কোন নবীর উপর কোন নামাজ ফরজ হয়েছিল

সর্ব শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। নামাজ ছাড়া কোন মুসলমানের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

কেয়ামতের দিন নামাজের কথাই সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শবে মেরাজের সময় আল্লাহ পাকের কাছ থেকে  আমাদের জন্য ৫০ ওয়াক্ত নামাজের পরিবর্তে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার নিয়ে এসেছিলেন।

আর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ফরজ করা হয়েছে। আজকের আলোচনায় আমরা নামাজের ইতিহাস সম্পর্কে জানাবো-

ফজর নামাজ ফরজ হয়েছিল যে নবীর উপর 

আল্লাহ তাআলা যখন আদম (আঃ) কে জান্নাত থেকে বের করে দুনিয়ায় পাঠান তখন আসরের ওয়াক্ত ছিল। দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসলো। 

আর হযরত আদম (আঃ) জীবনে কোনদিন অন্ধকার দেখেননি। কারণ তিনি ছিলেন জান্নাতে আর জান্নাত কোনদিন অন্ধকার বা রাত হয় না। আর তাই তিনি অন্ধকারে ভয়ঙ্কর রকমের ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেলেন। 

সেইসাথে ভয়ানক জীব জন্তুর ভিশন তর্জন গর্জন শুনতে পেলেন। সারারাত ভয়াবহ অন্ধকারে কাটালেন। তারপর যখন সকাল হলো আদম (আঃ) এর মনে আশার সঞ্চার হলো। 

হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে সুবেহে সাদিকের সুসংবাদ দিলেন হযরত আদম (আঃ) কে। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। হযরত জিবরাঈল (আঃ) বললেন হে আদম উঠুন, মহান আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। 

এরপর সাথে সাথে হযরত আদম (আঃ) দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। অন্ধকার দূরীভূত হওয়ার জন্য এক রাকাত এবং আলো প্রকাশিত হওয়ার কারণে আরেক রাকাত পড়েছেন। আর এটিই ছিল মানবজাতির প্রথম নামাজ। 

নবী করিম (সাঃ) কে এক সাহাবী আনসারী জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন নবী সর্বপ্রথম ফজরের নামাজ পড়েছেন? প্রতিউত্তরে নবী করিম (সাঃ) বললেন হযরত আদম (আঃ) সর্বপ্রথম ফজরের নামাজ পড়েছিলেন।

জোহর নামাজ ফরজ হয়েছিল যে নবীর উপর

মহান আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন ওনার মনে চারটি বিষয় এসেছিল। 

১) কিভাবে তিনি আল্লাহ তাআলার কুরবানীর আদেশ পালন করবেন। 

২) আর উনার পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) ওই ছিলেন উনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আর উনি কিভাবে তা পালন করবেন। 

৩) হযরত ইসমাইল (আঃ) এর মাতা হযরত হাজেরা (আঃ) কে কি উত্তর দিবেন? ৪) হযরত বিবি হাজেরা (আঃ) জঙ্গলের মাঝে একা একা কিভাবে থাকবেন।

আল্লাহ তাআলার হুকুমে হযরত ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে বেহেশত থেকে আনা দুম্বা কোরবানি হয়েছিল। হযরত ইসমাইল (আঃ) কে জীবিত দেখে এবং সব সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামাজ পড়েছিলেন। আর আল্লাহ তা’আলা উক্ত চার রাকাত নামাজ কে উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ফরজ করে দিয়েছেন।

আসর নামাজ ফরজ হয়েছিল যে নবীর উপর 

হযরত ইউনুস (আঃ) হে আল্লাহ মাছের পেটে কায়েদ করে রেখেছিলেন। ওই সময় নীল দরিয়া পানির ভিতরে অন্ধকার ছিল। মাছের পেটের ভিতর আরো বেশি অন্ধকার ছিল। 

হযরত ইউনুস (আঃ) যেই মাছের ভিতরে ছিল সেই মাছকে কেয়ার একটি বিশাল আকৃতির মাছ খেয়ে ফেলেছিলো। আর এই সব সমস্যা সমাধানের জন্য সেই সময় হযরত ইউনুস (আঃ) একটি দোয়া পড়েন। 

দোয়াটি হলোঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। 

এর ফলে আল্লাহ তাআলা  ইউনুস (আঃ) নবীকে মাছের পেট থেকে বের করেন। আর তিনি মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামাজ পড়েন। 

আল্লাহ তাআলা এই চার রাকাত নামাজ ফরজ করে দিয়েছিলেন। সুতরাং হযরত ইউনুস (আঃ) সর্বপ্রথম এশার নামাজ পড়েছিলেন।

মাগরিব নামাজ ফরজ হয়েছিল যে নবীর উপর 

হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর পুত্র ছিলেন হযরত ইউসুফ (আঃ)। আর ইয়াকুব নবী ইউসুফ নবী থেকে দীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত আলাদা ছিলেন। কারণ হযরত ইউসুফ (আঃ) ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করেছিল। 

হযরত ইয়াকুব (আঃ) ওনার পুত্রের কষ্টে কাদতে কাদতে চক্ষুদ্বয় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিচ্ছেদের ৪০ বছর পর আল্লাহ তাআলা হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর উপর সদয় হন। 

হযরত ইউসুফ (আঃ) এর দূত তার জামা নিয়ে হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সামনে উপস্থিত হন। আর এই জামা তার মুখে লাগানো মাত্র তার যাবতীয় দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। 

এজন্য হযরত ইয়াকুব (আঃ) আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের জন্য তিন রাকাত নামাজ পড়েন। এরপর এই নামাজ ফরজ করে দেওয়া হয়েছিল আমাদের উপর। হযরত ইয়াকুব (আঃ) সর্বপ্রথম আসরের নামায পড়েছিলেন।

এশার নামাজ ফরজ হয়েছিল যে নাম নবীর উপর 

ফেরাউন তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে হযরত মুসা (আঃ) এর পিছু নিয়েছিল। মুসা (আঃ) যখন ওনার সঙ্গী সাথী নিয়ে নীল নদ পাড়ি দিয়েছিলেন। এরপর যখন ফেরাউনের দলবল নীল নদের মাঝখানে আসে তখন আল্লাহ তাআলা দুই পাশের পানি একসাথে মিশিয়ে দিয়ে ফেরাউন কে ধ্বংস করে দেন। 

আর এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় হযরত মুসা (আঃ) মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া উদ্দেশ্যে চার রাকাত নামাজ পড়েছিলেন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?