কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়

গরু বাংলাদেশের অন্যতম একটি গৃহপালিত প্রাণী। আমাদের দেশের অনেক মানুষ গরু পালনের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা সবাই গরুর মাংস, দুধ এবং অন্যান্য অঙ্গ পতঙ্গ দিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি। আমাদের দেশে কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় আজকে সে ধরনের গাভীর নাম আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের উন্নত জাতের গাভী রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে উন্নত জাতের দেশি এবং ক্রস গাভী আমাদের দেশে পাওয়া যায় সেই সকল গাভীর নাম নিচে দেয়া হলোঃ

উন্নত দেশী গাভীর

জন্মের সময় এদের ওজন ১৬ থেকে ১৮ কেজি হবে।

বয়ঃপ্রাপ্তি সময়কাল ৯৮০ থেকে ১১২৬ দিন

দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ২ থেকে ২.৫ লিটার।

দুধ উৎপাদনের সময়কাল ১৭০ দিন থেকে ২২৭ দিন পর্যন্ত হয়।

ফ্রিজিয়ান ক্রস গাভী

জন্মের সময় এদের ওজন ১৯-২৪ কেজি।

বয়ঃপ্রাপ্তি সময়কাল ৯৮০ থেকে ১১২২ দিন।

দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ৩.৫ থেকে ১২ লিটার।

দুধ উৎপাদনের সময়কাল ২৯৫ দিন থেকে ৩৩০ দিন পর্যন্ত হয়।

শাহীওয়াল ক্রস গাভী

জন্মের সময় এদের ওজন ১৬-১৮ কেজি।

বয়ঃপ্রাপ্তি সময়কাল ৯৮০ থেকে ১১২৬ দিন।

দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ২ থেকে ২.৫ লিটার।

দুধ উৎপাদনের সময়কাল ১৭০ দিন থেকে ২২৭ দিন পর্যন্ত হয়।

জার্সী ক্রস গাভী

জন্মের সময় এদের ওজন ১৭-২০ কেজি।

বয়ঃপ্রাপ্তি সময়কাল ৮৫৫ থেকে ১১০১ দিন।

দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ২.৫ থেকে ৫ লিটার।

দুধ উৎপাদনের সময়কাল ২৮০ দিন থেকে ৩০৫ দিন পর্যন্ত হয়।

সিন্ধি ক্রস গাভী

জন্মের সময় এদের ওজন ১৬-২২ কেজি।

বয়ঃপ্রাপ্তি সময়কাল ১০৫৮ থেকে ১১২৪ দিন।

দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ৩.৫ থেকে ৭ লিটার।

দুধ উৎপাদনের সময়কাল ২৫৮ দিন থেকে ২৮০ দিন পর্যন্ত হয়।

ভালো দুধাল গাভী চিনার উপায়

বৃহৎ আকৃতির দেহ, ঝুড়িশিথিল পা, চওড়া কপাল, ছোট মাথা, পাতলা চামড়া, বউ বেশ গভীর ও প্রশস্ত এবং দেহে অতিরিক্ত মাংসল ও চর্বি হবে না।

ভাল জাতের গাভী পিছন দিয়ে দেখতে গোঁজাকৃতির হবে। গাভীর পাছা হবে চওড়া এবং পেছনের পা দুটির মধ্যে গেপ থাকবে।

গাভীর ওলান হবে বেশ বড়, চওড়া, মেদহীন এবং কক্ষগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।বাট গুলো প্রায় একই মাপের হবে এবং একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব সমান হবে।

গাভীর পেটের নিচে ওলানের সাথে সংযুক্ত শাখা-প্রশাখা যুক্ত দুধের শিরা থাকবে।

যে সকল দাবী থেকে বেশি দুধ পাওয়া যায় অর্থাৎ দুগ্ধবতী গাভী তারা হবে শান্ত এবং ধীর-স্থির মাতৃ ভাবাপন্ন প্রকৃতির।

দুগ্ধবতী গাভীর প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত বাচ্চা এবং দুধ দিয়ে থাকে।

গাভী থেকে স্বাস্থ্যসম্মত দুধ দোহনের পদ্ধতি

স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থেকে গাভী হতে দুধ সংগ্রহ করতে হবে।

আরামদায়ক এবং গাভীকে শান্ত অবস্থায় রেখে দুধ দোহন করতে হবে।

পরিষ্কার পানি দিয়ে গাভীর ওলান ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং ধোয়ার পর ভাল কাপড় দিয়ে মুছতে হবে।

যে ব্যক্তির দুধ দোহাবেন অর্থাৎ গ্রহণকারী হাত ধুয়ে নিতে হবে।

দুধ রাখার পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দুধ দোহনের ভালো সময় হল সকাল ৮ টা এবং বিকাল ৫ টার মধ্যে।

দুধ দোহনের সময় খেয়াল রাখবেন গাভীর ওলানে যেন বাছুরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ থাকে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?