ইউটিউবে সফল হওয়ার উপায়

ইউটিউবে সফল হওয়ার উপায়

এখন অনেকেই একজনের দেখাদেখি আরেকজন ইউটিউবে আসতে চায়। কিন্তু সঠিক নিয়ম কানুন না জানার ফলে সহজেই ইউটিউবে সফল হওয়া যায় না। আজকের টপিকে ইউটিউবে কিভাবে সফল হওয়া যাবে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

অনেকেই মনে করে শুধুমাত্র ভিডিও করতে পারলেই এবং তা ইউটিউবে দিতে পারলেই আস্তে আস্তে করে ইউটিউবে সফল হওয়া যায়। আসলে এই ব্যাপারটি নিয়ে জনমত বিবেদ রয়েছে। কারণ আপনার ভিডিও কখন ট্রেন্ডিং হয়ে যাবে বা সকলের মাঝে পৌঁছাবে তা আসলে বলা যায়না কারণ এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে নাই।

কিন্তু এমন কিছু নিয়ম রয়েছে যা ফলো করলে আপনি অতি শীঘ্রই ইউটিউবে সফল হতে পারবেন।

ইউটিউবে সফল হওয়ার উপায়

ভালো ভিডিও দেওয়া

প্রথমেই আপনাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে আপনাকে ভালো ভালো ভিডিও দিতে হবে। আপনাকে এমন ভিডিও দিতে হবে যা অন্যের উপকারে আসে। মানে আপনার ভিডিও দেখে সে কোন না কোন ভাবে উপকৃত হবে। 

কারণ অযথা শুধু শুধু সময় নষ্ট করে কেন সে আপনার ভিডিও দেখবে। আপনি মন থেকে এই প্রশ্ন করবেন মানে আপনি নিজেই অন্যের ভিডিও গুলো কেন দেখেন। নিশ্চয়ই আপনি সেখানে কিছু না কিছু খুঁজে পান যা আপনার ভালো লাগে। 

ঠিক তেমনি আপনাকে এমন ভিডিও গুলো দিতে হবে যা অন্যের কোন কোন উপকারে আসে বা তার ভালো লাগে এমন কিছু।

স্পাম করা যাবে না

2022 সালে এসে আপনি কখনোই স্পাম করার কথা ভাববেন না। আগে এই ধরনের বিষয়গুলো প্রচলিত আছে কিন্তু বর্তমানে গুগোল এবং ইউটিউব খুবই শক্তিশালী। আপনি যদি কোনরকম স্পাম করার চেষ্টা করেন তাহলে জেনে রাখুন যে আপনি কখনো ইউটিউবে সফল হতে পারবেন না। 

হয়ত প্রাথমিকভাবে আপনি কিছু সফল হবেন কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সময়ের জন্য আপনার সফলতা নিশ্চিত না। হঠাৎ করে দেখবেন কোন একটি সময়ে আপনার ইউটিউব চ্যানেল ব্যান হয়ে গেছে।

কপিরাইট ভিডিও ব্যবহার করা যাবে না 

কপিরাইট মানে হলো আপনি অন্যের ভিডিও আপনার নিজের ভিডিওতে ব্যবহার করলেন। কখনোই অন্যের ভিডিও ছোঁয়া যাবে না। আপনি অন্যের ভিডিও দেখে আপনার নিজের মতো করে ভিডিও বানাবেন। কিন্তু তারপরেও কখনোই কপিরাইট ভিডিও ব্যবহার করা যাবে। যদি করেন তাহলে তো ধরা অবশ্যই খাবেন। 

বর্তমানে আপনি যখন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করবেন তখনই জানতে পারবেন যে আপনার ভিডিওটির কোন সমস্যা আছে কিনা। এই বিষয়টি খুবই ভালো করেছে ইউটিউব। আপনি যখন ভিডিও আপলোড করা শুরু করবেন আপলোড হয়ে গেলে প্রসেসিং এর মাধ্যমে তা চেক করা হয়।

যদি আপনার ভিডিওতে কোন সমস্যা থাকে তাহলে তারা সেখানে আপনাকে বলে দিবে যে কি ধরনের সমস্যা রয়েছে আপনার ভিডিওতে। তখনই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার এই ভিডিওটি আপলোড করা ঠিক হবে কিনা। 

প্রতিদিন ভিডিও দেওয়া

ইউটিউবে আপনি শুধু ভিডিও দিতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে নিয়ম মানতে হবে। নিয়ম মেনে আপনাকে প্রতিদিন ভিডিও দিতে হবে। 

যদি আপনি কখনো এমন করেন যে আজকে এক দিনেই দশটায় ভিডিও আপলোড দিয়ে দিলেন কিন্তু তারপরের একমাস কোন খবর নাই। তাহলে কিন্তু হবে না। আপনাকে নিয়ম মেনে রেগুলার প্রতিদিন ভিডিও দিয়ে যেতে হবে। একটি পর্যায়ে আপনি যদি ভিডিও দেওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে ইউটিউব এর অ্যালগরিদম আপনার চ্যানেলটিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকবে। 

তাই চেষ্টা করবেন প্রতিদিন ভিডিও দেওয়ার।

একই ভিডিও বারবার দিবেন না

একই ভিডিও বারবার না দেওয়ার অর্থ এই যে আপনি ধরুন আজকে টেকনোলজি বা নলেজ বেসিক কোন একটি ভিডিও দিলে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার একই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে আরেকটি ভিডিও দিলেন।

এই ধরনের ভিডিও গুলো ইউটিউব সহজে রেংকিং দেয় না। যদিও বা কখনো রেংকিং হয় তারপরেও রেংকিং হারাতে বেশি সময় লাগবে না। 

কারণ ইউটিউব কেন আপনার একই ধরনের টপিকের উপর বানানো ভিডিও অনেক গুলো একসাথে রেংকিং করাবে। নিশ্চয়ই বুঝতে পারতেছেন।

খারাপ ভিডিও দেওয়া যাবে না

কখনোই খারাপ ভিডিও গুলো ইউটিউবে দেওয়া যাবে না। ইউটিউব বর্তমানে এই বিষয়টির উপর খুবই নজর দিচ্ছেন যে অ্যাডাল্ট ভিডিও গুলো ইউটিউব থেকে সরিয়ে দিবে। 

অশ্লীল কনটেন্ট দেওয়া যাবে না

আপনার ভিডিওতে যেন কখনো কাউকে কটুক্তি করে কোন কিছু না থাকে। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা কাউকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলা ইত্যাদি বিষয়গুলো যেন আপনার ভিডিওতে না থাকে। এ বিষয়টি সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। কারণ প্রথমদিকে না হলেও পরবর্তীতে আপনার ভিডিও গুলো আস্তে আস্তে করে রেঙ্ক হারাবে। 

তাই এসকল ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুগুলো সম্পর্কে সব সময় নজর রাখতে হবে। যদিও এসব এর বিষয়বস্তু গুলো খুব বেশি প্রাথমিকভাবে ভাইরাল হয় কিন্তু এ ধরনের অশ্লীল কনটেন্ট না বানানো উচিত।

ভিডিওতে ট্যাগ দেওয়া

আপনি যখন ইউটিউবে আপনার ভিডিও আপলোড করতে যাবেন তখন নিচে দেখতে পারবেন ট্যাগ দেওয়ার অপশন। আপনার ভিডিও সম্পর্কিত সকল ট্যাগগুলো আপনি ট্যাগ অপশনটিতে বসিয়ে দিবেন। 

ভালো এবং সঠিক টাইটেল ব্যবহার করা

টাইটেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার ভিডিওটি যে বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি এই বিষয়বস্তু সম্পর্কিত টাইটেলই আপনি ব্যবহার করবেন। 

অনেকে দেখা যায় ভিডিও বানায় এক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আর টাইটেল দেয় অন্য বিষয়ের উপর। কখনো এই এই ধরনের কাজ করা যাবে না। ব্যবহারকারীরা যাতে কখনোই বিরক্ত না হয় এ বিষয়টি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। 

আমার কথাই বলেই অনেক সময় অনেক মুভি খুঁজতে গিয়ে আমি দেখতে পারতাম যে মুভি সম্পর্কিত টাইটেল এবং থামনেল দেওয়া রয়েছে কিন্তু যখন আমি ভিডিওটির ভিতরে প্রবেশ করতাম তখন ওই মুভিটির বদলে অন্য একটি মুভি পেতাম। এবং অত্যন্ত বিরক্ত সহকারে মুভি খুঁজা বন্ধ করে দিতাম।

 সঠিক নিস বাছাই করা

আপনাকে প্রাথমিক অবস্থায় যেকোনো একটি নিস নিয়ে ভিডিও দিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি একই সাথে একাধিক নিস সম্পর্কিত ভিডিও গুলো দিতে থাকেন তাহলে আপনার চ্যানেলের রেংকিং খুব আস্তে এবং ধীরগতিতে হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় প্রথমেই আপনাকে একটি নিস সিলেক্ট করতে হবে এবং ওই নিস এর উপর ভিত্তি করে ভিডিওগুলো প্রতিদিন দিয়ে যেতে হবে। কখনোই একাধিক টপিকের উপর ভিডিও না দেওয়াই উত্তম। 

ট্রেন্ডিং ভিডিও দেওয়া

যদি আপনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কিত ট্রেন্ডিং ভিডিও গুলো দিতে পারেন তাহলে আপনার চ্যানেল খুব দ্রুত গ্রো হবে। 

ভিডিও এসইও করতে হবে 

আপনার দেওয়া ভিডিওগুলো র্যাঙ্কিংয়ের নিয়ে আসতে আপনাকে প্রতিদিন এসইও করতে হবে। এত দিনের পর দিন আপনার ভিডিও গুলো আস্তে আস্তে করে রেংকিং করতে থাকবে।

ভিডিও শেয়ার করতে হবে

ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করার পর আপনার ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে দিবেন। 

ইউটিউব চ্যানেলে প্লেলিস্ট ব্যবহার করা

আপনার ভিডিওগুলো প্লে লিস্ট আকারে সাজিয়ে রাখবেন। এতে যারা আপনার চ্যানেলে ঢুকে ভিডিও খুজবে তারা যেন খুব সহজে তার কাঙ্খিত ভিডিওটি পেয়ে যায় এই লিস্টের মাধ্যমে। 

আশাকরি উপরে কতগুলো নিয়ম ফলো করে আপনি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করে দিবেন। এই নিয়ম গুলো ফলো করলে ইউটিউব চ্যানেলে আপনি আস্তে আস্তে করে ভালো করতে থাকবেন। কোন কিছুই রাতারাতি হবে না। তবে অবশ্যই youtube-এর যে নীতিমালা রয়েছে তা একবার পরে নিবেন।

বিডিপপুলারে আপনাকে স্বাগতম!

আপনার লেখা বিডিপপুলারে পাবলিশ করবেন কিভাবে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *