টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম

টিন বা টিআইএন (TIN) এর পূর্ণরূপ হল  “ Taxpayer Identification Number ”

বাংলাদেশের সাধারণত টিন নম্বরটি ১২ ডিজিট সংখ্যার হয়ে থাকে। টিন নাম্বার হল একটি বিশেষ নম্বর যার সাহায্যে বাংলাদেশের করদাতাদের সনাক্ত করা হয়। টিন সার্টিফিকেট মূলত বাংলাদেশের করদাতাদের নাম্বারটি বহন করে থাকে। 

বাংলাদেশের যারা নিয়মিত কর প্রদান করে এবং প্রায় সকলের কাছে প্রায় টিন সার্টিফিকেট শব্দটি খুবই পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হয়। আয়কর এরকম সকল নাগরিককে নিজস্ব টিন সার্টিফিকেট থাকা জরুরি।

কিন্তু টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার সময় আমাদের অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আজকে কিভাবে সহজে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা যায় এবং করতে কি কি প্রয়োজন সে সম্পর্কে আলোচনা করব। 

টিন সার্টিফিকেট করার জন্য যা যা লাগে

  • আবেদনকারীর নাম (এনআইডি কার্ড অনুযায়ী)।
  • আবেদনকারীর এনআইডি কার্ড ও এনআইডি কার্ডের নাম্বার।
  • আবেদনকারীর পিতা-মাতার নাম।
  • আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রীর নাম (Optional).
  • আবেদনকারীর বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা।

বর্তমানে টিন সার্টিফিকেট অনলাইনে তৈরি করা হয় এবং এর তথ্য গুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে যা ই-টিন নামে পরিচিত। এমনকি পুরনো টিন সার্টিফিকেট গুলোকে বর্তমানে ই-টিন এর অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা তেমন কঠিন কাজ নয়।

টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম

১ নম্বর ধাপ 

প্রথমে বাংলাদেশর রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে যেতে হবে টিন সার্টিফিকেট অনলাইনে তৈরি করার জন্য।

Link :-  https://secure.incometax.gov.bd/Registration/Index

অথবা এই লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করার পৃষ্ঠায় চলে যাওয়া যাবে। সেখানে থাকা উপরের Register অপশনটিতে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করা পৃষ্ঠায় নিয়ে যাওয়া হবে।

২ নম্বর ধাপ

এখানে আবেদনকারীকে একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে । তবে এখানে এই পৃষ্ঠার পুরোটা ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।

প্রথমে ‘User ID’ ঘরে একটি ইউনিক ইউজার আইডি ব্যবহার করতে হবে যা পূর্বে ব্যবহৃত হয়নি। এরপর আপনাকে Password এর ঘরে স্ট্রং পাসওয়ার্ড লিখতে হবে কমপক্ষে ৪ সংখ্যার।

এখন আপনার নিরাপত্তার জন্য একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর দিতে হবে। যেন আপনি ভবিষ্যতে আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে এই প্রশ্ন এবং উত্তরের মাধ্যমে আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারেন।

এখানে মোট ১৯ টি প্রশ্ন দেওয়া থাকবে এবং সেখান থেকে একটি সিলেক্ট করে তার যেকোনো উত্তর দিয়ে রাখতে হবে। আবার Other অপশন এ ক্লিক করে আপনি নিজের মত প্রশ্ন তৈরি করেও তার উত্তর সেট করে রাখতে পারবেন।

এরপর আবেদনকারীকে তার দেশের নাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিচের ঘরে তার মোবাইল নাম্বার লিখতে হবে। মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই একটি একটিভ মোবাইল নম্বর হতে হবে। চাইলে নিচের ঘরে ইমেইল ও দিতে পারেন।

এরপর নিচে দেওয়া ছবি থেকে ক্যাপচায় যা লেখা আছে সেগুলো Verification letter এর ঘরে লিখতে হবে।

সবকিছু সম্পন্ন হলে এরপর আবেদনকারীকে রেজিস্ট্রার (Register) অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৩ নম্বর ধাপ 

এরপর আপনার কাছে একটি এক্টিভেশন কোড চাওয়া হবে। এক্টিভেশন এর জন্য আপনি পূর্বে যে নাম্বার দিয়েছিলেন সেই নাম্বারে এসএমএস এর মাধ্যমে এক্টিভেশন কোড পাঠানো হবে। মোবাইল থেকে এসএমএস এর মাধ্যমে কোডটি নিয়ে খালি ঘরে বসিয়ে অ্যাক্টিভ (Active) বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৪ নম্বর ধাপ 

এরপর আপনার প্রয়োজনীয় একাউন্ট চালু হয়ে যাবে। এবং পূর্বে যেই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট করেছেন তার মাধ্যমে পুনরায় লগইন করতে বলবে। আপনি পূর্বে দেওয়া ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্টে লগইন করুন।

৫ নম্বর ধাপ 

লগইন করার পর আপনার সামনে একটি পৃষ্ঠা ওপেন হবে। সেখানে বাম দিকে দেখবেন লেখা আছে Tin Application । সেই অপশনটিতে আপনাকে ক্লিক করতে হবে।

৬ নম্বর ধাপ

এবার আবেদনকারীকে টিন সার্টিফিকেট এর জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তার জন্য পূর্বে বলেছিলাম কিছু তথ্য প্রয়োজন হবে। করদাতা ব্যক্তিগত পর্যায়ে করতে চাইলে ‘Individual’ নির্বাচন করতে হবে।

অথবা কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী ‘Company’ বা ‘Partnership Firm’ নির্বাচন করতে হবে। অথবা যদি ধরন অনুযায়ী অন্য কিছু হয় তাহলে তা নির্বাচন করতে হবে।

  • এরপরের ঘরটিতে আপনাকে প্রথম ঘর অনুযায়ী কোন আইডি নাম্বারের মাধ্যমে আপনি টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে চান তা নির্বাচন করতে হবে। এটা এনআইডি, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছু হতে পারে।
  • তারপর নীচের ঘরে থাকা রেজিস্ট্রেশন এর ঘর থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন করার জন্য  ‘New Registration ‘ নির্বাচন করতে হবে।
  • এরপর আয় এর উৎস সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য প্রদান করে ‘ Go to next ‘ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।

৭ নম্বর ধাপ

এখানে আবেদনকারীর যাবতীয় সকল ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। যেখানে তথ্য হিসেবে  আবেদনকারীর নাম,  পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, স্বামী-স্ত্রীর নাম, বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। তাছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে এনআইডি কার্ডের নাম্বার বা ট্রেড লাইসেন্স এর নাম্বার ইত্যাদি ধরণের প্রয়োজনীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার লিখতে হবে। 

সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হলে এরপর Go to next বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে।

৮ নম্বর ধাপ 

এরপর তার পরের পৃষ্ঠায় আপনি যে সকল তথ্য দিয়েছেন তা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আরেকবার সুযোগ দেয়া হবে। এখান থেকে আপনি দেখতে পারবেন আপনার দেওয়া সকল তথ্যগুলো সঠিক আছে কিনা। এরপর নিচে দেওয়া ছোট্ট খালি বক্সটিতে ক্লিক করে টিক চিহ্ন দিতে হবে। “Submit Application” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে আবেদনটি জমা দিতে হবে।

৯ নম্বর ধাপ 

আগের ধাপগুলো শেষ করার পরে টিন সার্টিফিকেট এর আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে। যার পরবর্তী পৃষ্ঠাটিতে এনআইডি কার্ড বা অন্য কোনো পরিচয় পত্র থেকে নেওয়া তথ্য ও পূর্ববর্তী ধাপ গুলোতে দেওয়া তথ্যগুলো নিয়ে আবেদনকারী ছবি সহ সকল তথ্য প্রদর্শন করা হবে।

আপনি চাইলে এ তথ্যগুলো প্রিন্ট করে রাখতে পারেন Print Details বাটনটিতে ক্লিক করার মাধ্যমে অথবা “View Certificate” বাটনটিতে ক্লিক করলে আবেদনকারী টিন সার্টিফিকেট স্ক্রিনে দেখানো হবে।

এটি মূলত আবেদনকারীর ই-টিন সার্টিফিকেট।প্রয়োজনমতো এখান থেকে সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?