দেশে কুকুর খামার করে স্বাবলম্বী অস্ট্রেলিয়া থেকে স্নাতকোত্তর করা সজল

কিশোরগঞ্জের সজল শখের বশে ছোটবেলা থেকেই ছোটবেলা থেকেই পুষতেন কুকুর।

সেই থেকেই বাণিজ্যিকভাবে ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির বিভিন্ন বিদেশি কুকুর লালন পালন করে দেশে লাভবান ভৈরব চন্ডিবের কামাল সরকার বাড়ির সন্তান রাব্বি সজল। তার শৈশব কৈশোর কেটেছে রাজধানী ঢাকার গুলশানে।

ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে অস্ট্রেলিয়াতে স্নাতকোত্তর করেছেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এসে গ্রামের বাড়ি ভৈরব চন্ডিবের এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিদেশি জাতের কুকুরের খামার। 

দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যতিক্রমী কুকুরের খামার করে তিনি বেশ লাভবান। তার মালিকাধীন আইকন বাংলা খামারে দেশি সরাইল, জার্মান শেপার্ড, ডোবারম্যান, কাউকেশান শেপার্ড, সাইবেরিয়ান হুস্কি, ফ্রেন্স মাস্তিফ, গ্রেড ডান, বাল মাস্তিফ, সেইন্ট বেনার্ড, ক্যান কর্স, ব্রিটিশ বুলডগ ইত্যাদি প্রজাতির কুকুর উৎপাদিত হচ্ছে। আর এইসব তিনি উচ্চদামে বিক্রি করছেন।

অস্ট্রেলিয়া ফেরত খামারি ফোসাহাত রাব্বী স্বজল জানান, ছোট বয়স থেকে কুকুরপ্রীতি থাকলেও শখের বশে একদিন পেশায় রূপ নেবে এটা কখনো তিনি ভাবেননি। তিনি জন্মের পর থেকেই তাদের পরিবারে কুকুরের লালন-পালন দেখেছেন। তাদের ঢাকার বাসায় দেশি-বিদেশি প্রজাতির ৩-৪টি কুকুর সব সময়ই থাকত। ফলে শিশুকাল থেকেই কুকুরের সাথে আমার সখ্যতা গড়ে ওঠে।

২০১৮ সালে তিনি তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। তখন চাকরি-বাকরির কথা চিন্তা না করে গড়ে তুলেন কুকুরের খামার। তিনটি কুকুর দিয়ে ঢাকার গুলশানের বাসায় প্রথমে খামার গড়ে তুলেন। সেই খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে থাকলে তিনি খামারটি গ্রামের বাড়ি ভৈরবে স্থানান্তর করেন।

বর্তমানে তার খামারে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫টি কুকুর উৎপাদিত হচ্ছে। সেসব কুকুর বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতিটি কুকুর প্রজাতি ভেদে ২০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই খামার গড়ে তিনি বেশ লাভবান।

খামারের পরিচর্চাকারী নারী জয়তি বলেন, তিন বছর হলো এই ফার্মে কাজ নিয়েছি। কুকুরকে সন্তানের মতো করেই লালনপালন করে থাকি। তাদেরকে সন্তানের মতোই ভালোবাসা দিতে হয়। তাহলে তারা আমাদের সেই রকমভাবেই ভালোবাসা দেয়।

তারা পোষা কুকুরগুলিকে মেরুন, আলবার্ট, পেপসি, ফানটম, ডেজলি, পাম্পপম্প, লিও, টুইঙ্কেল, বুশ, সারাবি, লাইলি, ক্যান্ডি, বিস্কুট, কালি, লাল্টু, বল্টু, রিমি ইত্যাদি নামে ডেকে থাকেন। নিজেদের নাম শুনলেই ওরা ছুটে আসে ও তাদের নির্দেশনা মানে।

ভৈরব পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর মোমেন মিয়া জানান, তার গ্রাম ও ওয়ার্ডে এমন একটি ভিন্ন ধরনের খামার গড়ে তোলায় তিনি বেশ আনন্দিত। ব্যক্তিগত এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে যেকোনো সহযোগিতা তিনি করবেন এই খামারের জন্য।

স্থানীয় মুর্শিদ-মুজিব উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা ইতিপূর্বে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির খামারের কথা শুনেছি, দেখেছি। কিন্তু এই প্রথম কুকুরের খামার দেখলাম। কুকুরের খামার কেউ করবেন, এমনটি কখনও ভাবিনি। বর্তমানে এই খামারটি আমাদের এলাকার বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিরিনা খাতুন জানান, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী খামার। রাব্বী ছোট থেকেই কুকুরপ্রীতি ছিলেন। শখের বশে ভৈরবে একটি ব্যতিক্রমী কুকুরের খামার গড়ে তুলেছেন ফোসাহাত রাব্বী স্বজল। এখন কুকুরের ফার্মটি বেশ লাভজনক।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?