গাজরের উপকারিতা ও অপকারিতা

গাজর একটি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর সবজি। গাজরের মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আজকের পোষ্টে গাজরের উপকারিতা ও অপকারিতা গভীরভাবে আলোচনা করা হবে।

বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মধ্যে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, পটাশিয়াম, আয়রন, ফাইবার এবং বিটা ক্যারোটিন ইত্যাদি উপাদান গাজরের মধ্যে বিদ্যমান। 

১০০ গ্রাম কাঁচা গাজর এর মধ্যে রয়েছে ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, ১১৩.৩১ মিলিগ্রাম ভিটামিন-বি, ১০০০ মিলিগ্রাম প্রোটিন, ২০০ মিলিগ্রাম ফ্যাট, ৩৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ৩৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ২.৪ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৯০০০ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩০০০ মিলিগ্রাম ডায়েটারি ফাইবার।

গাজরের উপকারিতা

গাজরের মধ্যে বিদ্যমান বিটা ক্যারোটিন আপনার দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। বিটা-ক্যারোটিন আমাদের লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়। যা চোখের রেটিনায় গিয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।

গাজরের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার। যা মলত্যাগের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। ফলে এটা লিভার ও কোলনকে পরিষ্কার করে। 

গাজরের বিদ্যমান ভিটামিন-এ শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। আমাদের লিভার এর মধ্যে রয়েছে পিত্ত ও হিমায়িত ফ্যাট। আর এই পিত্ত ও হিমায়িত ফ্যাট কমাতে গাজর সাহায্য করে। যার ফলশ্রুতিতে দেহের অতিরিক্ত ওজন কমে যায়।

গাজর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কারন গাজরের মধ্যে আছে Falcarindiol এবং Falcarinol যা আমাদের শরীরের anti-cancer উপাদানগুলোকে পুনরায় পূরণ করে। 

গাজর খেলে আমাদের শরীরে যেসকল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে সেগুলো হলো ফুসফুসের ক্যান্সার, কলোরেক্টাল ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার। খাদ্যের কিছু উচ্ছিষ্ট আমাদের শরীরে থাকে এগুলো আমাদের শরীরের কিছু কোষ নষ্ট করে দেয়। আর গাজর এগুলো প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

আমরা সবাই চাই যাতে আমাদের ত্বক সুন্দর থাকে। আপনি যদি আপনার ত্বককে সুন্দর রাখতে চান তাহলে আপনি গাজর খেতে পারেন। 

কারণ গাজর আপনার ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে। আপনি গাজরের জুস অথবা সালাতে গাজর খাবেন। যা আপনার ত্বকের ভাঁজ পড়া, কালো দাগ, ব্রণ ইত্যাদি দূর করবে।

নিয়মিত গাজর খেলে দাঁত সুস্থ ও সুন্দর হয় এবং মাড়ি শক্ত হয়। গাজর খেলে মুখের ভিতর লালা বৃদ্ধি হয়। সিলভা নামক একটি যৌগের নিঃসরণ হয় গাজর খাওয়ার সময়। এই সিলভা মুখে এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং যে সব ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় করে তাদের ধ্বংস করে।

গাজর ইনফেকশন হওয়ার থেকে রক্ষা করে। কারণ গাজর অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে সেখানে গাজরের রস লাগিয়ে দিলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

গাজর খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে। কারণ গাজরে রয়েছে ক্যারোটিন ও লুটিন নামক দুটি উপাদান। আপনার ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, গাজরে রয়েছে ডায়েটরি ফাইবার। এই উপাদানগুলো ধমনীর উপর আস্তরণ জমতে দেয়না ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আমাদের হার্ট সুস্থ থাকে।

আমাদের বিভিন্ন সমস্যার জন্য কান ব্যথা করে। যেমন সর্দি কাশি বা কোনো অসুস্থতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আর এসব কারণে যদি আপনার কান ব্যথা করে তাহলে আপনি কলা, গাজর, আদা, রসুন একসাথে পানিতে সেদ্ধ করে, সেই পানির ১-২ ফোটা কানের ভিতরে দিলে কানের ব্যথা কমে যায়।

গাজর দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করি। গাজর দিয়ে তৈরি এরকম একটি খাবার হচ্ছে গাজরের হালুয়া। এটি শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে। এছাড়া গাজরের জুস আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় এবং নার্ভাস সিস্টেম উন্নত করে।গাজরের জুস শিশুদের পেটের কৃমি সমস্যা দূর করে।

মহিলারা গর্ভ অবস্থায় গাজর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিবেনা। গর্ভাবস্থায় মহিলাদের পেশি শক্ত হয়ে যায় বা শিরায় টান লাগে গাজর এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

গাজর যেমন নানাবিধ সমস্যার ভালো প্রতিষেধক ঠিক তেমনি এর কিছু অপকারিতা রয়েছে। চলুন জেনে নিই 

গাজরের অপকারিতা

প্রচুর পরিমাণে গাজর খেলে আমাদের ত্বকের রঙ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ত্বকের রঙ হলুদ হয়ে যেতে পারে।

গরমের সময় বেশি গাজর খাওয়া যাবেনা। কারণ এর ফলে অনিদ্রা এবং রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

যাদের শরীরে ডায়াবেটিস রয়েছে তারা গাজর খাবেন না। কারণ গাজরে মিষ্টির পরিমাণ বেশি।

মহিলাদের বুকের দুধের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায় অতিরিক্ত গাজরের রস খাওয়ার ফলে।

অতিরিক্ত গাজর খেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন গ্যাস, ডায়রিয়া, পাকস্থলীর পচনজনিত রোগ ইত্যাদি।

উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে পরিমাণমতো গাজর খান। অতিরিক্ত কোন কিছু খাওয়া ভালো না। তাই পরিমাণমতো ও সুস্বাদু গাজর খান নিজেকে সুস্থ রাখুন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?