কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অবস্থিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। সমুদ্র বিলাস এর মত অপরূপ সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি কুয়াকাটায় রয়েছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থান। প্রায় প্রতি বছরই কুয়াকাটা ভ্রমণে পর্যটকদের ভিড় জমে।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটাকে সাগর কন্যা বলা হয়। এক নজরে দেখে নেয়া যাক কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দর্শনীয় স্থানগুলোঃ

শুটকি পল্লী

শুটকি পল্লীর অবস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে। জেলেরা মাছ ধরে এই পল্লীতে শুটকি তৈরি করে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শুটকি তৈরি কাজ করা হয়। আপনারা চাইলে শুটকি পল্লী ঘুরে আসতে পারেন এবং সেখান থেকে কম দামে শুটকি কিনে আনতে পারেন।

কাকড়ার দ্বীপ বা ক্রাব আইল্যান্ড

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে ক্রাব আইল্যান্ডের অবস্থান। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিডবোটে ক্রাব আইল্যান্ড যাওয়া যায়। এই দ্বীপে রয়েছে হাজার হাজার লাল কাকড়ার বসবাস। 

গঙ্গামতির জঙ্গল

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের শেষ প্রান্ত থেকে গঙ্গামতির জঙ্গলের শুরু। এই জঙ্গলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন রকম পাখি, বানর ইত্যাদি পশুপাখি।

কুয়াকাটার কুয়া

রাখাইনদের বাসস্থল কেরাণিপাড়ায় এই কুয়াটির অবস্থান। বলা হয়ে থাকে সাগরের জল লোনা হওয়ায় মিষ্টি পানির উদ্দেশ্যে কুয়াটি খনন করে ছিল রাখাইনরা। 

আস্তে আস্তে এটি কুয়াকাটার পর নামে পরিচিতি পায়। এই প্রাচীন কুয়ার একটু সামনে গেলে রয়েছে সীমা বৌদ্ধ মন্দির। ৩৭ মণ ওজনের অষ্টধাতুর তৈরি করা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে এই মন্দিরে। 

ফাতরার বন

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর পশ্চিম পাশের নদী পার হলেই ফাতরার বন দেখা যাবে। এ বনে বিভিন্ন প্রাণী থাকলেও কোনো হিংস্র প্রাণী নেই।ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বন যাওয়া যায়।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে কিভাবে যাবেন

সরক্ষণ নদীর উভয় পথেই কুয়াকাটা যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বাসে করে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা যেতে পারবেন। আর সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী অথবা বরিশাল হয়ে লঞ্চে করে কুয়াকাটা যেতে পারে।

ঢাকা থেকে লঞ্চ দিয়ে কুয়াকাটা

সদরঘাট থেকে বিভিন্ন লঞ্চ পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যেমনঃ সুন্দরবন-৯, কাজল-৭, এম ভি প্রিন্স আওলাদ-৭, সুন্দরবন-১১, এম ভি এ আর খান-১ ইত্যাদি লঞ্চ। 

লঞ্চের ভাড়াঃ সিঙ্গেল কেবিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা আর ডেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট বা আমতলী ঘাট থেকে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে বাস দিয়ে কুয়াকাটা যেতে পারেন।

এছাড়া সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চের ডেকের ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, কেবিন বেঁধে সিঙ্গেল ও ডাবল কেবিনের ভাড়া ৭০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত লাগবে। লঞ্চঘাটে নেমে রুপাতলি বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?