গাজর খাওয়ার উপকারিতা

গাজরের উপকারিতা ও অপকারিতা

গাজর(Carrot) (বৈজ্ঞানিক নাম Daucus Carota)

প্রত্যেকটি শাকসবজি ও ফলমূল এরমধ্যে ভিটামিন রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। যার মধ্যে গাজর অন্যতম সবজি।

এটি খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। গাজর অনেকে কাঁচাও খান আবার সালাদ বা জুস করে খান খেতে পছন্দ করে।

গাজর ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে থাকে।

এই আর্টিক্যালে গাজর শরীরের জন্য যেসব উপকার বয়ে আনে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো

ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে

গাজর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। মুলত গাজর পলি- এসিটিলিন এবং ফ্যালকারিনল জাতীয় উপাদানগুলিতে সমৃদ্ধ। যা ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদর্শন করতে পারে। 

আমাদের দেহে খাদ্যের কিছু উচ্ছিষ্ট হজমের পর থেকে যায়। যাকে ফ্রী র‍্যাডিক্যালস বা মৌল বলে। এই ধরনের মৌলের বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার। 

যার ফলে শরীরে ক্যান্সারের কোষ উৎপাদন কম হয়। গাজর খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। ফলে নিয়মিত ১/২ টা আমাদের কাঁচা গাজর সালাদ বানিয়ে খাওয়া উচিত।

ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে গাজরের ভূমিকা

গাজরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম এর মত আরো কিছুক্ষণ নিজের উপস্থিতি। যা ত্বককে খুব সহজেই সুস্থ ,সুন্দর ও কোমল করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম এর মত খনিজ উপাদান ত্বক শুকিয়ে যাওয়া স্কিন টোনকে উন্নত করতে এবং ত্বকে বিভিন্ন দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে। 

সুতরাং আপনার ত্বককে সুন্দর ও সতেজ রাখার জন্য অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত গাজর খেতে পারেন। এতে ভালো ফলাফল পাবেন।

শরীরের ওজন কমাতে গাজরের ভূমিকা

অনেকেই রয়েছেন যারা তাদের শরীরের ওজন নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা প্রায়ই চেষ্টা করেন তাদের শরীরের ওজন কমানোর। গাজর এক্ষেত্রে একটি অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। 

কারণ গাজর জাতীয় সবজিতে উপস্থিত ফাইবার। তাজা গাজরে থাকে ৮৮%পানি। এই খাবারটি আস্তে আস্তে হজম করতে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পুরো পেটের অনুভূতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তাই গাজর খেলে আপনার পেট ভরবে কিন্তু শরীরে ক্যালরি ও কম প্রবেশ করবে। তাই শরীরে ওজন কমাতে আপনার খাদ্য তালিকা গাজর অবশ্যই রাখতে পারেন।

চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে গাজরের ভূমিকা

গাজর খেলে আমরা অনেক ধরনের উপকার লক্ষ করতে পারি তার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম হচ্ছে এটি চোখে স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কারণ গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’। 

আমরা জানি, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এতে আরও রয়েছে বেটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও রাতকানা রোগ ইত্যাদির মতো সমস্যায় বাধা দেয় । 

সুতরাং অন্যান্য রোগ থেকে বাঁচার জন্য ও চোখের দৃষ্টি ভালো রাখার জন্য নিয়মিত গাজর খাওয়ার বিকল্প নেই। আমার নিজেও গাজর খাব এবং অন্যকেও খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেবো।

গর্ভাবস্থায় গাজর খাওয়ার উপকারিতা

শুনতে আশ্চর্য হলেও এটাই সত্য যে গর্ভাবস্থায় গাজর খেলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারণ গাজরে রয়েছে ফুলেট নামক একটি ভিটামিন যা অনাগত শিশু এবং তার মায়ের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। 

অনেকেই বলেন গর্ভাবস্থার সময় একটু বেশি গলা শুকিয়ে যায় এবং গাজরে থাকে ৮৮% জল। ফলে গাজর গলা শুকনো হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর করে যার ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ভয় থাকে না। এতে করে মা ও শিশু খুবই ভালো থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে

গাজর হচ্ছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং ভিটামিন ভরপুর। আমরা জানি ভিটামিন কখনো আমাদের শরীরের ক্ষতি করে না বরং আমাদের শরীরের জন্য রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বয়ে আনে।

এটি আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সমস্যা, সর্দি-ঠান্ডা ও কাশি থেকে মুক্তি রাখে। তাছাড়া বয়সের ছাপ দূর করতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে, ওজন কমাতে এবং আরো অসংখ্য সমস্যা ও রোগ রয়েছে যা দূর করার মাধ্যমে গাজর আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। 

বলা যায়, গাজরের পুষ্টি গুনাগুন ও এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। কারণ গাজর খেলে আমাদের শরীরের নানারকম উপকার হয় এর সাথে এটি অনেক ধরনের সমস্যা দূর করতেও সহায়তা করে যার মধ্যে কয়েকটা তুলে ধরা হয়েছে উপরে। 

এগুলো ছাড়াও রয়েছে এর হাজারো গুনাগুন যা লিখে বলে শেষ করা যাবে না। পরিশেষে এটাই বলা যায় আমাদের দৈনন্দিন  খাদ্যের পাশাপাশি আমাদের খাদ্যের তালিকা অবশ্যই  গাজর রাখা উচিত। আমাদের শরীর ও মন ও অসুস্থ থাকলে আমাদের যেকোন কাজে মন বসবে। তাই কাজের পাশাপাশি আমাদের শরীরের উপর যত্নশীল হওয়া উচিত।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?