একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা বিশাল সংগ্রহ

একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা বিশাল সংগ্রহ

আর কয়েকদিন পরেই ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি মাস। ফেব্রুয়ারি মাস হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং এই দিবসের সূচনা হয়েছিল আমাদের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই।

বাংলা ভাষা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক কবি অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। এই কবিতাগুলি একুশে ফেব্রুয়ারির কবিতা বলে পরিচিত।

ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য বিশাল একটি একুশে ফেব্রুয়ারীর কবিতা সংগ্রহশালা নিয়ে আসা হলো। মনে রাখবেন সম্পূর্ণ এবং সব কবিতাগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

কখনোই এই কবিতা গুলোর দাবিদার বিডি পপুলার না। ভাষার এই মাসে সুন্দর এবং জনপ্রিয় কবিতা গুলির দিকে একনজর চোখ বোলানো আমাদের সকলেরই উচিত।

কবিতাগুলির পাশাপাশি যদি ইউটিউবে এই কবিতা গুলোর কোন ভিডিও থাকে তাহলে অবশ্যই ইউটিউব এর লিংক নিচে দেওয়া হবে। যেন সরাসরি আপনারা ভিডিওর মাধ্যমে কবিতা গুলো শুনে নিতে পারেন।

একুশের কবিতা – আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

একুশ মানে

একুশ মানে আশার আলো
হাসি মুখে জীবন দিলো।
একটি ফুলের জন্য।

একুশ হলো স্বাধীনতার।
বিশ্ব বাসীর মানবতার ।
বাংলা হলো ধন্য ।

একুশ এলো স্মৃতির কথায়।
বাংলা মায়ের বুকের ব্যথায়
শহীদ দিবসে গণ্য।

একুশ আসে জীবন থেকে,
মাতৃভাষার মর্যাদা রেখে।
একুশ নয়তো পণ্য।

একুশ ডাকে আপন করে
রফিক, বরকত ভাইকে ধরে
দূর করে শত্রুর অরগ্য

অমর একুশ

একুশ, একুশ শত একুশ
অনেক একুশ পাই
ফেব্রুয়ারীর একুশের মত
কোনো একুশ নাই
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই,

একুশের মিছিলে খুঁজে যে পাই
বুকের ভেতর কোনো ভয় নাই,
শহীদ হলেন হাজারো ভাই ।
মিছিলে মিছিলে ভরেছে ঢাকা
শহীদ ভাষা ভাইয়ের রক্তে আঁকা।

ভাষা যে সোনার হরিণে লেখা
এই ভাষাতে জীবন দিতে শেখা
লালে লাল রাজ পথ
বুলেট বৃদ্ধ ভাই পরে আছে।

তাদের জীবন অমর হোক
যেনো, তারা এই মনেতে সারা জনম বাঁচে।

একুশের কবিতা

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে!

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

বাংলার পানে

ভালবাসি দেশের মাটি
ভালবাসি আমার মা।
সবুজে ভরা চারপাশ
মাঝে সূর্যটা

আব্বশে সাদা বক
নিচে সবুজ মাটি
আমাদের কাছে এ মাটি
সোনার চেয়েও খাঁটি।

নদীর বুকে পাল তুলে
যায় ছোট-বড় নৌকা।
গান গেয়ে মাঝি ধরেন
হাতের সেই বৈধা

সবুজের পর সবুজে ঢাকা
সারা বাংলার রূপ।
কৃষকের দিকে চেয়ে আছে
সারা বাংলার মুখ।

দেশের বুকে শত নদী
ভেসে ভেসে যায়।
বাংলার পানে নয়ন আমার
বারবার ফিরে তায়

বারবার ফিরে আসে

বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বারবার,
বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।

‘আবার আসবো ফিরে’ ব’লে সজীব কিশোর
শার্টের আস্তিন দ্রুত গোটাতে গোটাতে
শ্লোগানের নিভাঁজ উল্লাসে
বারবার মিশে যায় নতুন মিছিলে, ফেরে না যে আর।
একটি মায়ের চোখ থেকে
করুণ প্লাবন মুছে যেতে না যেতেই
আরেক মায়ের চোখ শ্রাবণের অঝোরে আকাশ হ’য়ে যায়।
একটি বধূর
সংসার উজাড়-করা হাহাকার থামতে না থামতেই, হায়,
আরেক বধূর বুক খাঁ-খাঁ গোরস্থান হ’য়ে যায়,
একটি পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচা মাটি
ঝ’রে পড়তে না পড়তেই
আরেক পিতার বুক-শূন্য-করা গুলিবিদ্ধ সন্তানের লাশ
নেমে যায় নীরন্ধ্র কবরে।

বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
উনিশ শো ঊনসত্তুরের
তরুণ চীৎকৃত রৌদ্রে যে-ছেলেটা খেলতো রাস্তায়,
বানাতো ধুলোর দুর্গ, খেতো লুটোপুটি নর্দমার ধারে
বিস্ময়ে দেখতো চেয়ে ট্রাক, জীপ,
রাইফেল, টিউনিক, বেয়োনেট, বুট, হেলমেট,
এখন সে টলমল পদভরে শরিক মিছিলে।
লাজনম্র যে মেয়েটি থাকতো আড়ালে সর্বক্ষণ,
যে ছিল অসূর্যস্পশ্যা, এখন সে ঝলসায় মিছিলে মিছিলে।
তাদের পায়ের নিচে করে জ্বলজ্বল নীলনকশা নব্য সভ্যতার।

বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হতাশাকে লাথি মেরে, ভয়কে বেদম লাঠি পেটা ক’রে
সবখানের শ্লোগানের ফুলকি ছড়াই।
বারবার আমাদের হাত হয় উদ্দাম নিশান,
বারবার ঝড়ক্ষুব্ধ পদ্মা হই আমরা সবাই।

আমাকেই হত্যা করে ওরা, বায়ান্নোর রৌদ্রময় পথে,
আমাকেই হত্যা করে ওরা
উনসত্তরের বিদ্রোহী প্রহরে,
একাত্তরে পুনরায় হত্যা করে ওরা আমাকেই
আমাকেই হত্যা করে ওরা
পথের কিনারে
এভন্যুর মোড়ে
মিছিলে, সভায়-
আমাকেই হত্যা করে, ওরা হত্যা করে বারবার।
তবে কি আমার
বাংলাদেশ শুধু এক সুবিশাল শহীদ মিনার হ’য়ে যাবে?

মাগো, ওরা বলে

‘কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর, আমি ডালের বড়ি
শুকিয়ে রেখেছি—
খোকা তুই কবে আসবি!
কবে ছুটি?’
চিঠিটা তার পকেটে ছিল,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

‘মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা, তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরী হচ্ছে।
তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ী ফিরবো।
লক্ষ্মী মা রাগ ক’রো না,
মাত্রতো আর কটা দিন।’
‘পাগল ছেলে’ ,
মা পড়ে আর হাসে,
‘তোর ওপরে রাগ করতে পারি!’
নারকেলের চিঁড়ে কোটে,
উড়কি ধানের মুড়কি ভাজে
এটা সেটা আরো কত কি!
তার খোকা যে বাড়ী ফিরবে!
ক্লান্ত খোকা!
কুমড়ো ফুল
শুকিয়ে গেছে,
ঝ’রে প’ড়েছে ডাঁটা;
পুঁইলতাটা নেতানো,—
‘খোকা এলি?’
ঝাপসা চোখে মা তাকায়
উঠোনে, উঠোনে
যেখানে খোকার শব
শকুনিরা ব্যবচ্ছেদ করে।
এখন,
মা’র চোখে চৈত্রের রোদ
পুড়িয়ে দেয় শকুনিদের।
তারপর,
দাওয়ায় ব’সে
মা আবার ধান ভানে,
বিন্নি ধানের খই ভাজে,
খোকা তার
কখন আসে! কখন আসে!
এখন,
মা’র চোখে শিশির ভোর,
স্নেহের রোদে
ভিটে ভরেছে।

বাতাসে লাশের গন্ধ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা– একি তবে নষ্টজন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।

বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দোলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ–
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুণ্ডুহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বীভৎস শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারি না, আমি
ঘুমুতে পারি না…
রক্তের কাফনে মোড়া– কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার– স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন–
স্বাধীনতা– আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ি ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

আ-মরি বাংলা ভাষা

জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাব আর গাম্ভীর্য নিয়া
নানা টেবিলের ওপরে আর নিচে কায়দামতো সাজিয়ে গুছিয়ে
দিবসটি পালন করল।
এরপর ভুলে গেল।

আজ হল ২১শে ফেব্রুয়ারী
এই দিনে অনেক রক্তের বিনিময়ে
পেয়েছি মোদের বাংলা ভাষা।
পারব কি মোরা সেই শহীদদের প্রতি
দেখাতে সম্মান।
যদিও না পারি অদের মত রক্ত দিতে,
তবুও যেন তাদের মর্যাদা রাখতে পারি,
শহীদদের স্মরণে

এরপর ভাষার ভেতর দিয়া গড়ায়া গড়ায়া ভাষার ভেতর
মিলায়া গেল শহিদের খুলি। চূর্ণ হয়া ছড়িয়ে পড়ল তারা
যেন বিস্ফোরণ
আর কঁকিয়ে উঠল, আ-মরি বাংলা ভাষা!

—————————————————————————-

ভাষার ভেতর দিয়া গড়ায়া গড়ায়া বার হয়া আসে শহিদের খুলি
এই দৃশ্য দেখিয়া কতিপয় অক্ষর তড়াসে কাঁপিয়া উঠিল
কিছু শব্দ নত হয়া গেল, আর কিছু বাক্য দাঁড়ায়া গেল সুশৃঙ্খল গার্ড অব অনারে
চারুকলার ছাত্রীরা শহিদদের নিয়া গান গায়া উঠল
ভাষা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শহিদ মিনারে গেলেন
তারে ঘিরিয়া ঘিরিয়া ঘুরিল নিরাপত্তা চোখ

২১শে ফেব্রুয়ারী

দীর্ঘ সংগ্রামে অর্জিত তুমি ২১ শে ফেব্রুয়ারী
মিলেছে মায়ের ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা।
প্রত্যাশা প্রানে তাই খালি পায়ে হেঁটে চলা
ঘুম নেই এই দিনে শ্রদ্ধা জানানোর আকুলতা।
বিশ্বে প্রথম একটাই জাতি তুমি বীর বাঙ্গালী
করেছ সংগ্রাম, বিলিয়েছ জীবন ভাষার তরে।
করিগো স্মরণ তোমার সোনার ছেলেদের
রফিক, সালাম ও বরকতসহ আরো অনেকেরে।
কোটি বাঙ্গালী সমবেত হয় শহীদ মিনারে
দাঁড়িয়ে ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে তোমায়।
রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারী ভুলি যে কি করে
মুখে মুখে ধ্বনিত হয় সেই সুর অবলিলায়।
যারা ছিনিয়ে এনেছে বুকের তাজা রক্তে
তোমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার কথা।
যে ভাষায় প্রশান্তি মেলে কোটি কোটি হৃদয়ে
ছড়িয়ে দিয়ে গহিনের ফুলঝরা কথা।

২১ এর রক্তরেখা

রক্ত গোলাপ রক্তে রাঙা
রক্তের মতো মুখ ,
এই গোলাপটি কাহার তরে –
ফুটে পায় সুখ ?
সেই গোলাপটি আনবে বলে
কতো ভাই সেই যে গেলো চলে ,
আর ঘরে ফেরেনি –
গেলো শুধু স্মৃতিটুকু ফেলে ।
আজতো আমার গোলাপ
গাছে গোলাপ ফুটে ,
রক্ত গোলাপ , কালো গোলাপ ,
সাদা গোলাপ ।
আজ তোমাদের কথা ভেবে ভেবে
কেটে যায় দিন ,
তবু জানি কারো কাছে
নেইকো আমার ঋণ ।
আজ তোমাদের কথা স্মরণ করে
চোখে আসে কান্না ,
দু‘ নয়নে যায় যে বয়ে
অঝর অশ্রুর বন্যা ।
এই ভুবন ছেড়ে যদি
কভু চলে যাই ,
২১‘ তুমি দিয়ো সাড়া
এইটুকুই চাই ।
২১‘ এর রক্তরেখা
বুকে এঁকে করিছিনু পণ ,
তোমায় কভু ভুলিবনা
আসুক দুঃখক্ষণ ।
সালাম , বরকত , রফিক, জব্বর
আরো কতো ভাইয়ের রক্তে ভেজা ,
২১‘ শে ফেব্রুয়ারী ।
আজ আমরা তোমাদের স্মরন করে
শ্রদ্ধা জানাইতে উদ্যতও সারি সারি ।

সংগৃহীত কবিতা

একুশ মানে চেতনা আমার,
মায়ের ভাষায় কথা বলার;
একটা স্বাধীন দেশের জন্য,
সবাই মিলে যুদ্ধ করার।
একুশ মানে লুকানো বীজ,
একাত্তরে ফলবে ফসল;
রাজপথের ঐ রক্তের দাগ,
একদিন তা হবেই সফল।
একুশ মানে ফিরে পাওয়া,
আমার সকল অধিকার;
বুক ফুলিয়ে বলতে পারি,
বাংলা আমার স্বাধিকার।
একুশ মানে প্রভাত ফেরী,
শীতের শাল জড়িয়ে গায়ে;
সবার হাতে ফুলের তোড়া,
হাঁটছি সবাই খালি পায়ে।
একুশ মানে শহীদ মিনার,
আলপনা আর তাজা ফুলে;
পুষ্পস্তবক রাখছে সবাই,
রাজনীতি আর বিভেদ ভুলে।
একুশ মানে বাংলা মায়ের,
প্রাণ জুড়ানো মুখের ভাষা;
স্বপ্ন সাধের সেই ভাষাতে,
মেটাই মনের সকল আশা।
একুশ মানে বই মেলাতে,
উপচে পড়া ভীরের মাঝে;
জম্পেশ এক আড্ডা হলে,
মন বসেনা কোন কাজে।
একুশ মানে নতুন বই,
নতুন মোড়ক উন্মোচন;
কোন বইটা কিনবো প্রথম,
কিছুতে ভেবে পায়না মন।
একুশ মানে পুরোনো স্মৃতি,
হাতড়ে বেড়াই নিজের মনে;
প্রভাত ফেরী শহীদ মিনার,
সব ছেড়ে তুমি নির্বাসনে।

সংগৃহীত কবিতা

নীল আকাশের গোধূলির বুকে
উকিঁ মারে তাজা শোকের প্রতিশ্রুতি।
চোখের জলে ব্যথার কাপঁনে
ফিরে এলো সেই বেদনার দিন।
একুশে ফেব্রুয়ারি স্মৃতির পরশে,
কৃষ্ণচুড়ার ডাল ভেংগে যায়।
পলাশের লালে কারবালার স্মৃতি,
জাগে ক্রন্দন,আমার বুকে সীমাহীন বেদনার।
সবে মিলে করি শোক গীতি
শুভ্র গোলাপ সজ্জিত হলো,
ফেরদৌস গুলবাগ।
আজ এসেছে একুশ ফেব্রুয়ারি মোদের,
রেখে গেছে তারা আগামীর তরে।
আজ হতে শত বছর ধরে শহীদ মিনারে পুস্পের মালা দিব সবে,
এই দিনে কামনা মোদের
আলোকিত হোক আত্মা তোমাদের।।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?