অশ্বগন্ধার উপকারিতা ও অপকারিতা

অশ্বগন্ধার বৈজ্ঞানিক নাম উইথানিয়া সোমনিফেরা (Withania Somnifera)। যাকে আয়ুর্বেদে বলা হয় বলদা এবং শীতকালিন চেড়ি।

আমার যারা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার সাথে পরিচিত তারা কম বেশি অশ্বগন্ধার নাম শুনেছি। আর অশ্বগন্ধার নাম শুনারই কথা কারণ অশ্বগন্ধা হচ্ছে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা উপকারী একটি ভেষজ ঔষধ। অশ্বগন্ধার ব্যবহার ৬০০ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। 

অশ্বগন্ধা খুবই উপকারী একটি ভেষজ ঔষধ গাছ। অশ্বগন্ধায় ফাইটোকেমিক্যাল (Phytochemical) উপাদান থাকার কারণে এতে রয়েছে এত গুনাগুন।

অশ্বগন্ধার নির্যাসে ৩৫ রকমের ফাইটোকেমিক্যাল আছে বলে জানা গেছে। বন্য জাতীয় অশ্বগন্ধা তেল আহরণ সবচেয়ে ভালো।

অশ্বগন্ধা নামটি এসেছে মূলত অশ্ব বা ঘোড়া এবং গন্ধা বা গন্ধ থেকে। আবার অনেকে বলেন এই গাছের পাতা সিদ্ধ করলে ঘোড়ার মূত্রের মতো গন্ধ বের হয় যার ফলে একে অশ্বগন্ধা বলা হয়।

অশ্বগন্ধার গাছ বা এই গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে। অশ্বগন্ধার পাতা, ফল-মূল, বীজ ও মূল সব উপকারী এবং এগুলো ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন কাজে উপকারের জন্য।

আজকে অশ্বগন্ধার উপকারিতা ও অপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলোঃ

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

  • মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
  •  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
  •  আর্থারাইটিস এর উপসর্গ কম করে
  •  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  •  ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক
  • স্নায়বিক রোগের জন্য অশ্বগন্ধা খুবই উপকারী 
  • যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  •  থাইরয়েড সমস্যা কমায়
  •  হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে
  • ত্বকের জন্য উপকারী 
  • পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে 
  • শর্করার মাত্রা কমায়
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে 
  • কোলেস্টেরল কমায়
  •  চোখের সমস্যা কমায়
  •  হার্টের জন্য খুব উপকারী
  •  চুল মজবুত করে
  • বাতব্যথায় খুবই উপকারী
  •  কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
  •  গলগন্ড রোগ নিরাময় সহকারি 
  • দীর্ঘ মেয়াদী জ্বর কমাতে সহায়ক

অশ্বগন্ধার অপকারিতা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অশ্বগন্ধার উপকারিতা থাকলেও এর পাশাপাশি কিছুটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে তাই এটি ব্যবহারের পূর্বে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া খুবই জরুরী।

গর্ভবতী কোন মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা নিরাপদ বলে মনে হয় না। কারণ অনেক সময় দেখা গিয়েছে, পশু-পাখিদের অধিক মাত্রায় ডোস দেওয়ার ফলে তাদের গর্ভপাত অথবা নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছে গিয়েছে।

অশ্বগন্ধা রক্ত পাতলা করে তোলে এবং এটি এন্টিকোয়াঅ্যাগুলেন্ট, সুতরাং আপনার শরীরে যদি কোন অস্ত্রোপচার করার কথা থাকে বা আপনার শরীরে সম্প্রতিককালে কোন অস্ত্রোপচার হয়েছে তাহলে এটি ব্যবহার করা উচিত হবে না। কার এটা ব্যবহার করলে রক্ত পাতলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এতে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।

এতে সামান্য ঘুমের ওষুধের কার্যাবলী থাকে বলে এটি খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয়। কিন্তু এর সাথে কোন ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, তাতে অতিরিক্ত ঘুম হবে।

নিজের খাবারের সাথে অশ্বগন্ধার ব্যবহার করতে চাইলে একজন রেজিস্ট্রিকৃত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ আপনি ইতিমধ্যে যেসব গ্রহণ করেছেন তার প্রতিক্রিয়ার উপড় প্রভাব ফেলতে পারে।

যেমন, কেউ যদি রক্তে শর্করা কমানোর ঔষধ নিয়ে থাকেন এবং তিনি অশ্বগন্ধা ব্যবহার করেন তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি নেমে যেতে পারে (হাইপ্লোগ্লাইসেমিয়া)।

দীর্ঘদিন অশ্বগন্ধা খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাস্টিক জনিত সমস্যা হতে পারে। এর পাশাপাশি খাবারে অরুচি অথবা বমি বমি ভাব হতে পারে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?