ইসিজি কেন করা হয়

ইসিজি নামটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। হয়তো আমাদের নিজেদের কারো বা পরিবারের কেউ বা আত্মীয়-স্বজন এর কারো কোন দিন ইসিজি করার প্রয়োজন হয়েছে। আমরা এই পোস্টে আলোচনা করবো ইসিজি কি? ইসিজি কেন করা হয়? এগুলো নিয়ে।

হঠাৎ বা প্রায় বুকে ব্যথা, নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা, অনিয়মিত হার্টবিট, হার্ট ধড়পরড়ানি, ক্লান্ত বা দুর্বল অনুভব করা ইত্যাদি কারণে ইসিজি করা হয়।

ইসিজি কি

ECG হচ্ছে Electrocardiogram এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

E- Electro

C- Cardio

G- Gram 

মেডিকেলে হার্টের রোগ নির্ণয় করার জন্য যে টেস্ট দিয়ে থাকে তাকে ইসিজি বলে। হার্টের ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড করে ইসিজি। এটাকে আবার কম্পিউটার বা ল্যাবে স্ক্রিনে দেখানো হয় এবং ইসিজি রেজাল্ট কে বিশেষ এক ধরনের কাগজে প্রিন্ট আউট করা হয়।

হার্টের ইসিজি করার পর যদি দেখা যায় ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম এর ক্যারেক্টারিস্টিক শেপ রয়েছে তবে হার্টের কোন সমস্যা নেই। অর্থাৎ হার্ট সুস্থ আছে।

যদি দেখা যায় ক্যারেক্টারিস্টিক কোন শেপে নেই তাহলে বোঝা যাবে হার্টের সমস্যা আছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি থেকে হার্টবিট কম বেশি বা হার্ট বিট কোনও অসামঞ্জস্যতা আছে কিনা তা বোঝা যায়।

যে মেডিক্যাল টেস্টে ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহের হার্ট বিট পর্যবেক্ষণ করে, যা থেকে হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে তাকে ইসিজি বলে।

ইসিজি কেন করা হয়

মূলত হার্টের কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য ইসিজি করা হয়। বড় কোন সার্জারির আগেও ইসিজি করা হয়ে থাকে। এছাড়া নিম্নোক্ত কারণেও ইসিজি করার প্রয়োজন পড়েঃ

হার্ট পালপিটেশন

আপনার হার্ট যদি অনিয়মিতভাবে প্রস্ফুটিত হয় অর্থাৎ ধড়ফড়ানি করে কয়েক সেকেন্ডে বা কয়েক মিনিটের জন্য ধাক্কা খায় নাড়াচাড়া করে। হঠাৎ লক্ষণীয় হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন হলো হার্ট পালপিটেশন। 

হঠাৎ মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট

সাধারণত মাথা ঘুরানো শ্বাসকষ্ট সমস্যার সঙ্গে হার্টের কোন সম্পর্ক থাকে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো হার্টের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। হঠাৎ মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট হলে ইসিজি করা উচিত।

বুকে ব্যথা অনুভব

হঠাৎ পেশিতে টান পড়ার মতো অনেক ছোট বিষয়ে বুকে ব্যথা করে। আবার বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের মত বড় সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। তাই বুকে ব্যথার কারণ জানার জন্য ইসিজি করা উচিত।

ইরেগুলার হার্টবিট

নিয়মিত ব্লাড প্রেসারে যদি অনিয়মিত হার্টবিট দেখা দেয় তাহলে আপনাকে ইসিজি করতে হবে। কারণ অনিয়মিত হার্টবিট বিপদজনক হতে পারে। আমরা মাঝে মাঝে হৃদপিন্ডের ঝাকুনি, ধড়ফড়ানি অভিজ্ঞতা অনুভব করি। অনেক সময় বিট করার ক্ষেত্রে ইরেগুলার হয়ে যায়। এটা এক ধরনের হার্ট ডিজিজ এর লক্ষণ যা নির্ণয় করার জন্য ইসিজি করতে হবে।

হাই ব্লাড প্রেসার

হার্ট সম্পর্কিত অনেক সমস্যার প্রধান কারণ হলো নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ এবং চিকিৎসা বিহীন বা নির্ণয় করা যায় না এমন। এটি আপনাকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের দিকে পরিচালিত করতে পারে। আপনার যদি হার্টের সমস্যা থাকে আর যদি হাই ব্লাড প্রেসার থাকে তাহলে ইসিজি করেই এই সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে।

পরিবারের কারো হৃদরোগ থাকলে

অনেক পরিবারে দাদা থেকে বাবা, বাবা থেকে সন্তান এভাবে জেনারেশন থেকে জেনারেশনে হার্টের রোগ বহন করে থাকে। আপনার পরিবারের যদি কারো হার্টের সমস্যা থাকে তাহলে আপনি ইসিজি করে জেনে নিবেন আপনার হার্টের সমস্যা আছে কিনা।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?