দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

আমরা সবাই চাই যেন বছরের ১২ মাস আমাদের ত্বক সুস্থ সুন্দর থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের ত্বকে অনেক সমস্যা দেখা দেয় যা আমাদেরকে চিন্তায় ফেলে দেয়। এই ধরনের একটি রোগ হলো দাদ রোগ। আজকের টপিকে দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দাদ একটি ত্বকের সমস্যা। বিভিন্ন কারণে যেমন ঘাম, আবহাওয়া, অপরিষ্কার থাকা ইত্যাদির জন্য দাদজনিত সমস্যা দেখা দেয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা দাদজনিত সমস্যায় ভুগছে। চলুন দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে কিছু জানা যাক। পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইলো।

দাদ রোগ কি

দাদ রোগ

দাদ কে ইংরেজিতে বলা হয় রিংওর্ম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দাদ রোগকে বলা হয় ডার্মাটোফাইসিস। 

দাদ রোগ একটি চর্মরোগ। আমাদের দেহের বিভিন্ন জায়গায় লালচে গোলাকার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যে জায়গায় এই লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায় সেখানে অনেক চুলকায়। আরে ফুসকুড়ি গুলিকেই বলা হয় দাঁত বা চুলকানি রোগ।

দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

নারকেল তেল

দাদ চুলকানি দূর করার জন্য নারকেল তেল অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আপনার যেই জায়গার সংক্রমিত হয়েছে সেই জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে পরের সেই স্থানে হালকা করে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন। 

এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে দাদ রোগটি আস্তে আস্তে সেরে উঠবে।

পেঁপে

পেঁপে দাদ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। দাদ রোগের প্রকোপ ঠেকাতে পেঁপে গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে। 

সর্বপ্রথম আপনাকে একটি পেপে নিয়ে সেটি দিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পরে এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আশানুরূপ ফল পেতে আপনাকে এটি নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

রসুন

আমরা তরকারিতে রসুন ব্যবহার করি। তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য এবং স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও রসুনের আরো গুনাগুন রয়েছে। 

রসুন দাদ রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আপনি আক্রান্ত স্থানে রসুনবাটা অথবা রসুন কেটে পাতলা করে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ পর স্থানটি ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

ঘৃতকুমারির রস

ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ঘৃতকুমারির রস বা অ্যালোভেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘৃতকুমারীর তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ হয়। 

দাদ চুলকানি দূর করার জন্য আপনি ঘৃতকুমারীর রস ব্যবহার করতে পারেন। আক্রান্ত স্থানে ঘৃতকুমারীর রস নিয়মিত কয়েক দিন ব্যবহার করলে দাদ চুলকানি আস্তে আস্তে সেরে উঠবে। প্রাকৃতিক ঘৃতকুমারি ব্যবহার করলে দাদ চুলকানির সর্বোত্তম ফলাফল পাবেন।

কাঁচা হলুদ

ত্বকের যত্ন, রান্না কিংবা বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। দাদ চুলকানির জন্য হলুদ খুব ভালো কাজ করে। কাঁচা হলুদ বেটে সেগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। পড়ে আক্রান্ত স্থান ভালো করে পরিষ্কার করে সেখানে পেস্ট লাগাতে হবে।

নিমের তেল

নিম বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা ও রোগ জীবাণু থেকে আমাদের রক্ষা করে। 

বিভিন্ন চর্মরোগ যেমন দাদ, ব্রন ইত্যাদি থেকে বাঁচতে নিম এর ভূমিকা অপরিহার্য। নিমের তেল ব্যবহার করে খুব সহজেই অল্প সময়ে দাদের সংক্রমণ কমিয়ে ফেলতে পারি। দাদ চুলকানি থেকে তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে আপনি নিমের তেলের সাথে ঘৃতকুমারীর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

পুদিনা পাতা

বিভিন্ন খাবার যেমন বোরহানি, রায়তা, কাবাব ইত্যাদি খাবারে প্রায়ই পুদিনা পাতা ব্যবহার করি। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে পুদিনাপাতা দাদ চুলকানি দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। 

এটি ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে প্রথমে পুদিনা পাতা বেটে পিসে এর মধ্যে অল্প পরিমাণ লেবুর রস দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। পরে এই পেস্টটি যেখানে দাদ রয়েছে সেখানে খুব সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

তারপরেও আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে যে অবশ্যই প্রথমে আপনার রোগটি নিয়ে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে আলোচনা করা। এবং ডাক্তারের দেয়া নির্দেশনা অনুসরন করা।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?