গোসল ফরজ হওয়ার কারণ

আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে আমরা প্রতিদিনই গোসল করি। আমরা মাঝে মাঝে দিনে দুইবারও গোসল করে আবার অনেক ব্যস্ততার কারণে অনেকের গোসল করা হয় না। 

তবে এমন কিছু কারণ আছে যে কারণে আপনাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে। নাপাক অবস্থা থেকে পাক পবিত্র হওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক যে গোসল করতে হয় তাই ফরজ গোসল।

ইসলামে ফরজ গোসলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেউ যদি ফরজ গোসল আদায় না করলে অথবা সঠিকভাবে আদায় না করলে সে নাপাক থাকবে। 

নাপাক অবস্থায় কোন ইবাদত করলে আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না উল্টো শাস্তি পেতে হবে। আজকে আমরা গোসল ফরজ হওয়ার কারণ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে (সূরা মায়েদা:৬) বলেছেন, তোমরা যদি নাপাক বা অপবিত্র থাকো তবে নিজেদের শরীরকে ভালোভাবে পবিত্র করে নাও। 

যে সকল কারণে গোসল ফরয হয়

স্বপ্নদোষ হলে

ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অথবা জেগে থাকা অবস্থায় শরীরের উত্তেজনা সঙ্গে বীর্যপাত হলে ওই ব্যক্তির পর গোসল করতে হয়। 

ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে তা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু আপনি পান আর না পান স্বপ্নদোষ হলে আপনাকে ফরজ গোসল করতেই হবে।

স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে

সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ফরজ গোসল করতে হয়। সহবাসের সময় স্ত্রীর গোপনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করার পর বীর্যপাত হোক আর না হোক উভয়ের উপরে গোসল ফরজ হয়ে যায়।  

ঋতুস্রাব বা মাসিক বা নেফাস থেকে মুক্ত হলে

নারীদের ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরজ হয়ে যায়। এছাড়া নেফাস বা সন্তান প্রসব করার পর রক্ত বন্ধ হলে ওই নারীর উপর গোসল ফরজ হয়ে যায়।

ফরজ গোসল করার নিয়ম

সাধারণত আমরা যেভাবে গোসল করবে এভাবে প্রথম করলে ফরজ গোসল আদায় করা হয় না। ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক নিয়ম মেনে ফরজ গোসল করতে হয়।

মনে মনে গোসলের নিয়ত করে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে গোসল শুরু করা। কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়ত করা যাবে না। আর টয়লেট ও গোসলখানা একসাথে হলে বিসমিল্লাহ বলতে হবে না।

দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধোয়া

কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং পুরো শরীরে এমন ভাবে ধোয়া যেন চুল পরিমান জায়গা শুকনো না থাকে।

বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা। এরপর শরীরের অন্য কোন জায়গায় বা পোশাকে যদি নাপাক লেগে থাকে তাহলে সেই জায়গা ভালো করে ধোয়া। 

এরপর ওযু করা কিন্তু নামাজের মত পা ধোয়া যাবে না। ওযু শেষ হওয়ার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।

গোসল করার সময় আগে ডান পাশে উপরে বাম পাশে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুতে হবে। মাথার চুল, বগল, নাভি ও অন্যান্য জায়গায় ভালোভাবে কুঁচকে পানি দিয়ে ধুতে হবে।

সবশেষে পা ধুতে হবে। যেখানে গোসল করেছেন সেখান থেকে উঠে ভালোভাবে দুই-তিনবার পা ধুতে হবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?