মরিচ গাছের পাতা কোকড়ানো রোগ

মরিচ গাছের পাতা কোকড়ানো রোগ

মরিচ গাছের খুবই একটি মারাত্মক রোগ হলো পাতা কোকড়ানো রোগ। যদি পাতা উপরের দিকে কুঁকড়ে যায় তবে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। 

আর যদি পাতা নিচের দিকে কুঁকড়ে যায় তবে মাকড় আক্রমণ করেছে। সাদা মাছি, লাল মাকড় এবং এফিড বা জাব পোকা, থ্রিপস পোকা পাতা কোকড়ানোর জন্য দায়ী।

লাল মাকড়

লাল মাকড় পোকা এতই ছোট যে এটা খালি চোখে দেখা যায় না। এই পোকা লাল রঙের এবং পাতার নিচে থাকে। মরিচের ৭৫-৮০% ফলন কমিয়ে দেয় এই লাল মাকড়।

লক্ষণঃ এ পোকা আক্রমণ করলে মরিচ গাছের পাতা উল্টে নৌকার মত বেঁকে যায়। পাতার রস চুষে খেয়ে ফেলে এরা। ফলে পাতা শুকিয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে। মরিচ গাছের ফুলের কলিও ঝরে পড়ে। ফলের ধারণ ক্ষমতা কমে যায় ও আকারে ছোট হয়ে যায়। 

দমন ব্যবস্থাঃ

প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম নিম তেল ও ট্রিকস মিশিয়ে পাতার নীচের দিকে স্প্রে করতে হবে। 

সালফার জাতীয় কীটনাশক প্যাকেটের গায়ে লেখা মাত্রা অনুযায়ী সকালে বা বিকেলে স্প্রে করতে হবে। দশ দিন অন্তর অন্তর দুই থেকে তিনবার স্প্রে করতে হবে।

আক্রমণ বেশি হলে  মাকড়নাশক পাতার মধ্যে স্প্রে করতে হবে।

প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড মিশিয়ে প্রয়োগ করলে মরিচ গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

জাব পোকা বা এফিড

এই পোকা মরিচ গাছে কচি বা বয়স্ক দুই অবস্থায় পাতায় আক্রমণ করে থাকে।

লক্ষণঃ জাব পোকা পাতার নিচের দিকে বসে। এই পোকা মরিচ গাছের পাতার রস চুষে খেয়ে ফেলে। ফলে পাতা কুঁকড়ে যায়। এরা গাছের ডালেও আক্রমণ করে ফলে ডাল শুকিয়ে মারা যায়।

দমন ব্যবস্থাঃ

আঠালো হলুদ লাঠির ফাঁদ ব্যবহার করবেন প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০ টি।

৫০ গ্রাম নিমের বীজ ভেঙে তা ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে একদিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে আক্রান্ত গাছ দশ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।

আক্রান্ত বেশি হলে স্বল্পমেয়াদী বিষক্রিয়া আক্রান্ত গাছের প্রয়োগ করলে এ পোকা থেকে মুক্তি সম্ভব।

থ্রিপস পোকা

থ্রিপস পোকাকে চুষি পোকাও বলা হয়। মরিচ গাছ লাগানোর ৭ থেকে ১০ দিন পরে এই পোকা আক্রমণ করে থাকে। 

লক্ষণঃ এই পোকা মরিচ গাছের কচি পাতা ও ডগার রস শুষে খেয়ে ফেলে। এর ফলে পাতা উপরের দিকে নৌকার মত কুঁকড়ে যায় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ পোকা পাতাকে বিকৃত করে ফেলে।

দমন ব্যবস্থাঃ

ফসলের ক্ষেত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যদি কোঁকড়ানো পাতার পরিমাণ কম হয় তাহলে ছিড়ে ফেলে দিবেন।

মরিচ গাছের পাতার মধ্যে পানি স্প্রে করতে হবে।

প্রাকৃতিক ভাবে এ পোকা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হলুদ রঙের আঠালো স্টিক দিয়ে ফাঁদ তৈরি করতে পারেন।

এছাড়া আপনি ঘরোয়াভাবে বালাইনাশক তৈরি করতে পারেন। ২০ লিটার পানির মধ্যে ১ কেজি ভাঙ্গা নিমের বীজ ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখবেন। এরপর পাতার উপরের দিকে ভালোভাবে স্প্রে করবেন।

পোকার আক্রমণ বেশি হলে পানির সাথে এডমেয়ার ২০ এসএল মিশিয়ে স্প্রে করবেন।

বাজারে কিনতে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রকার পোকা নাশক। যেমনঃ ফিপ্রোনিল, রিজেন্ট, এসেন্ড, গুলি, ডাইমেথয়েট, টাফগার, বিস্টারথোয়েট ইত্যাদি। এদের মধ্যে থেকে যেকোনো একটি ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করলে এই পোকা থেকে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যাবে। 

সাদা মাছি

এটি আকারে অনেক ছোট হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। এর সাদা ডানা ঘন মোমের মত গুড়া দিয়ে ঢাকা থাকে।

লক্ষণঃ সাদা মাছি পাতার নিচে বসে থাকে। পাতার রস চুষে খেয়ে ফেলে এর ফলে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায়। পাতার মধ্যে হলুদ, বৃত্তাকার, বিক্ষিপ্ত দাগ দেখা দেয় এবং এই দাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হলুদ মোজাইক ভাইরাস বহন করে পূর্ণাঙ্গ মাছি।

দমন ব্যবস্থাঃ

যেই গাছে এই সাদা মাছি আক্রমণ করবে সেই গাছ নষ্ট করে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমিকে আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

প্রতি লিটার পানিতে মাত্র ২ গ্রাম ডিটারজেন্ট মিশিয়ে আক্রান্ত গাছের উপর স্প্রে করতে পারেন।

বালাইনাশক হিসেবে নিমের বীজ ভেঙে পানিতে ভিজিয়ে ছেকে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক দমন ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

মরিচ গাছের পাতাকে সাদা মাছির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করতে পারেন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?