন্তু আপনি অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হবেন। তাই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পড়তে হবে। 

পড়ার কোনো বিকল্প নেই সেটা আপনি যে দিক থেকেই বলেন না কেন। বই পড়ার মাধ্যমে আপনি নিজের ভেতর কে জাগ্রত করতে পারবেন। এবং অবশ্যই গুছিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বইপড়া কিন্তু খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে

কোন কিছু করার ক্ষেত্রে আপনার নিজেকে বুঝাতে হবে যে আপনি যেটি করতে চান এইটি ভালো এবং আপনি এই কাজটি ঠিকমতো করতে পারবেন। আর এইটাই হলো আত্মবিশ্বাস। 

এধরনের আত্মবিশ্বাস আপনার মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আপনি কিন্তু গুছিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে খুব বেশি একটা ভালো করতে পারবেন না। আসলে সব কাজেই আত্মবিশ্বাস দরকার আত্মবিশ্বাস ছাড়া কাজে সফলতা পাওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে যায়।

আই কন্টাক্ট ঠিক রাখা

আপনি যখন বক্তব্য রাখবেন বক্তব্য রাখার সময় আপনার অডিয়েন্সের দিকে, মানে সামনের দিকে অথবা যারা আপনার কথাটি শুনতেছে তাদের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখতে হবে। 

আর আপনি যদি এই কাজটি না করেন অর্থাৎ যার সাথে কথা বলতে চান তার দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলেন তাহলে এটা এক ধরনের অভদ্রতার শামিল হয়ে যায়। 

যারা আপনার বক্তব্য শুনবে তারা কিন্তু একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। যদি আপনি ঠিকমতো আয় কন্ট্রাক্ট ঠিক না রাখতে পারেন।

পরিস্থিতির উপর বক্তব্যের বিষয়বস্তু পরিবর্তন

এটাতো অবশ্যই যে আপনি আপনার অডিয়েন্সের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। এবং এর পাশাপাশি আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হল আপনি যেই স্থানে বক্তব্য রাখছেন ওই স্থানের যে পরিস্থিতি রয়েছে ওই পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে আপনার বক্তব্যের স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

নেতিবাচক কথা বলা যাবে না

বক্তব্যে আপনি কখনোই নেতিবাচক কথা বলতে পারবেন না এমনকি কাউকে আঘাত করেও কথা বলতে পারবেন না। যদি আপনার সামনে আপনার শত্রু থাকে তারপরেও আপনি কিন্তু ওই সময়টাতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ঠান্ডা মাথায় গুছিয়ে কথা বলতে হবে। 

নিজে নিজে কথা বলার প্র্যাকটিস করতে হবে

আপনি যখন সময় পাবেন তখন নিজেকে নিয়ে কথা বলার প্র্যাকটিস করবেন এমনকি আপনি কোর্স করতে পারেন। সবথেকে ভালো হয় একটা কোর্স করার পাশাপাশি আপনি প্রচুর পরিমাণে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাবেন। এতই আপনার আস্তে আস্তে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি আরো বেশি গুছিয়ে কথা বলার জন্য আত্মবিশ্বাসী হবেন। 

শব্দচয়নের খেয়াল রাখা

গুছিয়ে কথা বলার জন্য শব্দচয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি কোন পরিস্থিতিতে কখন কোন কথাটি বলবেন তা কিন্তু আমি আগেই বলেছি। এবং একই সময়ে পরিস্থিতির বিবেচনা করে সেটিকে গুরুত্বের সাথে রেখে আপনাকে শব্দ চয়ন করতে হবে। 

তাড়াহুড়া করা যাবে না

আপনি যখন বক্তব্য রাখবেন অথবা কথা বলবেন তখন কখনোই তাড়াহুড়া করবেন না। কারণ আপনি যখন তাড়াহুড়া করে কথা বলবেন তখন আপনি অনেক ক্ষেত্রেই এলোমেলো করে ফেলবেন। তাছাড়া যে আপনার কথা শুনবে সেটাইতো খুব দ্রুত কথা বলার জন্য পরবর্তীতেও বুঝতে না পারে। 

এজন্য আপনাকে বক্তব্য রাখার সময় স্লো মোশনে কথা বলতে হবে।

সর্বশেষ হবে যে কথাটি বলতে চাই তা হল আপনাকে প্রচুর পরিমাণে অনুশীলন করতে হবে এবং অধ্যায়ন করতে হবে। নিজেকে সবসময় পুশ করতে হবে যে আপনি ভালো বক্তব্য রাখতে পারবেন এবং সবাই আপনার বক্তব্য শুনে ভালো বলবে। 

ধীরে ধীরে আপনি আস্তে আস্তে করে নিজেকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যেতে পারবেন যদি প্রচুর পরিমাণে অধ্যায়ন এবং অনুশীলন করেন। আশা করি এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারলে আপনি সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?