বান্দরবান জেলার দর্শনীয় স্থান

বান্দরবান জেলা চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। বাংলাদেশের তিনটি দর্শনীয় পার্বত্য জেলা রয়েছে। তন্মধ্যে বান্দরবান অন্যতম অপরূপ সুন্দর জেলা। 

আপনি যদি বান্দরবান ভ্রমন করতে চান তাহলে বান্দরবান সম্পর্কে জানা থাকলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। তাই আজকে আমরা আপনাদের জানাবো বান্দরবান জেলার দর্শনীয় স্থান। যেন আপনারা এক ট্রিপে অনেকগুলো জায়গা ঘুরে আসতে পারেন।

কেওক্রাডং

এটি বাংলাদেশের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। এই পর্বতের উচ্চতা ৯৮৬ মিটার। কেওক্রাডং পাহাড় বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা ও মায়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

নীলগিরি

বান্দরবান সদর হতে ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে নীলগিরি অবস্থিত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট। এই পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত।

নাফাখুম

এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত। বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় নাফাখুম জলপ্রপাতটি অবস্থিত। এটি মারমা অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত।

নীলাচল

এটি বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফুট উঁচু টাইগার পাড়ায় পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়ের উপর নীলাচল অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থান।

আলীর সুড়ঙ্গ

বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় এর অবস্থান। সেখানে আলীর পাহাড় নামে একটি পাহাড় রয়েছে সেই পাহাড়ের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে আলীর সুড়ঙ্গ। এটি একটি রহস্যজনক সুরঙ্গ। এটি আলীর গুহা বা আলীর সুড়ঙ্গ দুই নামেই পরিচিত।

ডিম পাহাড়

এই পাহাড়টি বান্দরবান জেলার থানচি ও আলীকদম উপজেলার মাঝখানে অবস্থিত। থানচি-আলীকদম সড়ক বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক পথ হিসেবেই পরিচিত। এই সড়কটি ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। 

এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ২৫০০ ফুট উপরে অবস্থিত। এই পাহাড়টি দেখতে ডিমের মতো। তাই সবাই একে ডিম পাহাড় নামে চেনে।

বগালেক

এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হ্রদ। এই আশ্চর্যজনক হ্রদটি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে প্রায় ১৭০০ ফুট উপরে অবস্থিত। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় কেওক্রাডং পাহাড়ের পাশে এটি অবস্থিত।

সাতভাইখুম

বান্দরবান জেলার আমিয়াখুম জলপ্রপাত থেকে কিছুটা দূর পাহাড়ে এটি অবস্থিত। এটি একটি বিশালাকৃতির পাথরের পাহাড়ের মাঝে সবুজ শান্ত ও স্বচ্ছ জলধারা।

আমিয়াখুম জলপ্রপাত

প্রাকৃতিক লীলাভূমি বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় আমিয়াখুম জলপ্রপাতটি অবস্থিত। পাহাড় আর পাথর বেয়ে নেমে আসছে পানির শীতল ধরা। এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি সুন্দর জলপ্রপাত।

মিলনছড়ি

পর্যটন জেলা বান্দরবান শহরের তিন কিলোমিটার দূরে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান মিলনছড়ি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই মিলনছড়ি। চারিদিকে নয়নাভিরাম সবুজে ঘেরা, পাহাড়ের চূড়ায় রাস্তা, সাঙ্গু নদীর মোহনা যেন শিল্পীর রঙের চিত্রের মত আঁকা এক নান্দনিক চিত্র।

শৈলপ্রপাত ঝর্ণা

বান্দরবান-থানচি রাস্তার পাশে এর অবস্থান। এটি বান্দরবান জেলার থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ঝর্ণায় প্রতিনিয়ত বয়ে চলছে হিম শীতল পানি। শৈলপ্রপাত ঝরনার পানি খুবই স্বচ্ছ। এই ঝর্নাটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি।

জাদিপাই ঝর্ণা

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় এটি অবস্থিত। কেওক্রাডং পাহাড় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে জাদিপাই ঝর্নার অবস্থান। জাদিপাই ঝর্ণা কালো পাথর বেয়ে ২০০ ফুট উপর থেকে সাঙ্গু নদীর সাথে মিশেছে। তিনটি পাহাড়ের ঝিরি পানি একসঙ্গে মিলে এই ঝর্নাটির সৃষ্টি হয়েছে।

ঋজুক ঝর্ণা

পর্যটন জেলা বান্দরবান থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরে ঋজুক ঝর্না অবস্থিত। বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমা বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সাঙ্গু নদীর পারে ঋজুক ঝর্ণার অবস্থান। পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে সারা বছর এই ঝর্না থেকে রিমঝিম শব্দে পানি পড়ে।

ক্লিবুং ঝর্না বা ডাবল ফলস

পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় সুংসাং পাহাড়ে ক্লিবুং ঝর্ণাটি অবস্থিত। থাইক্ষাং ও সুংসাং এলাকার জঙ্গলের মাঝখানে এই ঝর্নাটির অবস্থান। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এখানে দুটি ঝর্ণা ধারা রয়েছে। 

বাকলাই ঝর্ণা

বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় বাকলাই ঝর্ণাটি অবস্থিত। থানচি উপজেলার বাকলাই গ্রামের দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই ঝর্নাটির অবস্থান। এই চমৎকার ঝর্নাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্না। এই ঝর্নাটি প্রায় ৩৮০ ফুট উঁচু থেকে প্রবাহিত হয়।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?