মরিচ চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশের একটি অর্থকরী ফসল মরিচ। এটি একটি জনপ্রিয় মসলা জাতীয় ফসল। মরিচ আমাদের তরকারিকে করে আরো বেশি সুস্বাদু করে তোলে। 

বাজারে মরিচের দামও ভালো। এটি কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থায় খাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই মরিচ চাষ করা হয়। এটি একটি লাভজনক ফসল। এবার মরিচ চাষ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

মরিচ চাষের পদ্ধতি কি

মরিচ চাষের জন্য আলো-বাতাস যুক্ত এবং পানি নিষ্কাশন সুবিধা যুক্ত স্থান হলে ভালো হবে। প্রায় সব ধরনের মাটিতে মরিচ জন্মে তবে উর্বর দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উত্তম। 

৩৫° থেকে ৪৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা মরিচ গাছের জন্য উপযোগী। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ফুল ঝরে পড়ে।

মরিচের জাত

মরিচকে ঝাল ও মিষ্টি এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

ঝাল মরিচের মধ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক মৌসুমী জাত যেমনঃ বগুড়া, চাঁদপুরী, ফরিদপুরী ইত্যাদি রয়েছে। এগুলো ছাড়াও আরো ঝাল মরিচ এর জাতের মধ্যে রয়েছে আকালী, কামরাঙ্গা, কালো ইত্যাদি।

 আঞ্চলিক ভাবে আরো বিভিন্ন নামের মরিচ যেমনঃ বড় মরিচ, ছোট মরিচ, সাহেব মরিচ, গোলমরিচ, বোম্বাই মরিচ, মেজর মরিচ, সনিক মরিচ, যমুনা মরিচ, পাটনাই মরিচ, বালিঝুরা মরিচ, পাটনাই মরিচ, সূর্যমুখী মরিচ চাষ হয়ে থাকে। 

চারা উৎপাদন পদ্ধতি 

প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বীজতলায় চারা গজিয়ে নিবেন। তারপর চারাকে দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তর করবেন। এভাবে আপনি একটি ভালো চারা পাবেন। প্রতিটি বীজতলার জমির দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তিন ফুট প্রস্থ এবং ১ ফুট উঁচু হতে হবে। 

বীজতলার উপরের মাটিতে বালি এবং গোবর সার পরিমাণমতো মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। ১২০ থেকে ১৩০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয় এক বিঘা জমিতে।

বীজতলা জীবাণুমুক্ত করার উপায় 

বিজতলা সূর্যের আলোতে শুকিয়ে শোধন করতে হবে। এরপর বীজতলা কোঁদাল দিয়ে কোপানোর পর ভালোভাবে সমতল করে সচ্ছ পলিথিন শিট দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিতে হবে। 

এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ রেখে দিবেন। খেয়াল রাখবেন যাতে সূর্যরশ্মি বীজতলায় ঠিকমতো পরে। এর ফলে বীজতলায় গরম হয়ে তাপ সৃষ্টি করবে। এই তাপে ক্ষতিকারক জীবাণুগুলো মারা যাবে। 

তাছাড়া তাপ বাড়ার কারণে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস বের হবে। এসময় বীজতলায় বীজ বপন করা যাবে না। বীজতলায় কোদাল দিয়ে কোপালে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যাবে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার ফলে বীজতলার পোকামাকড় মারার যাবে অথবা অন্য স্থানে চলে যাবে।

বীজ শোধন ও পানিতে ভেজানো

বীজ বপনের পূর্বে ৪৮ ঘন্টা বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এটি বীজ ভালোভাবে গজাতে সাহায্য করবে। রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের জন্য চারা বপনের পূর্বে ৬ ঘন্টা প্রোভেক্স বা ক্যাপটান দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে।

বীজ বপন ও চারা রোপণ

রবি মৌসুমের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাস এবং বর্ষা মৌসুমের জন্য মার্চ-এপ্রিল মাস বীজ বপনের জন্য উপযুক্ত সময়। মিষ্টি মরিচ শুধু রবি মৌসুমে জন্মে আর ঝাল মরিচ প্রায় বছরের যেকোনো সময় জন্মে। 

চারার উচ্চতা যখন ৪ ইঞ্চি হবে তখন সারিতে ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি দূরত্বে প্রতিটি চারা রোপণ করতে হবে। প্রতিটি সারির দূরত্ব হবে ২৫ থেকে ৩০ ইঞ্চি হবে।

জমি চাষ ও সার প্রয়োগ

জমির মাটির প্রকারভেদ জমিতে ৪ থেকে ৬ বার চাষ বা মই দিতে হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ১২০০ থেকে ১৩০০ কেজি জৈব সার, টিএসপি ৪০ কেজি, এমওপি ৬ কেজি, জিপসাম ১৫ কেজি দিতে হবে। ইউরিয়া ৯ কেজি এবং এমওপি ৬ কেজি মিশিয়ে প্রতি কিস্তিতে ২৫, ৫০ ও ৭০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

পরিচর্যা, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন

আগাছা দমন করতে হবে সময়মতো। যদি অনাবৃষ্টি দেখা দেয় তাহলে পানি সেচ দিতে হবে। মরিচ ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে। 

কীটনাশক পানির সাথে মিশিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ক্ষেতের মধ্যে স্প্রে করে এসব পোকামাকড় দমন করা যায়। এছাড়া রোগের আক্রান্ত হলে ছত্রাকনাশক পানির সাথে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

মরিচ সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ

কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থায় মরিচ তুলে বিক্রি করা হয়। যখন মরিচ পুরোপুরি পেকে লাল হবে তখন মরিচ তোলা উচিত। বীজ সংরক্ষণের জন্য পাকা মরিচের বীজ বের করে ধুয়ে রোদে শুকাতে দিতে হবে। এমন পাত্রের মধ্যে বীজ সংরক্ষণ করবেন যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?