জীবনে সফলতা অর্জনের উপায়

আমরা সবাই জীবনে সফল হতে চাই। জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। নিজের লক্ষ্য ঠিক করে, সে অনুযায়ী চেষ্টা করলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। 

প্রথম ধাপেই সফল হবেন বিষয়টি এরকম না বারবার চেষ্টা করতে হবে। কেউ প্রথম ধাপেই সফল হয়ে যায় আবার কেউ বারবার চেষ্টা করে সফল হয় আবার কেউ চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনা। 

এর কারণ হলো চেষ্টার মধ্যে ত্রুটি অথবা ভুলে জায়গায় চেষ্টা করা। জীবনে ভুল হতেই পারে তাই হতাশ হলে চলবে না।

আমরা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তাই আমাদের হতাশ হওয়া মানায় না। 

নতুন উদ্যমে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে একদিন সফলতা আসবেই। বর্তমানে যারা দুনিয়াতে সফল, প্রতিষ্ঠিত তারাও একদিন আমার আপনার মত ছিল। তারা ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছেন। আমাদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভা কে জাগাতে হবে।

জীবনে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ অর্জন কিংবা সুনাম অর্জন করা এগুলোকে সফলতা বলে না। যদি আপনার মধ্যে মানসিক শান্তি, ধন-সম্পদ, সামাজিক অবস্থা, মানুষের ভালোবাসা এই বিষয়গুলো থাকে তাহলে আপনি নিজেকে সফল বলতে পারেন। 

আর এই সফলতার জন্য আপনার প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের প্রয়োজন। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, যে ব্যক্তি সৎ আমল করে সেই সর্বশেষ্ঠ। 

অবশ্যই আমাদের সফলতা অর্জনের জন্য সৎ উপায়ে চেষ্টা করতে হবে। ঠিকমতো আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, রোজা রাখতে হবে, সত্য কথা বলতে হবে। 

চলুন জেনে নেই জীবনে সফলতা অর্জনের কিছু উপায়ঃ

সফলতা অর্জনের জন্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বদভ্যাস রয়েছে সেগুলো ত্যাগ করতে হবে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। 

জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আপনি কি ধরনের জীবনযাপন করতে চান সেটি ঠিক করতে হবে। যারা অলস ও লক্ষ্যহীন তারা জীবনে যে কত সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে তার নিজেরাও জানে না। 

জীবনে সুযোগ বারবার আসেনা যখন আসে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। বড় স্বপ্ন গুলো ছোট ছোট ভাগ করে পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে গেলে অবশ্যই সফলতা একদিন না একদিন ধরা দিবে। 

নিজের শক্তি এবং দুর্বলতা ভালোভাবে জেনে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আপনার নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতার উপর ভরসা রাখতে হয়। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে আপনার সফল হতে পারবেন না। 

কারন আত্মবিশ্বাস কর্মের দিকে নিয়ে যার কর্ম সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করা, বাস্তববাদী লক্ষ্য নির্ধারণ, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা, অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এ বিষয়গুলোর মাধ্যমে আপনি সহজাত বিশ্বাসী হতে পারবেন।

আরাম আয়েশে থাকলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব না তাই নিজের কমফোর্ট জোন থেকে সরে আসতে হবে। নিজের সুবিধাজনক স্থানে কিছুদিন আরামে থাকলেও সফলতা কখনো আসে না।। 

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, নিজের শক্তি, দুর্বলতা, দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা ইত্যাদি করতে পারবেন কমফোর্ট জোন থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে।

টাকা দিয়ে হয়তো সুখ কেনা যায় না, তবে টাকা দিয়ে এমন কিছু জিনিস কেনা যায় যা পরবর্তীতে সুখের কারণ হয়। টাকা সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করতে হবে। 

আপনার টাকা থাকলে মক্কা-মদিনা ঘুরে আসতে পারবেন, গরীব অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে পারবেন এই ধরনের পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। টাকা সকল খারাপ কাজের মূল না।

একটি মাত্র আয়ের পথ দিয়ে সফলতার শীর্ষে যেতে পারবেন না। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে আপনাকে একাধিক আয়ের পথ বেছে নিতে হবে। 

কোন কারণে যদি আপনার চাকরি চলে যায়, অথবা ব্যবসা লোকসান হয় তাহলে আপনি সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু হয়ে যাবেন না। কারণ আপনার একাধিক আয়ের এর উৎস রয়েছে। 

আপনি যদি ধন সম্পদ বৃদ্ধি করতে চান তাহলে বিনিয়োগ এর বিকল্প নেই। ভবিষ্যতের লাভ করার উদ্দেশ্যে কোন কিছুতে অর্থ ব্যয় করাকে বিনিয়োগ বলে। শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, রিয়েল এস্টেট মূল্যবান ধাতু, ছোট বড় ব্যবসা ইত্যাদি বিভিন্ন রাস্তায় আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। 

এর ফলে আপনার ভবিষ্যতের টাকা উপার্জনের একটি পথ খোলা থাকবে। আপনি আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে আপনার পরিবারের সাথে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের থাকতে পারবেন। বাড়ি গাড়ি, খাবার ইত্যাদির দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই টাকা বাড়াতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

পড়ালেখা, খেলাধুলা, চাকরি, ব্যবসা জীবনের সবক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা রয়েছে। সফলতা অর্জন করার উদ্দেশ্যে যে যার মতন এগিয়ে যাবে। প্রতিযোগীদের শত্রু ভাবা যাবে না। 

প্রতিযোগীদের নিয়ে গবেষণা করতে হবে। অর্থাৎ তাদের কি কি দক্ষতা আছে কিভাবে তারা তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছে, তারা কোন বিভাগে ভালো করছে, কেন করছে এবং কোন বিভাগে খারাপ করছে, কেন করছে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করুন। 

আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং কর্মজীবনে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেমন: নাইনে উঠার সময় কোন গ্রুপ নিয়ে পড়বেন, বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রী ঠিক করার সিদ্ধান্ত। 

ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা একজন সফল ব্যক্তির অন্যতম গুণ। সফল হতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই করা এবং চিন্তাভাবনা করা এই তিনটি জিনিস আপনাকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য সাহায্য করবে। 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে কিন্তু সফল হতে পারছে না আবার অনেকে আছে যারা কম পরিশ্রম করে সফল হয়ে যায়। এর একটা কারণ হচ্ছে স্মার্ট পরিশ্রম। অর্থাৎ সঠিক উপায়ে কাজ করা। পরিকল্পনা করে কাজ করা, বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া, কাজের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা, কাজে রিভিউ করা, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, নিজেকে নিজে অনুপ্রাণিত করা, সক্ষমতার বাইরে কিছু কাজকে না বলা । এই স্মার্ট উপায় গুলো ফলো করলে কাজে সফলতা লাভ করা যাবে।

একজন মানুষ সব দিক দিয়ে পারফেক্ট হয় না। কোন না কোন দিক দিয়ে দুর্বলতা থাকেই। প্রতিটি ব্যক্তির দুর্বলতা ও শক্তির জায়গা আলাদা। সফল হতে হলে নিজের কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হয়। 

দক্ষতা অর্জনের সময় আমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলতা ও শক্তি বের করতে হয়। একজন মানুষের পক্ষে কখনো সব রকমের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব না। সফল হওয়ার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু হলেই চলবে। 

আপনি কি নিজের মধ্যে থাকা শক্তি বাড়াবেন নাকি নিজের দুর্বল বিষয়গুলো উন্নতি করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর।

সময় একমাত্র সম্পদ যা ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা সকলের জন্য সমান। যে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে সেই সফল হতে পারবে। আপনার সময় কে বিভিন্ন কাজের মধ্যে ভাগ করে দেয়া এবং সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা এগুলো হচ্ছে টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় ব্যবস্থাপনা। 

আমাদের জীবনের প্রাপ্ত সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার মাধ্যমে গন্তব্য স্থানে পৌঁছানো যায়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না, কারো কাছ থেকে সময় কেনা যায় না, সময় তার নিজ গতিতে এগিয়ে চলে। আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। 

আমাদের মধ্যে নানা ধরনের ভয় কাজ করে। যেমনঃ সাপ, হিংস্র জন্তু, নদীর স্রোত, ভুত-প্রেত ইত্যাদি। আমাদের মধ্যে থাকা ভয় কমিয়ে সাহসী হতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সাহস আমাদের অধিক পরিশ্রম করতে এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য উৎসাহ যোগাবে। 

যেকোনো কাজে আমাদের ভুল হতেই পারে এটা দোষের কিছু না। ভুল হলে ভুল স্বীকার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল না হয় সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা মানুষ রোবট না, মানুষ মাত্রই ভুল। 

আমরা অনেক সময় অনেক কাজে ব্যর্থ হই। একটা কারণে অনেকে হতাশ হয়ে পড়ি। ব্যর্থতাকে সফলতার সিঁড়ি মনে করে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যর্থতার একটি সুফল হচ্ছে অভিজ্ঞতা অর্জন করা। 

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই কাজটি আরও সুন্দরভাবে করা যায়। পৃথিবীতে সবাই সফল হওয়ার আগে কোন না কোন সময় ব্যর্থ হয়েছে। জীবনে ব্যর্থতা নিয়ে বসে না থেকে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

জ্ঞান, মানসিক শান্তি, ধন-সম্পদ, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের ভালোবাসা ইত্যাদি যার মধ্যে আছে সেই সফল। সফল হতে হলে আপনাকে ব্যক্তিত্ববান হতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক ভালো অবস্থা এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। নিজস্ব গুণাবলীর প্রকৃত প্রতিফলন ঘটানো ব্যক্তিত্ব বলে। 

আমাদের মধ্যে যত ভালো গুন আছে সেগুলোকে খুঁজে বের করে বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কথাবার্তা, আচার আচরন, ধ্যান-ধারণা ও মন-মানসিকতা দেখে জন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের ভালোবাসা জোর করে পাওয়া যায় না। অন্যকে সম্মান করার মাধ্যমে নিজের সম্মানিত হতে পারবেন। মানুষের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে হবে। 

মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং সম্মান দিতে হবে। একজন দিনমজুর থেকে কোটিপতি পর্যন্ত সবাইকে সম্মান করতে হবে। এরকম কিছু অভ্যাস করলে ব্যক্তিত্ববান হয়ে উঠার সহজ হয়। 

কথা কম বলা এবং অন্যের কথা শোনা সফল ব্যক্তিদের অন্যতম গুণ। যারা সব সময় নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করে তাদের কথা শুনবেন না। আপনার যখন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার থাকবে তখনই আপনার কথা বলা উচিত। 

অযথা কথায় কাজের কিছুই হয় না উল্টো সমস্যা সৃষ্টি হয়, অন্যের সমালোচনা করা হয় এবং মিথ্যা কথা বলা হয়। অন্যের কথা শোনার মাধ্যমে বিভিন্ন কিছু জানা যায়, যার কথা শুনছেন তাকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং একটি ভাল সম্পর্ক তৈরী হয়। 

সফল মানুষেরা ওদের কথা শুনতে চায়। যদি আপনি চান সবাই আপনাকে দাম দেক, সম্মান করুক তাহলে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন এবং কথা বলতে তাদের অনুপ্রাণিত করুন। দেখবেন তারা খুব সহজে আপনাকে আপন বানিয়ে নিবে।

আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে চাইলে সময় কম পড়ে যাবে। আর তাই বুদ্ধিমান লোকেরা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। আমাদের একটি ভুল ধারণা হলো, আমরা মনে করি সফল ব্যক্তিরা জীবনে ব্যর্থ হয়নি। 

পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যারা জীবনে কোনদিন ব্যর্থ হয়নি।আপনি যখন কোনো মানুষের ব্যর্থতার কারণ ও ভুল সম্পর্কে জানতে পারবেন। তখন আপনি সাবধান হয়ে সেই ভুল করতে চাইবেন না। 

ফলে আপনার সফল হওয়ার চান্স বেড়ে যায়। অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিজের ক্ষতি না করে নতুন কিছু জানতে ও বুঝতে পারবেন। 

আমরা অনেক ধরনের সমস্যা বা বাধার সম্মুখীন হয়ে জীবনে চলার পথে। এই সমস্যার সমাধান করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আমাদের জীবনে ঘটা সকল ঘটনা আমাদের মন মত নাও হতে পারে। 

আমরা যেমন ভালো ঘটনাকে সহজে মেনে নিই তেমনি খারাপ ঘটনাকেও মেনে নিতে হবে। কারণ দুই ঘটনাই বাস্তব। কোন খারাপ ঘটনা বা সমস্যার সমাধানে যদি বিন্দু পরিমান সুযোগ থাকে তাহলে তা কাজে লাগাতে হবে। 

আর যদি সম্পূর্ণ ঘটনা আপনার আয়ত্বের বাইরে চলে যায় তখন তা ছেড়ে দেয়াই ভালো। আপনি যদি আপনার জীবনের ঘটে যাওয়া খারাপ ঘটনা যেকোনো অবস্থায় বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন। 

তাহলে আপনার সমস্যাগুলো সমস্যা মনে হবে না এবং আপনার কষ্ট কম হবে।

জীবনে চলার পথে আমরা অনেক মানুষের সাথে চলাফেরা করি। আশেপাশের মানুষকে দ্বারা আমরা অনেক ভাবে প্রভাবিত হই। যারা জীবনে সফল হতে চান তাদের অবশ্যই নেতিবাচক বা নেগেটিভ মানুষদের এড়িয়ে চলতে হবে। 

কারন এ ধরনের মানুষ আপনাকে নিরুৎসাহিত করবে এবং অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। নেতিবাচক মনোভাবের মানুষের মধ্যে অভিযোগ করার প্রবণতা থাকে। নিজের ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষ না দিয়ে এবং অভিযোগ করার পরিবর্তে সে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করুন। 

আবেগ ছাড়া জীবনে চলা যায় না আবার আবেগ দিয়েও জীবন চলে না। যতক্ষন পর্যন্ত আবেগ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে। কারণ আমরা অনেক সময় আবেগে  ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। 

আপনার নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে আবেগী হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। রাগের মাথায়, আনন্দে থাকা অবস্থায় কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না। কারণ এই সময়ে সিদ্ধান্ত নিলে বেশিরভাগ সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

এছাড়া ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন।

প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি ও কঠোর পরিশ্রম সফলতার প্রথম শর্ত। জীবনে বড় হওয়ার জন্য মেধা থাকলেই হয় না পরিশ্রম করতে হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন কম মেধাবী কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করে সে সফলতা অর্জন করেছে। সব প্রতিভাবান মানুষ জীবনে সফল হয় না। 

সফল হতে হলে প্রতিভার সঙ্গে আপনার ধৈর্য, প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি ও পরিশ্রম করতে হবে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কঠোর পরিশ্রম ও প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারি। 

কিছু অসাধু মানুষ পরিশ্রম না করে অবৈধ পথে সম্পদের মালিক হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের কোনো মানসিক শান্তি নেই এবং মানুষের ভালোবাসা নেই। ইচ্ছা শক্তি ও পরিশ্রম করার মানসিকতা সফলতার অন্যতম একটি হাতিয়ার।

কাজকে কাজ মনে করতে হবে। কোন কাজকে ছোট বা বড় ভাবা যাবে না। নিজের কাজকে ছোট মনে করে হীনমন্যতায় ভোগে নিজেকে হতাশ করবে না। ছোট ছোট বালুকণা দিয়ে একটি শহর গড়ে ওঠে। 

ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে একদিন আপনি বড় কাজ করার সুযোগ পাবেন। অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজের ভিতরে হীনমন্যতায় জন্ম দিবেন না। 

আপনি যদি মনে করেন আপনি পারবেন না, আপনাকে দিয়ে হবে না, আপনার যোগ্যতা নেই, তাহলে সত্যি সত্যিই আপনি পারবেন না। তাই যে কোন কাজ দরদ দিয়ে করলে অবশ্যই সফল হবেন।

মানব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে চরিত্র। সচ্চরিত্র ঈমানকে মজবুত করে। জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে,জ্ঞান, মানসিক শক্তি, ধন-সম্পদ, সামাজিক অবস্থা ও মানুষের ভালোবাসা এই বিষয়গুলো যার মধ্যে আছে সেই সফল। 

অসৎ চরিত্রের লোক হয়তো ধন-সম্পদ, সামাজিক অবস্থা উন্নতি করতে পারবে কিন্তু কোনদিনও মানুষের ভালোবাসা ও মানসিক শান্তি পাবে না। উত্তম চরিত্রই একজন মানুষকে পরিপূর্ণ সফল করে। 

টাকা গেলে টাকা পাবেন, স্বাস্থ্য নষ্ট হলে স্বাস্থ্য পাবেন কিন্তু চরিত্রে একবার দাগ লাগলে তা আর মুছে ফেলা যায় না। আপনার মধ্যে যদি বিনয়ী, সহিষ্ণু, ভদ্র, সত্যবাদী, সহজ ও সরল এই গুণগুলো থাকে তাহলে এগুলো আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে। চরিত্রবান মানুষকে সবাই ভালোবাসে। চরিত্রবান হলে আপনি মানসিক শান্তি পাবেন।

মানুষের দুটি হাত থাকে কিন্তু যারা অলস তাদের তিনটি হাত থাকে। তিন নম্বর হাতটি হলো অজুহাত। 

অজুহাত দেয়া বন্ধ করে নিজের যা আছে তাই কাজে লাগানোর মাধ্যমে সফল হতে পারবেন। আমার এইটা নাই, ওইটা নাই এইসব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে যা আছে তাই নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। 

আমাদের সবার মধ্যেই প্রতিভা থাকে। নিজের মধ্যে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করে তার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। একজন মানুষের পক্ষে সব বিষয়ে এক্সপার্ট হওয়া সম্ভব না। 

যে বিষয়ে আপনার ভালো লাগে এবং একটু জানাশোনা আছে সেই বিষয়ে আরো দক্ষতা অর্জন করুন। একসাথে অনেক বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করা হলে দেখবেন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা হবে না। 

আজকে না কাল থেকে শুরু করবো এসব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে এখনই কাজ শুরু করে দিন। কারণ কোন কিছু করার জন্য পারফেক্ট সময়ে বা দিন নেই।

অন্ধভাবে কারো কাজ অনুকরণ করবেন না। অন্যের মত হতে গিয়ে আমরা নিজের বিবেক-বিবেচনা, জাতীয় স্বত্বা, নিজের সমাজ-সংস্কৃতি ভুলে যাই। অন্য আরেকজনকে অনুকরণ করে কখনোই তা নিজের মধ্যে ফোটাতে পারবেন না। এর ফলে নিজের মধ্যে থাকার যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। 

নিজের মধ্যে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করে নিজের মতো করে নিজের কিছু করতে হবে। কাউকে অনুকরণ করার মাধ্যমে আসলে আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই অন্য আরেকজনকে অন্ধভাবে অনুকরণ না করে নিজের আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতা অনুযায়ী পরিশ্রম করে সফলতা অর্জন করুন।

জীবনে ধন-সম্পদ অর্জন করতে চাইলে আপনার আয় যেমন সে অনুপাতে ব্যয় করতে হবে। আপনি আয়ের চেয়ে ব্যয় কম করতে পারলে টাকা জমা রাখতে পারবেন। 

আর জমানো টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। যদি আপনি যে টাকা ইনকাম করছেন তা কম ব্যয় করার পরেও আয় করা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে আপনাকে আরো আয় করার পথ খুঁজে বের করতে হবে। 

কোথায় কত টাকা খরচ হচ্ছে তার হিসাব রাখার পর যদি দেখেন সেখানে কোথাও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে মনে হয় সেগুলো বন্ধ করে দিন। আপনি যদি আজকে কষ্ট করেন তাহলে পরবর্তীতে সুখের দেখা পাবেন।

জীবনে সফল হতে হলে কিছু কাজ কখনোই করা যাবে না

সেগুলো হলোঃ 

  • না বুঝে বিনিয়োগ করা যাবেনা, 
  • লোন নিয়ে শখ পূরণ করা যাবে না, 
  • অনুমানের উপর ভিত্তি করে কোন কাজ করা যাবে না, 
  • জীবনের সকল পরিকল্পনা কারো সাথে শেয়ার করা যাবেনা, 
  • ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না, 
  • অকৃতজ্ঞ হওয়া যাবে না। 

আপনি যদি না বুঝে কোথাও বিনিয়োগ করেন তাহলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর আমরা সম্পদ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করি কমানোর জন্য নয়। আপনি যদি লোন নিয়ে আপনার বাইকের শখ পূরণ করেন। 

আপনার বাইক কিন্তু সেই লোন পরিশোধ করবে না। কোন ব্যবসা বা কাজের জন্য যদি লোন নেন তাহলে সেই ব্যবসা বা কাজের থেকে অর্জিত মুনাফা দ্বারা আপনি লোন পরিশোধ করতে পারবেন।

আমাদের জীবনের প্রতিদিনের কিছু ভালো অভ্যাস যেমন আমাদের সফল করতে পারে ঠিক তেমনি খারাপ অভ্যাস আমাদের জীবন নষ্ট করতে পারে। আমরা মোবাইলে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, টিকটক, লাইকি, পাবজি,ফ্রী ফায়ার, গেম,আড্ডা করে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় অযথা ব্যয় করে থাকি। 

আমাদের জীবনে এই ধরনের খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। অন্যের বুদ্ধি পরামর্শ নেয়া খারাপ না কিন্তু নিজের বুদ্ধি পরামর্শ উপেক্ষা করে অন্যের মতামতের উপর ভিত্তি করে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। 

অন্যে কি করেছে না করেছে এসব বাদ দিয়ে নিজে কি করছেন, করতে হবে সেই দিকে মন দিন। এছাড়া আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে। অতীতের স্মৃতি আমাদের বর্তমানকে নষ্ট করে দেয়। তাই আমাদের অতীত ভুলে বর্তমানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?