বিশ্বগ্রাম / গ্লোবাল ভিলেজ কি

আজকের পোস্টে আমরা গ্লোবাল ভিলেজ বলতে কি বুঝায় তা নিয়ে আলোচনা করব।

ভিলেজ মানে তো আমরা সবাই বোঝি যে একটি গ্রাম কে বোঝাচ্ছে। গ্রাম হল ছোট একটি গোষ্ঠী অথবা কয়েকটি বাড়ির একটি সংখ্যাকে বোঝায়। অর্থাৎ কয়েকটি বাড়ির সমষ্টি নিয়ে একটি গ্রাম গঠিত হয়। 

গ্রাম মূলত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার সীমিত আয়তনের মধ্যে গঠিত হয়ে থাকে। ছোট আয়তনের কারণে একটি গ্রামের যারা বসবাস করে সব বসবাসকারী মানুষজন সবাই সবাইকে চেনে। আপনারা যারা গ্রামে বসবাস করেন তারা নিশ্চয়ই একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। সমস্যাটি হল ঠিক এরকম যে সেখানে কোন একটি খবর বাতাসের আগে ছড়িয়ে যায়। ব্যাপারটি যেকোনো কারো ক্ষেত্রে হতে পারে। যদি সেটা কোন অন্যায় মূলক বা অবৈধ কাজ হয় তাহলে তো কোন কথাই নাই।

অর্থাৎ কোন তথ্য সেটা যেকোনো ধরনের তথ্য হতে পারে তা যদি প্রকাশিত হয় তাহলে তা মুহূর্তেই গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত জানাজানি হয়ে যায়। তাছাড়া গ্রামে বসবাস করা আরেকটি সুবিধা হল যে এখানে শহরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় না। শহরের যেমন পাশাপাশি প্রতিবেশী থাকার পরেও কেউ কারো সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে না কিন্তু গ্রামে আপনি যেকোনো মুহূর্তে একজনের পাশে অন্যজনকে সহযোগিতা করার জন্য পাবেন। 

যাইহোক মূলত গ্রাম নিয়ে আলোচনা করার পোস্ট এটি না। গ্লোবাল ভিলেজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। যেহেতু ভিলেজ শব্দটির সঙ্গে আমরা এখন পরিচিত তাহলে গ্লোবাল শব্দটির মানে কি।

গ্লোবাল শব্দটির মানে হল বিশ্ব। তাহলে গ্লোবাল ভিলেজ এর পুরো মানে হল বিশ্বগ্রাম। 

আর প্রকৃত অর্থে গ্লোবাল ভিলেজ বলতে বোঝায় একটি প্রযুক্তিনির্ভর যাতে এই বিশ্বে যেসব দেশ থাকবে এবং যেসব জাতি থাকবে তারা সবাই একই সাথে একটি গ্রামের মতো করে সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে।

গ্লোবাল ভিলেজ ব্যাপারটি আরেকটু ক্লিয়ার করার জন্য আপনারা একটি দেশের প্রতিটি অঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করতে পারেন। যেমন যদি বাংলাদেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবেন যে দেশের প্রতিটি প্রান্তে আপনারা গ্রামের অস্তিত্ব লক্ষ্য করবেন। 

আবার এসকল কতগুলি গ্রামের সমষ্টি মিলে একটি শহর প্রত্যক্ষ করবেন। আবার এরকম কতগুলো শহর নিয়ে আপনারা একটি জেলা বা অঞ্চল দেখবেন। এবং শেষ পর্যায়ে কতগুলো জেলা অঞ্চলের সমষ্টি মিলে গড়ে ওঠে পুরো একটি দেশ।

আবার এসব অসংখ্য দেশ মিলে ভৌগলিক অবস্থান তৈরি করে তাকে আমরা বিশ্ব বলে বিবেচনা করে। বর্তমান দিনের প্রেক্ষাপটে আমরা যদি একটু নজর দিই তাহলে বুঝতে পারবো যে বর্তমানে প্রযুক্তি আমাদের আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এ প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো বিশ্বের পরিধি আজ ছোট অর্থাৎ এ প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো বিশ্বের পরিধি আজ অনেক ছোট হয়ে এসেছে। চাইলে কিন্তু আপনারা এখন একটি ঘরের কোনায় বসে থেকে পুরো বিশ্বের খবরা-খবর মুহূর্তের মধ্যেই জেনে নিতে পারতেছেন। ভাবুন তো এই ব্যাপারটা যদি আরো ৩০ থেকে ৫০ বছর আগের মানুষরা চিন্তা করতে পারত।

যেহেতু পুরো বিশ্ব এখন আমার হাতের মুঠোয়। তাই বৃহৎ এই প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টাই হলো একটি গ্রামের মতো। আর পুরো পৃথিবী একটি একক পরিবার। 

সুতরাং মনে করি আপনি এই গ্লোবাল ভিলেজ এর অর্ধেক অংশ বুঝে গিয়েছেন। আর গ্লোবাল ভিলেজ বলতে এমন একটি ধারণাকে পোষণ করা হয়েছে যে, যেখানে পুরো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন একে অপরের সাথে খুব সহজেই সকল কিছুতে যুক্ত থাকতে পারবে। যেমন আমি যদি বলি আমাদের রোজকার দৈনন্দিন প্রয়োজনে কোন বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে। যাতায়াত আমাদের দৈনিক প্রয়োজনে ভূমিকা রাখে ঠিক তেমনি ভ্রমণ, গণমাধ্যম, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি আমাদের দৈনিক প্রয়োজন হয়। আর এই সকল সুযোগ সুবিধা গুলো একটি একক কমিউনিটি তে পরিণত হয়। 

ইন্টারনেটের প্রসারের কথা আর নাইবা বললাম। মূলত ইন্টারনেট এর সাফল্যের কারণে আমরা একটি গ্লোবাল ভিলেজে একত্রিত হতে পেরেছি। দেখুন আপনি কিন্তু বিশ্বের যেকোন প্রান্তের কোন একটি দেশে বসে অপরপ্রান্তের আপনার যেকোনো পরিচিত অপরিচিত, লোকের সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারতেছেন। এবং যোগাযোগের মধ্যে যে সময়কার ব্যবধান তা কিন্তু খুবই অল্প। 

অর্থাৎ এখানে তথ্যের আদান প্রদানের যে বিষয় রয়েছে তা আমাদের এতটাই কাছে নিয়ে এসেছে যে আমরা এখন মনে করতে পারি যে বিশ্ব এখন একটি গ্রামের মতো। 

আর এর কারণে আমরা একে অপরের প্রতি অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। যেটা আগে একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত কিন্তু গ্লোবাল ভিলেজ এর সময়ে এই সীমাবদ্ধতা আর নাই। করোনাকালীন সময় আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের অফিসের সম্পূর্ণ কার্যক্রম তাদের কর্মচারীরা ঘর থেকে বসেই করার সুবিধা পেয়েছিলেন। 

এখনো এমনও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা তাদের কর্মচারীদের ঘরে বসে কাজ করার অনুমতি দিয়ে থাকেন। কারণ যে কাজটা আপনি অফিসে গিয়ে করবেন সে কাজটা আপনি ঘরে বসেই করতে পারতেছেন। এবং অফিসে যাওয়ার থেকে ঘরে বসে করার আউটপুট আরো বেশি। তাহলে কেনইবা আপনি এই ধরনের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হবেন না।

শেষ পর্যায়ে গ্লোবাল ভিলেজ এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

প্রত্যেকটি বিষয়ে এপিঠ-ওপিঠ থাকবেই। ঠিক তেমনি এখানেও কিছু সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধা রয়েছে। 

গ্লোবাল ভিলেজ এর সুবিধা সমূহ

  • সবচেয়ে বড় সুবিধা হল মুহূর্তের মধ্যেই আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
  • ঘরে বসেই শুধুমাত্র স্কিল অর্জন করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
  • যেহেতু একমুহূর্তেই এ প্রান্তের খবর অন্য প্রান্তে চলে যাচ্ছে তাই দূরত্ব অনুভূত হয় না।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থা খরচ অনেক কম।
  • বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং তাদের সাথে সংঘটিত লাইভ তথ্যগুলো সাথে সাথেই জানা যায়।
  • আপনি ঘরে বসেই যে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কেনাকাটা সেরে ফেলতে পারবেন।
  • বিশ্বের যে কোন দেশের তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
  • বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের চিকিৎসকদের সাথে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

গ্লোবাল ভিলেজ এর আরো অনেক সুবিধা রয়েছে যা বর্তমানে আমরা আরো বেশি ব্যবহার করে থাকি। আমাদের চলার প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা এর সুবিধা ভোগ করতেছি। 

গ্লোবাল ভিলেজ এর অসুবিধা সমূহ

  • গ্লোবাল ভিলেজ এর সবচেয়ে মারাত্মক অসুবিধা হলো হ্যাকিং। 
  • আরেকটি অসুবিধা হলো আপনার তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকে না।
  • বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে যেতে পারে এবং বিশৃংখলার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়।
  • সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেটে সময় দেয়ার কারণে আপনি একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি করেন যা আপনাকে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এতে করে আপনার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পায়।
  • আরেকটি বড় অসুবিধা হলো বেকারত্বের সৃষ্টি হয়। 

আশাকরি গ্লোবাল ভিলেজ পুরো বিষয়টি আমি সংক্ষিপ্ত আকারে খুব সুন্দর করে আপনাদেরকে বুঝাতে পেরেছি। যদি এর পরেও কোন বস্তু অসুবিধা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই কমেন্ট এর মাধ্যমে প্রশ্নটি করতে হবে।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?