লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

লেবু আমাদের পরিবারের জন্য দৈনন্দিন একটি পরিচিত টক জাতীয় ফল। আমরা মূলত লেবুর রস দিয়ে শরবত বানাই, সালাতে লেবু ব্যবহার করি, লেবুর রস দিয়ে ওষুধ তৈরি করি। 

লেবু খাবারের স্বাদ বাড়ায়। লেবু আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। আজকে আপনাদের লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতার কথা জানাবো।

লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

লেবুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি। আর ভিটামিন-সি হৃদয়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। লেবুর খোসার মধ্যে রয়েছে কিছু ফ্ল্যাভোনয়েড। আর ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি এর উৎস হল লেবু এবং লেবুর রস। এটি কোষের ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

লেবু বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো সাধারণ ঠান্ডা এবং ফ্লু সৃষ্টিকারী জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে তোলে। 

লেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি বিদ্যমান। আর এই ভিটামিন-সি সর্দি কাশি কমাতে সাহায্য করে। যারা কাশি সর্দি আক্রান্ত তারা এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ মধু এবং লেবু চেপে খেলে আরাম পাবেন।

আমাদের মধ্যে যারা শারীরিকভাবে দুর্বল তাদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ভিটামিন-সি।

আমরা যারা চর্বিযুক্ত খাবার খেতে পছন্দ করি তারা যদি সাথে লেবু গ্রহণ করি তাহলে তাদের ওজন তুলনামূলকভাবে বাড়বে না। শরীরের চর্বি, ইনসুলিন প্রতিরোধ, বিএমআই, শরীরের ওজন ইত্যাদি ঠিক থাকবে যদি আপনি লেবুর ডিটক্স ডায়েট অনুসরণ করেন। 

একটি সংস্থা ২০১৬ সালে ৮৪ জন মহিলার ওপর সাত দিনের জন্য এই লেবুর ডিটক্স ডায়েট অনুসরণ করে সফল হয়েছিল।

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে লেবু। জাপানের নারীরা যারা প্রতিদিন হাঁটেন এবং লেবু খান তাদের রক্তচাপ অন্যান্য দেশের তুলনায় কম ২০১৪ সালে একটি গবেষণায় প্রমাণিত।

আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন খাবার খাই আর এসব খাবার থেকে লোহা শুষে নিতে সাহায্য করে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক এসিড। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যাদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রয়েছে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

লেবু খাদ্য হিসেবে যেমন আমাদের বিভিন্নভাবে উপকার করে ঠিক তেমনি আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য লেবু বেশ উপকারী। ত্বক উজ্জল ও স্বাস্থ্যকর দেখতে প্রাচীন ঘরোয়া প্রতিকার গুলির মধ্যে একটি হচ্ছে লেবুর রস। 

চিনি, গোলাপজল, মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক ফর্সা হয়। লেবু একটি ভালো ব্যাকটেরিয়ারবিরুধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। লেবুর এই দুটি বৈশিষ্ট্য ত্বকের ব্রণ, কালচে ছাপ, অকাল বার্ধক্যের চিহ্ন সমস্যা দূর করে। 

এছাড়াও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং উন্নত করতে লেবুর এই দুটি বৈশিষ্ট্য সমানভাবে কাজ করে। অনেক আগে থেকেই নারকেল ও লেবুর রস চুলের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে ব্যবহার হয়ে থাকে।

আমরা বিভিন্নভাবে লেবুর শরবত তৈরি করে থাকি। যেমন:

আদা পুদিনা লেবুর শরবত (২ টেবিল চামচ পরিমাণ লেবুর রস ও ১০-১২ টা পুদিনা পাতা)

শসা লেবুর শরবত (শসা পানির সাথে মিশে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিবেন, ৩ টেবিল চামচ পরিমাণ চিনি এবং দেড় টেবিল চামচ লেবুর রস পরিমাণ মত লবণ)

রুহ-আফজা লেবুর শরবত (১ চা চামচ রুহ আফজা, দেড় চামচ লেবুর রস, ৩ চামচ চিনি, দেড় কাপ পানি এবং পরিমাণ মতো খাবার লবন)

ট্যাং লেবুর শরবত শরবত (ট্যাংক পাউডার ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, চিনি ৩ চামচ, নর্মাল পানি দেড় কাপ সামান্য পরিমাণে খাবার লবণ)

ইসুবগুলের লেবুর শরবত (লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, ১ চামচ চিনি, ৩ চামচ পানি, দেড় কাপ পানি, সামান্য পরিমাণে লবণ)।

এই একেকটি শরবত একেকভাবে উপকারে আসে আমাদের শরীরে। আমাদের শরীরের সাইট্রিক এসিডের যোগান দেয় লেবুর শরবত। সকালে খালি পেটে লেবুর রস শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

লেবুর রস যেমন আমাদের বিভিন্ন উপকার করে ঠিক তেমনি লেবুর খোসাও আমাদের বিভিন্ন উপকারে আসে। হাড়ের ক্ষয় পূরণ, কোলেস্টোর কমানো, হজম শক্তি বৃদ্ধি, ক্যান্সার প্রতিরোধে লেবুর খোসা বেশ কার্যকরী। 

ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে চায়ের সাথে লেবুর খোসা ব্যবহার করলে। এছাড়া লেবুর খোসা ক্ষারীয় হয় যা আমাদের শরীরের পিএইচপি বজায় রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি বজায় রাখতে সাহায্য করে লেবুর খোসায় থাকা ভিটামিন-সি ও ক্যালসিয়াম। অন্ত্রের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে লেবুর খোসা। 

লেবুর খোসায় থাকা ভিটামিন-সি শরীরকে সংক্রমিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

লেবুর এতো এতো উপকার এর মধ্যেও এর কিছু ক্ষতিকর দিক আছে। খুব কম ক্ষেত্রে লেবু আমাদের ক্ষতি করে থাকে। আসুন লেবুর কিছু ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে নিই।

লেবুর অপকারি দিকগুলো

ত্বকের উপর সরাসরি লেবু ব্যবহার করলে আপনার ত্বক জ্বলে যেতে পারে। আর তাই পানি বা তেল ব্যবহার করবেন লেবুর রসের সাথে। 

আপনি লেবু ব্যবহারের পর যদি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকেন তাহলে আপনার ত্বকের অনেক ক্ষতি হতে পারে। ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে কারন লেবু অল্মীয়। 

আমাদের হারের জয়েন্টের রস বা তেল ধীরে ধীরে শোষণ করে ফেলতে পারে লেবু। লেবুর রসের কারণেই লেবুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো বেশি ঘটে থাকে। 

তাই প্রতিদিন লেবুর রস না খাওয়াই শ্রেয়। 

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে লেবুর পানি পান করলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। কিডনিতে প্রস্রাব উৎপাদন করে অতিরিক্ত লেবু সেবন। লেবুর রসে ভিটামিন-সি বা অ্যাসকরবিক এসিড বেশি থাকায় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পৃথিবীতে অনেক ধরনের ফল রয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে লেবু ছোট হওয়া সত্যেও এর গুণাগুণ অন্যসব ফলের তুলনায় অনেক বেশি। 

লেবু আমাদের অনেক উপকার করে এর ক্ষতির পরিমান খুবই নগন্য। আমাদের সবার উচিত দৈনিক কমপক্ষে একটি করে লেবু খাওয়া। লেবু আমাদের শরীরে ভিটামিন-সি সরবরাহের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, থায়ামিন এসবের গুণ রয়েছে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?