রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কি

হিমোগ্লোবিন শব্দটি মাথায় আসলে প্রথমে রক্তের কথা মনে পড়ে। কারণ এটি রক্তের সাথে সম্পর্কিত। মানুষ সহ সকল প্রাণীর রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে। আজকের পোষ্টে আমরা আলোচনা করবো রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ নিয়ে।

হিমোগ্লোবিন কি

হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকা থাকে। এটি আমাদের শরীরের একটি প্রয়োজনীয় প্রোটিন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে মেটালোপ্রোটিন বলা হয়। হিমোগ্লোবিন রক্তের মাঝে প্রয়োজনীয় ঘনত্ব বজায় রাখে।

হিমোগ্লোবিনের কাজ

বর্ণহীন রক্ত লাল দেখায় হিমোগ্লোবিনের জন্য। এটি রক্তে নানারকম উপাদানের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করে থাকে। হিমোগ্লোবিন এর মূল কাজ শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে। এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করে। অর্থাৎ এটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

আবার কলা থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে তা ফুসফুসে পরিবহন করে। আর ফুসফুস কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার মাধ্যমে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া রক্তে কোন দূষিত পদার্থ থাকলে হিমোগ্লোবিন সেটাকে পরিষ্কার করে এবং রক্তে যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রণে বাধা প্রদান করে।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ

আমাদের দেহে রক্ত কণিকায় ৯৬-৯৭ ভাগ হয়ে থাকে হিমোগ্লোবিনের প্রোটিনের অংশ। দেহের পানিসহ রক্তের মোট ওজনের ৩৫ ভাগ দখল করে থাকে হিমোগ্লোবিন। প্রতি ১ গ্রাম হিমোগ্লোবিন বাতাস থেকে প্রতিবার ১.৩৬  মিলিলিটার বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। 

হিমোগ্লোবিনের অভাবে সৃষ্ট সমস্যা 

যদি কোন কারনে আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা পরিমাণ কমে যায় তাহলে সে অবস্থাকে বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি হিমোগ্লোবিন দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করে। আর আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন।

দেহে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা

নারী-পুরুষ এবং বয়সভেদে রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত জন্মের পর শিশুর দেহে এক লিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ থাকে ২০০ গ্রাম। পরবর্তীকালে তিন মাস বয়সের পর তা কমতে থাকে। আবার প্রাপ্ত বয়সের সময় হিমোগ্লোবিন বাড়তে শুরু করে।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দেহের প্রতি লিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১৩০ থেকে ১৮০ গ্রাম। আর নারীদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১১৫ থেকে ১৬৫ গ্রাম।

অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার লক্ষণ

অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়ার নির্দিষ্ট লক্ষণ সনাক্ত করা সম্ভব হয় না।নিচে বর্ণিত কয়েকটি লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি-

  • শরীরে প্রচুর ঘাম হওয়া এবং শরিফ ফ্যাকাশে থাকবে।
  • নাড়ির স্পন্দন দ্রুত হবে ও বুক ধরফর করবে।
  • মাথা ঘোরার সাথে মাথা ব্যাথা থাকতে পারে।
  • মুখে ও জিহ্বায় ঘা হতে পারে
  • চোখে ঝাপসা কিংবা কম দেখা
  • শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তি ভাব
  • পুরো শরীর ফুলে যাওয়া
  • ঘুম কম হওয়া অথবা অনিদ্রা

হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে করণীয়

 রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে আয়রন সেবন করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও ফলেট যুক্ত খাদ্য খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?