বিদেশে যেতে কি কি প্রয়োজন

বিদেশের এমন কোন দেশ নাই যেখানে বাঙালি পাওয়া যাবে না। আপনি জানলে অবাক হবেন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বিদেশ রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই কাজ করার জন্য বিদেশ গিয়ে থাকে। কিছুসংখ্যক মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যায়।

বিদেশে কর্মসংস্থানে কাজ করে প্রবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে দেশে। এর ফলে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে। বিদেশে কর্মসংস্থান বেকারত্ব দূর করেছে।

লেখাপড়া জানা বা অজানা এমনকি একবারে লেখাপড়া না জানা লোক বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করছে। বিদেশে প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষ গিয়ে থাকে। অনেকে আছে যারা বিদেশ গিয়ে তাদের নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটায়। আবার অনেকে আছে যারা ভুল মানুষ অর্থাৎ দালাল বা প্রতারকের খপ্পরে পড়ে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে।

বিদেশে যদি নিরাপদে যেতে চান এবং ভালো কিছু করতে চান তাহলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

  • সরকারের বৈধ কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ যেতে হবে।
  • যে কাজে বিদেশ যাচ্ছেন সেই কাজে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • কোন দেশে যেতে চাচ্ছেন ওখানে কত টাকা বেতন পাবেন সকল বিষয় বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।
  • বিদেশ যাওয়ার জন্য যে টাকা খরচ হবে সেই টাকা তুলতে কত সময় লাগবে, আপনার ব্যক্তিগত খরচ শেষে কত টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারবেন এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।

আমাদের বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে যায় কাজের জন্য

সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, লিবিয়া, ওমান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ইত্যাদি।

এছাড়াও লেবানন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই, ব্রিটেন, ইতালি, গ্রিস, রোমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া,আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে মানুষ।  

এবার আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কোন দেশে যাবেন সেটা ঠিক করবেন। কারণ দেশ অনুযায়ী বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ কম বেশি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ, অদক্ষ এই চার শ্রেণীর মানুষ বিদেশে গিয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অদক্ষ লোক বিদেশে যায়। আর অদক্ষতার কারণে তাদের বেতন কম হয়ে থাকে। যার ফলে তারা অনেক পরিশ্রম করা সত্বেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক পায় না।

তাই বিদেশ যাওয়ার আগে আপনি যে কাজ বিদেশ যেতে চান সে কাজের প্রশিক্ষণ নিন। কাজে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন।আমাদের দেশের সরকারি বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিন। আর এভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

পাসপোর্ট

পাসপোর্ট হলো এমন একটি পরিচয় পত্র যা সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় তার পরিচয় পাওয়া যায় সেইসাথে বিদেশে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়। বিদেশে যেতে হলে পাসপোর্ট লাগবেই। পাসপোর্ট ছাড়া বিশ্বের কোন দেশে আপনি যেতে পারবেন না। তাই সর্বপ্রথম নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে একটি পাসপোর্ট তৈরি করুন।

ভিসা

শ্রম গ্রহণকারী দেশের ইমিগ্রেশন থেকে সে দেশে যাওয়ার অনুমতি পত্র হচ্ছে ভিসা। ভিসা ব্যতীত কোন দেশে বৈধ ভাবে যাওয়া যায় না। ভিসা ছাড়া বিদেশ যেতে চাইলে আপনাকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হবে। আমরা সাধারণত রিক্রুটিং এজেন্সি ও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভিসা সংগ্রহ করে থাকি। আপনি যার মাধ্যমে ভিসা সংগ্রহ করে থাকেন না কেন তা বৈধ কিনা যাচাই করে নিবেন। 

‘জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’ (বিএমইটি) ডাটাবেজ

বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রত্যেক কর্মীকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) ডাটাবেজে নাম লেখাতে হয়। এর জন্য নির্ধারিত আবেদন পত্র পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি এবং পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন থেকে দেওয়া নাগরিক সনদপত্র লাগবে।ডাটাবেজে নাম লেখানোর পর ঢাকা জেলা জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এই স্মার্ট কার্ড ছাড়া এখন বিদেশ যাওয়া যায় না।

মেডিকেল সনদ

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে আপনাকে মেডিকেল সনদ নিতে হবে। শ্রমিক গ্রহণকারী সকল দেশে মেডিকেল সনদ চায়। দূতাবাসে নির্ধারিত ক্লিনিকে শারীরিক যোগ্যতা, রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদি বিষয় দেখা হয়। 

প্লেনের টিকেট

যে দেশে যেতে চান সে দেশে যাওয়ার জন্য একটি বিমানের টিকেট কিনতে হবে। এই টিকিটের মধ্যে প্লেন ছাড়ার সময় এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর সময় ঢাকা থাকে। যাত্রাপথে কোথাও বিরতি বা ট্রানজিট আছে কিনা সেটা জেনে নিবেন।

চাকরির চুক্তি 

আপনি যে কোম্পানির আন্ডারে বিদেশ যাচ্ছেন সেখানকার চাকরির শর্তাবলী সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়। চুক্তির মধ্যে বেতন-ভাতা, বাসু স্থাপন, খাবার-দাবার, ছুটি, চিকিৎসাসহ কোম্পানির সকল সুযোগ সুবিধা চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। একে বলা হয় জব কন্ট্রাক্ট বা চাকরি চুক্তি।

মূলত যে কোম্পানিতে আপনি যাচ্ছেন সেই কোম্পানির নিয়োগকর্তা এই চুক্তিপত্রটি তৈরি করেন। বিদেশ যাওয়ার আগে ভালোভাবে চুক্তিপত্রটি পড়ে বুঝে নিবেন। 

ওয়ার্ক পারমিট

চুক্তিপত্রের মত ওয়ার্ক পারমিটও ভালো করে দেখুন। কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট হল আপনি যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি। কাজের অনুমতি পত্রটি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম অধিদপ্তর থেকে দেয়া হয়। বিমানবন্দরে কোন ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র দেয়া হয় না।

ব্যাংক একাউন্ট খোলা

বিদেশ যাওয়ার সব কিছু ঠিক হয়ে গেলে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার সুবিধার জন্য কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিজের নামে এবং পরিবারের কারো নামে দুটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। নিজের নামের একাউন্টে উপার্জনকৃত টাকা জমা রাখবেন। অন্য একাউন্টে পরিবার বা সংসারের খরচ পাঠাবেন।

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে আপনার জরুরী কাগজপত্র যেমনঃ ভিসা, পাসপোর্ট, মেডিকেল সনদ, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র, স্মার্ট কার্ড, চাকরি চুক্তি, যে দেশে যাবেন সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা এগুলো সব যত্ন করে রাখুন। এই কাগজপত্রের যেকোনো একটি ছাড়া আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?